শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৩

ফরাসি ভূখন্ডে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই উচ্চশিক্ষা, রাজনৈতিক আশ্রয়, বিভিন্ন বৃত্তিসহ নানা ভাবে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর মানুষের শিল্প সংস্কৃতির তীর্থভূমি ফ্রান্সে আগমন ঘটে। শুরুতে এ সংখ্যা নেহায়েত হাতে গোনা হলেও বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজারের কোঠায়। ফরাসি ভূখন্ডে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশ ও বাঙালি নামটা এখন বিশেষ গুরত্ব বহন করে। এ দেশে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাসরত মানুষের মধ্যে বাঙালি জনগোষ্ঠী তাদের জীবনযাপন, পেশা, সরকারের আইনের প্রতি আনুগত্য, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি, অন্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি সন্মান প্রদর্শন ইত্যাদি কারণে স্বতন্ত্র এক ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেছে।
এখানে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাজধানী প্যারিসে বসবাস করে। এছাড়া তুলুজ, তুলোন, রেস্ট, মারছাইসহ ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও বেশ কিছু সংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে।
স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালিদের অধিকাংশই রাজনৈতিক আশ্রয়ের মাধ্যমে স্থায়ী হয়েছেন। এখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক, বাংলাদেশি রিফিউজি, ইমিগ্রান্ট, রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনপ্রার্থী পরিচয়সহ অনেকেই অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অবস্থান করছেন।
পেশাগত দিক থেকে জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা ও রেষ্টুরেন্ট সংশ্লিষ্ট পেশার সাথে জড়িত। এ ছাড়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ট্যাক্সিফোন ও আমদানি রপ্তানি ব্যবসা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অনেকেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এখানকার প্রশাসনিক কর্মকান্ডের সব কিছু ফরাসি ভাষায় পরিচালিত হয়ে থাকে। তাই অনেক বাঙালি ফরাসি ভাষা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আয়ত্ব করে অনুবাদকের পেশার মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের সেবার পাশাপাশি নিজেদেরকে স্বনির্ভর করেছেন। তারা এই পেশাকে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। পাশাপাশি আইন ব্যবসা, প্রশাসনিক কর্মী ও কর্মকর্তা এবং শিল্প সংস্কৃতির মতো সৃজনশীল পেশায়ও বাঙালিরা স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল।


এখানকার প্রত্যেক বাঙালি জন্মভূমি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাস করলেও সবার বুকের এক কোণে বসবাস করে ছোট্ট একখন্ড বাংলাদেশ। স্ব স্ব পেশার পাশাপাশি শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজস্ব শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতি চর্চা ইত্যাদিতেও রয়েছে তাদের সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশের মতো এখানেও বাঙালির চিরাচরিত অনুষ্ঠান—শহীদ দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজা এবং অন্যান্য উৎসবগুলোর আনন্দ প্রবাসীরা মিলেমিশে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। সাহিত্য সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনায় উদযাপন করে থাকে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিবসগুলো। এছাড়া রবীন্দ্র-নজরুল ও অন্যান্য কবি সাহিত্যিকদের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিউনিটি সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন যেন এক দেশীয় আমেজের সৃষ্টি করে। এখানে যে সব সংগঠন উল্লেখিত উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে তাদের মধ্যে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, ইয়ুথ ক্লাব, একুশে উদযাপন পরিষদ, স্বরলিপি শিল্পী গোষ্ঠী, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মাটির সুর, বাংলাদেশ ভিউ, কালচার প্লাস অন্যতম। উল্লেখ্য বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র লাল টিপ ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী এনায়েত উল্লাহর প্রযোজনা ও প্রবাসী স্বপন আহমদের পরিচলনায় প্যারিসেই নির্মিত হয়েছে। এছাড়া অনেকেই টিভি নাটক নির্মাণের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।বাংলাদেশের অনেক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বসবাস এই ফ্রান্সে। তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুকাভিনেতা পার্থ প্রতীম মজুদার, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সনামধন্য আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন অন্যতম।

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি অনেকেরই সাহিত্যচর্চার অভ্যাস রয়েছে। সাহিত্যপিপাসু প্রবাসীদের উদ্যেগে মাঝে মাঝেই প্যারিস থেকে প্রকাশিত হয় গল্প, কবিতা ও ছড়া সংকলন। উল্লেখ্য বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি মাইকেল মধুসুধন দত্ত ও লাল সালুখ্যাত ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লা ফ্রান্সের প্রবাস জীবনেই লিখেছেন অনবদ্য গল্প, কবিতা ও উপন্যাস।


অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতায় এসেছে এক নতুন দিগন্ত। প্রবাসীদের সুখ দুঃখ, আনন্দ বেদনা, সফলতা, অর্জন ইত্যাদি সম্বলিত সংবাদ এখন বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ফ্রান্সপ্রবাসী বাঙালিদের নানাবিধ সংবাদ তুলে ধরার জন্য নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণকেই দেখা যায় ফ্রিল্যান্স হিসেবে ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশনকারীদের উদ্যেগে প্যারিসে একটি প্রেসক্লাব গঠনের চেষ্টা চলছে। অনেকেই প্যারিস থেকে নিয়মিতভাবে বাংলা পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা বের করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।


দেশের যে কোনো রাজনৈতিক সংকট ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো এখানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এখানে শাখা রয়েছে। প্রত্যেকেই যার যার দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে থাকে। আবার অনেকেই স্বপ্ন দেখেন দেশের প্রচলিত রাজনীতির ধারা ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে একটি বাংলাদেশ গড়ার। এর পরিপেক্ষিতে এখানকার প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রবাসীদের দেখা যায় দেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড, দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ব্যানার ফেস্টুন হাতে প্রতিবাদ জানাতে।


প্রবাসী বাংলাদেশিরা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও যথেষ্ট রাজনৈতিক ও সমাজ সচেতন। দেশের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় নির্বিকার বসে না থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া এখানে অনেক সাদা মনের প্রবাসী রয়েছেন। যারা প্রতিনিয়ত নিঃস্বার্থভাবে কমিউনিটির বিপদগ্রস্থ ও সমস্যাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।


আড্ডা দিয়ে ও খোশ গল্প করে সময় কাটানোয় বাঙালিদের বিশেষ জুড়ি রয়েছে, এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। প্যারিসের গারদো নর্থ, লাশাপেল, ক্যাথসীমা প্রভৃতি এলাকার রেষ্টুরেন্ট, ক্যাফে বার ও রাস্তার পাশগুলো প্রতিদিন জেগে ওঠে বাঙালিদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক আলোচনা ও হাসিঠাট্টায়। যা ক্ষণিকের জন্য ভুলিয়ে দেয় প্রবাস জীবনের দূরত্বের কষ্ট।


ফ্রান্সপ্রবাসী বাঙালিদের এখানে হাজারো সাফল্যগাথা, কর্মকান্ড ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু প্রতিকূলতা। প্রথমত প্রত্যেক বাঙালিকে এখানে এসে যুদ্ধ করতে হয় পৃথিবীর অন্যতম দুর্বোধ্য ফরাসি ভাষার সঙ্গে। অদক্ষ ভাষাজ্ঞানের কারণে প্রশাসনিক ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত হোঁচট খেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজ হারিয়ে বেকারও হতে হয়। তাই নতুন করে যাঁরা ফ্রান্সে বসবাসের কথা ভাবছেন, তাঁদের উচিৎ এখন থেকেই ফরাসি ভাষা জ্ঞান অর্জনের ওপর বিশেষ গুরত্ব দেওয়া।
অনেক বাংলাদেশিকেই ফ্রান্সে আসার পর প্রথম প্রথম তীক্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন ও মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় শুধু আইনগতভাবে চলার সঠিক দিক নির্দেশনা ও বৈধভাবে বসবাসের স্বচ্ছ্ব ধারণার অভাবে। অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার নজিরও রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের যৌথ প্রচেষ্টায় একটি বিশেষ সেবা বিভাগ খোলার বিষয়টি ভেবে দেখার সময় এসেছে।


পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ফ্রান্সেও বেড়ে উঠছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম। যাদের জন্ম এই ফ্রান্সের মাটিতেই এবং এদের শিক্ষা সংস্কৃতি ফরাসি পরিমন্ডলের মধ্যে। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ফ্রান্স সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মে নিয়োগ হচ্ছেন। যা বাঙালি কমিউনিটির প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ। তাছাড়া অনেক বাংলাদেশি নাগরিক এখানকার ফরাসি ও অন্য দেশের নাগরিককে বিয়ে করে সংসার করছে এবং তাদের ঘরে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠছে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রজন্ম। দুঃখের বিষয়, এখানে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের অধিকাংশই শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে, লিখতে, পড়তে এবং বলতে পারে না। এর কারণ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অন্যান্য দেশে বাংলা শিক্ষার বিভিন্ন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো ফ্র্রান্সের মাটিতে গড়ে ওঠেনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বাংলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ভাবে চলতে থাকলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এই নব প্রজন্মের অস্তিত্ব থেকে মুছে যাবে তার বাঙালিত্ব এবং হারিয়ে ফেলবে তার শেকড়ের সন্ধান। তাই বিলম্ব না করে এখনি বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত উদ্যেগে কিছু বাংলা শিক্ষা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। যাতে এই স্কুল থেকে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি, বাংলা কবিতা, গান ও শিল্প সাহিত্যচর্চার সুযোগ পায় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারে।


অদূর ভবিষ্যতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা রেমিটেন্সের মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আরো বেশি বেশি অবদান রাখবে। ফরাসি ভূখন্ডে গড়ে তুলবে তথ্য প্রযুক্তি, মেধা ও জ্ঞান নির্ভর সমাজ। ফরাসি জনগোষ্ঠীর নিকট জায়গা করে নেবে সুনাম ও আস্থার বিশেষ একটি স্থান। এটাই প্রত্যাশা।
মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ
প্যারিস, ফ্রান্স
ফরাসি ভূখন্ডে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী, প্রকাশ : প্রথম আলো

ফরাসি দেশে বাঙ্গালিরা, প্রকাশ : ই প্রথম আলো

ফ্রান্সে বাংলাদেশিরা কেমন আছেন? প্রকাশ : বেঙ্গললি টাইমস, কানাডা

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩

বর্ষনমুখর দিনে জরদা দো এক্লিমেসিও পরিদর্শন



দুদিন ধরে মনে হচ্ছে প্যারিসের প্রকৃতিতে যেন বাংলাদেশের মতো আষাঢ়-শ্রাবণের ছোঁয়া লেগেছে। কখনো ঘনবর্ষণ আরার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ার দৃশ্য দেহ-মনে এক অন্য রকম আচ্ছাদন এনে দিচ্ছে। যখন বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে ঘুম ভাঙল, তখন মনে হচ্ছিল আমি বাংলার কোনো অজপাড়াগাঁয়ের শণবন ও বাঁশের তৈরি কোনো কুঁড়েঘরে শুয়ে আছি বর্ষণমুখর এক প্রভাতবেলায়।বৃষ্টির কারণে ঠান্ডার প্রকোপটাও বেড়ে গিয়েছে। তাই অলস দেহটা বারবার গৃহমুখী হতে চাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আজ গৃহবন্দী হয়ে স্মৃতিচারণা করব, প্যারিসের প্রকৃতি থেকে একচিলতে বাংলার বর্ষার স্বাদ নেব। প্যারিসে বৃষ্টি হলে এখানের রাস্তাঘাট অনেকটাই জনমানবশূন্য হয়ে যায়। ক্যাফে বারগুলোর আড্ডা তেমন জমে ওঠে না। বৃষ্টির প্রকৃতিতে অধিকাংশ ফরাসির মন বিষণ্নতায় ছেয়ে ফেলে। ফরাসি সাহিত্যেও বৃষ্টির প্রকৃতিকে তেমন ফুটিয়ে তোলা হয়নি। কারণ, এই বৃষ্টি ফরাসি জনগোষ্ঠীর কাছে অপন্দের বিষয়গুলোর মধ্যে একটি।অপর দিকে বাংলার প্রকৃতিতে বৃষ্টি এক অপরূপ নান্দনিকতার নাম। তাই তো রবীন্দ্র, নজরুল এবং অন্যান্য কবির কাব্য-গানে বর্ষা ও বৃষ্টির প্রকৃতিকে নানা রং ও ঢঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর এই অপরূপ নৈসর্গিক প্রকৃতির মধ্য দিয়ে আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অমিয় সুধা পান করা। তাই তো এই সুদূর প্রবাসে বসেও বৃষ্টি দেখলে আমি ফিরে যাই সেই ছেলেবেলার বর্ষার নদীর পাড় ধরে দৌড়ে একঝাঁক বালকের ন্যাংটা হয়ে ঝাঁপ দিয়ে ডুবসাঁতার খেলার দলে, বৃষ্টিভেজা ফুটবল খেলার মাঠে, হারিয়ে যাই পড়ার টেবিলের সামনে জানালা খুলে ফুল বাগানের ফোটা ফুলগুলোর বাতাস বৃষ্টি সংমিশ্রিত দোল খাওয়ার রোমাঞ্চিত দৃশ্যে। এ যেন না পাওয়ার মাঝে হাতড়ে কিছু খুঁজে পাওয়ার সান্ত্বনা।২৫ আগস্ট রোববার। ছুটির দিন। বিছানায় শুয়ে স্মৃতি রোমন্থন করছিলাম। কিন্তু সে স্বাদ আজ আর বেশি নেওয়া হলো না। প্যারিসের কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের বন্ধু মিলে সেদিন আয়োজন করেছিল এক ব্যতিক্রমী ভ্রমণ কর্মসূচি। পরিদর্শন স্থান ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন কর্তৃক নির্মিত জরদা দো এক্লিমেসিও উদ্যান। তাই পরিদর্শক দলের একজন হিসেবে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এবং সব স্মৃতিরোমন্থিত সুখানুভূতির পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম জরদা দো এক্লিমেসিও পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে। ১৮৬০ সালের ৬ অক্টোবর ভ্রমণার্থীদের জন্য এই উদ্যানটি খুলে দেওয়া হয় এবং এটিই প্যারিসের সবচেয়ে পুরোনো উদ্যান। প্রায় দুই মিলিয়ন ভ্রমণার্থী পরিদর্শিত উদ্যানটিতে প্রবেশের পর চোখে পড়ল ময়ূরের অবাধ বিচরণ। হরিণের দ্বিধাহীন মুক্ত চলাচল। পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত বিশেষায়িত গৃহপালিত পশুর খামার; উট, গরু, ছাগল, গাধা ইত্যাদি আমাদের পরিদর্শক দলের সবাইকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। সেই সঙ্গে বয়ে চলা  লেকের স্বচ্ছ জলে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন এক বাড়তি মুগ্ধতা এনে দেয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির বর্ষণ নিঃশেষ হয়ে গেল এবং আমরা অবস্থান নিলাম উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত একটি ক্যাফে বারে। সবাই এই ভ্রমণের উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করল নিজস্ব অনুভূতি থেকে। সিদ্ধান্ত হলো, এই সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক বন্ধুরা কর্মক্লান্ত দেহ-মনকে উজ্জীবিত করার জন্য প্রতি মাসে একদিন এভাবেই বেছে নেবে ঐতিহাসিক কিংবা বিশেষ কোনো স্থান এবং ভ্রমণের বর্ণনা ও ছবি প্রকাশ করা হবে বিশেষ একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, এই আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্স উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান এবং সঞ্চালকের বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত একজন বাঙালি বধূ।

প্যারিসে বাংলার বর্ষার স্বাদ, প্রকাশ: দৈনিক প্রথম আলো ০৭.০৯.২০১৩
প্যারিসে বাংলার বর্ষার স্বাদ, প্রকাশ: দৈনিক ইপ্রথম আলো ০৭.০৯.২০১৩

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৩

নিস্তব্ধ রাতের ফরাসি জনপথ......

DSC_2481 by Muhammad Golam Morshed
DSC_2481, a photo by Muhammad Golam Morshed on Flickr.
বনের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা নিস্তব্ধ রাতের ফরাসী জনপথ.................ছবিটি Château de Vincennes থেকে তোলা।
morshed's photography

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

হে মহাবীর, তুমি ক্ষমা করে দিয়ো....

আজ শোকাবহ ১৫ই আগষ্ট। আমরা এমনই এক হতভাগা ও বিশ্বাস ঘাতক জাতি, পৃথিবীতে বিরল। যে মানুষটা আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিলো,উপহার দিলো এক খন্ড সার্বভৌম মানচিত্র, জাতীর সেই সূর্য্যসন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , আমরা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছি। লজ্জায় আজ মাথানত হয়ে যায় । হে মহাবীর , তোমার রেখে যাওয়া এই অকৃজ্ঞ জাতীকে তুমি ক্ষমা করে দিয়ো। ব্রিজ , কালভার্ট কিংবা কোন ভবনের নামফলকে নয় , বাঙ্গালী জাতির অস্তিত্ব যতদিন রবে এই পৃথিবীর বুকে , ঠিক ততদিন তুমিও রবে বাঙ্গালীর চিন্তা চেতনা ও মননে গভীর শ্রদ্ধাভরে। আজকের এই দিনে, হে মহাবীর তোমাকে স্বশ্রদ্ধ সালাম ….............

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৩

ভুল শুধরে আবার ফিরে আসবে আশরাফুল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোঃ আশরাফুল ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিজের আত্ন উপলব্ধি থেকে অবলীলায় স্বীকার করে বীরত্বের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। মানুষ কোন কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে রিপুর তারনায় অপরাধ করে ফেলে। এই অপরাধের ফলে যদি কারো মধ্যে আত্নসূচনা হয় এবং ভূল শুধরে সঠিক পথে চলে আসে, তবেই সে মহত্বের পরিচয় দিলো। আশরাফুল তার বয়স অনুপাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন। হয়তো তার অপরিপক্ক বুদ্ধির কারনে একটা ভূল করে ফেলেছে এবং সে অনুতপ্ত । এই একটি ভুলের জন্য তার সমস্ত অবদান ও ত্যাগ ম্লান হয়ে য়েতে পারেনা। আমাদের প্রত্যাশা আশরাফুল তার সমস্ত ভুল শুধরে নবরুপে আবার তার ভক্ত ও ক্রিকেট প্রেমিদের মাঝে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং তার পরিস্থিতি থেকে দলের অন্যান্য সদস্যরা শিক্ষা গ্রহন করে এ জাতিয় ক্রিকেট অপরাধ থেকে নিজেদেরকে সতর্ক দুরত্বে রাখবেন। আমাদের উচিৎ তার এই দুঃদিনে তাকে ভৎসনা না করে তার পাশে থেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। সেই সাথে কামনা করি, আশরাফুলের মত আমাদের সমস্ত চরিত্রহীন রাজনীতিবিদের তাদের সমস্ত অপর্মের জন্য আত্ন উপলব্ধি হউক এবং সংশোধিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করুক।http://www.amarblog.com/MorshedMehjabin/posts/168923

জন্মগত ভাবে ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় যথার্থ নয়, ধর্মীয় দর্শন চর্চা ও পালনের মধ্যেই ধার্মিকের পরিচয়।

প্রতিটি মানুষ যে গোত্র বা সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহন করে থাকে স্বাভাবিক দৃষ্টিকোন থেকে প্রত্যেকে নিজ নিজ গোত্রের পরিচয় বহন করে থাকে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব দর্শন রয়েছে এবং অনেকেই তার গোত্রীয় দর্শন চর্চা এবং পালন করে থাকে। আমার জানা মতে প্রতিটি ধর্মীয় দর্শনে বিভিন্ন ভাবে মানুষের শান্তির বানী শোনানো হয়েছে এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তারপরেও যদি কেও পাপ কর্মে লিপ্ত হয় তবে ঐ পাপের দায়ভার ঐ ধর্মীও দর্শনের নাকি একান্তই ঐ ব্যক্তির। ধরুন আসিফ মহিউদ্দিন,প্রণব আচার্যা,সুসান্তদাস গুপ্ত তসলিমা নাসরিন এরা এক একজন ধর্ম বিদ্বেষী লেখক কিন্তু এরা এক একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহন করেছেন এবং ঐ সব সম্প্রদায়ের নাম পরিচয় বহন করছে। এখন এই লোকগুলো দ্বারা যদি কোন অন্যায় কার্য সংগঠিত হয়, তাহলে তাদের কর্মের দায়ভার তার পৈতিক সম্প্রদায়ের উপর চাপানো মূর্খামী নয় কি?

সম্প্রতি একটি ১১ বছরের হিন্দু শিশুকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে ধর্ষনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠি ধর্মীয় সহিংসতার অপচেষ্টা করছে। যে পশু এই ঘৃন্য কাজটি করেছে সে কি আসলেই ইসলামী জ্ঞানসম্পর্ণ মানুষ এবং তার এই কর্ম কি ইসলাম চর্চার ফসল? অবশ্যই নয় ! তাহলে কেন আমরা এই অপরাধের সঙ্গে  ইসলাম শব্দটি যোগ করছি। এর ফলে আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে ফাটল ধরে জাতিগত হিংসার সৃষ্টি হচ্ছে। আসলে জন্মগত ভাবে কোন ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় যথার্থ নয়, ধর্মীয় দর্শন চর্চা ও পালনের মধ্যেই ধার্মিকের পরিচয়। আমাদের উচিৎ, কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে, কোন প্রকার বিভাজন না হয়ে  সম্মিলিত ভাবে অপরাধীর দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যাপারে শোচ্চার হওয়া।

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৩

লাশের দেশ বাংলাদেশ !

বাংলাদেশের ক্ষমতা হায়েনারা এখন তাদের সেরা সময় পার করছে। রক্ত, লাশ এবং নৃশংসতা তাদের ব্যবসার মূল উপকরণ। যা বর্তমান সময়ে খুবই সহজলভ্য এবং খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। রক্তমাখা গুলিবিদ্ধ লাশ, অগ্নিদগ্ধ কাবাব বানানো লাশ, কংক্রিটের দেয়ালে চাপা দেয়া গলিত পঁচা লাশ, বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন লাশ এত সহজেই ইতোপূর্বে একসাথে আমাদের রাজনৈতিক ঠিকাদাররা পায়নি। ঠিকাদারদের তৈরী নিজস্ব ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়া, ব্লগ,সদ্য গজানো দালালী মঞ্চ ও জোট সমূহ এবং ইন্টার্নেটের সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধ্যমগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা ক্ষমতার দৌড়ে নিজস্ব ঠিকাদারী দলকে (আওয়ামী, বি এন পি) এগিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশকে একটি লাশের দেশে পরিনত করার জন্য প্রাণপন ধোঁকাবাজি খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওরা বাংলার মানুষের সুখের ঘুম সহ্য করতে পারেনা বলেই এই মৃত্যু মৃত্যু খেলা শুরু করেছে..........তাই ধোঁকাবাজি থেকে সাবধান হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়.........জীবন কি এতই সস্তা !

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

কট্টরপন্থী মনোভাব এবং দেশের চলমান প্রেক্ষাপট।


দেশের চলমান অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়। সবাই যার যার স্বার্থের জন্য ধর্ম ও স্পর্শকাতর চেতনাকে ব্যাবহার করছে আর এই ফাঁকে দুর্নীতিপরায়ণদেরকে আড়াল হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। কেউ ভাবছেনা বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিনকাল কেমন কাটছে ,সামাজিক নিরাপত্তা আজ হুমকির দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, বিদেশী বিনিয়োগে আশংকা সৃষ্টি হচ্ছে, কষ্টার্জিত রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো বিনষ্ট করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। এর পেছন থেকে দেশদ্রোহীরা সবাইকে বোকা বানিয়ে হাস্যরস্য করছে।

 আমরা কি একবার এভাবে ভাবতে পারিনা, এই দেশ আমাদের , ষোল কোটি মানুষ আমরা এক পরিবারের সদস্য, আমাদের সমস্যাগুলো আমরাই মেটাবো দেশের প্রচলিত আইন ,প্রশাসন ও সংসদের মাধ্যমে। আমাদের প্রতিবাদ থাকবে, দাবী থাকবে, আন্দোলন সংগ্রাম সবই থাকবে কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা  হবে শিষ্টাচারপূর্ণ , কুরুচিপূর্ণ নয়। যদি শ্লোগানের ভাষা এই হয়, একটা করে …………….ধর, ধরে ধরে জবাই কর। এই ধরনের শ্লোগান সম্বলিত আন্দোলন আর যাই হোক কখনো মুক্তির আন্দোলন হতে পারেনা বরং রাষ্ট্র ধ্বংসের আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। আন্দোলনের নামে একটা গোষ্ঠী ফেসবুক, টুইটার,ব্লগ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে মিথ্যাচার চালাচ্ছে তা দেশের জন্য ভয়াবহ আশংকাজনক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ মিথ্যা তথ্য লিখে লেখার উপরে জনপ্রিয় গনমাধ্যমের লঘু সেঁটে দিয়ে প্রচার করছে,কখনো ফটোসপ ভিডিও এডিটিং করে প্রপাকান্ডা ছড়ানো হচ্ছে ,মেয়েদের ছবি দিয়ে ভুয়া আইডি খুলে সদস্য বাড়িয়ে মিথ্যা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যারাই এগুলো করছে তাদেরকে আমি কখনো সংগ্রামী বলবোনা , প্রতারক বলবো কারন ভীরু কাপুষরাই সব সময় মিথ্যা ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে থাকে এবং নিজেদের প্রয়োজনেই ধর্মীয় দর্শন ,সমাজতন্ত্র ,গনতন্ত্র মনিষীদের বানী ব্যাবহার করে থাকে, আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এগুলোর বিরোধীতা করে থাকে। কেউ যদি মনে করে আমিই সঠিক ও সত্য অবস্থানে আছি তাহলে আপনার সত্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করেন,মিথ্যা ও ভণ্ডামির আশ্রয় কেন ? আপনার যদি মনে হয় কেউ বিপদগামী হচ্ছে তাহলে তাকে আপনার সত্য দর্শন দিয়ে বুঝিয়ে আপনার পথে আনুন,না বুঝলে কাপুরুষের মত অবুঝের গলায় ছুড়ি চালানোর চেষ্টা কেন ?

আজ ন্যায়,যুক্তি সঙ্গত ও নিজস্ব চিন্তা উপলুব্ধ মতামত প্রকাশ করলে, সেটা যদি কারো বিন্দু পরিমান বিপক্ষে চলে যায় তাহলে কেউ রাজাকার,সাগু অথবা নাস্তিক বা মুর্তাদ হয়ে যাচ্ছে। যারা নিজেদেরকে প্রগতিশীল দাবী করেন তাদের আচরনে আজ প্রতিক্রিয়াশীলদের স্বভাব ফুটে উঠছে আর প্রতিক্রিয়াশীলরা আরো কট্টর রূপ ধারন করছে। এই সব কট্টরপনা ও উস্কানিমুলক বাক্য দেশের মধ্যে হানাহানি খুনাখুনি বৃদ্ধি ছাড়া আর কোন ভালো ফলাফল বয়ে আনবেনা। যে যে পক্ষেই থাকুননা কেন আপনাদের কট্টরতার হানাহানি থেকে যদি কারো প্রাণ নাশ হয় তাহলে হয়তো লাশের কফিন ছুঁয়ে আন্দোলনকে আরো বেগবান করার শপত নেবেন,দুই দিন জোরালো শ্লোগান দেবেন,শহীদের খেতাব দেবেন। কিন্তু পারবেন, সন্তানহারা পরিবার যে ক্ষতির সম্মুখীন হলো সেই ক্ষতি পূরণ করতে ?,আপনার রাষ্ট্র কি দায়িত্ব নেবে ঐ শহীদ পরিবারের।

দেশের মানুষের যখন গণমানুষের অধিকার,দুর্নীতি,বেকাত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি,সুশাসন ,সামাজিক নিরাপত্তা,সুষ্ঠ ও সঠিক বিচার ব্যবস্থা এবং ৭১ এর যুদ্ধাপরাধের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার কার্যকর ইত্যাদি বিষয়ে ফুসে ওঠার কথা তখন দেশদ্রোহী একটা মহল  নিজেদের অপকর্ম ও পাপকে ঢাকার জন্য অত্যন্ত নিখুত ও সুকৌশলে নাস্তিক ও আস্তিক নামক বায়বীয়  দুই শব্দ ডুকিয়ে দিয়ে  জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আপনারা যারা কট্টরতা অবলম্বন করে দেশকে নিয়ে ধ্বংস লীলায় মেতে উঠেছেন,আপনাদের অনেকেই হয়তো চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে টুপাইচ কামাই করে সংসার চালাচ্ছেন আবার অনেকেরই নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থবিত্ত রযেছে তাদের হয়তো কোন সমস্যা হবেনা, কিন্তু যে গার্মেন্টস শ্রমিকে মুনাফাখোর মালিকের বীমা কোম্পানির টাকা আদায়ের জন্য আগুনে পুরে আত্নহুতি দিতে হয় , সেই সব শ্রমিকের মালিকেরা আপনাদের কট্টর আন্দোলন সংগ্রামের দোহার দিয়ে বলবে শিপ্টম্যান্ট বাতিল হয়েছে,বায়ার অর্ডার বাতিল করেছে ইত্যাদি অজুহাতে শ্রমিকের বেতন বন্ধ করে দেবে, শ্রমিক বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে ডঃ ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংকের জামানত বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ অথবা রক্তচোষা আশা সমিতির ঋণের জালে জরিয়ে হাবুডুবু খাবে, তখন কি আপনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে এই অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে ? আমাদের চেতনা ভোতা হয়ে যায়, যখন দেখি তাজরিন গার্মেন্টসের শত শত শ্রমিককে পুরিয়ে হত্যা করা হয় যা ৭১ এর গণহত্যা তুল্য। চেতনা আবার জাগ্রত হয় যখন দেখি  দলীয় স্বার্থ বা নেতানেত্রীর স্বার্থে ঘা লাগে। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের চেতনাবোধ ও ধর্ম প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এদের কোন দল থাকেনা, এদেরকে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয় দরিদ্রতা নামক এক ভয়ংকর দানবের সাথে। আপনাদের কট্টর আন্দোলন যদি এই শ্রেনীর মানুষের পেটে টান মারে তাহলে যত নীতি বাক্যই ছুড়ুননা কেন সবই ভণ্ডামিতে পরিণত হবে।  

বাংলাদেশ আজ পূঁজিপতি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বার্থ রক্ষাকারী রাষ্ট্রযন্ত্রে পরিণত হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা আজ কল্পনাতীত ব্যাপার। দেশটাকে স্বজনপ্রীতি করে গুটিকয়েক গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় অধিকার ভাগ করে নিয়েছে। প্রতিটি মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে নিজের পরিবারকে রক্ষা করার আপ্রান চেষ্টা করছে। দেশের জাতীয় আয়ের বিশাল একটা অংশ জুড়ে থাকে বিদেশে কর্মরত বাঙলীদের দেশে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা এই অর্থ যেমন এক একটি পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দিচ্ছে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে। যারা নেপথ্যের চক্রান্তকারীদের  উস্কানীতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে মনের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন তারা যদি একবার দেখতেন প্রবাসিরা পরিবার পরিজনের মায়ামহ ত্যাগ করে কত কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে দেশের জন্য অবদান রেখে চলছে ,তাহলে হয়তো একটুর জন্য হলেও আপনাদের উগ্র চেতনাবোধে বসন্তের হাওয়া লাগতো।

দেশের চলমান বিশৃঙ্খলার কারণে আজ সরকার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর হাতে বিনা দোষে সন্দেহাতীত ভাবে অনের সাধারণ মানুষকে গ্রেপতারের স্বীকার হয়ে পুলিশী নির্যাতন ভোগ করতে হচ্ছে। এর ফলে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়েগিয়েছে ,কিভাবে কাটছে এই হতভাগা পরিবারগুলোর দিনকাল। একবারও এদের বিপদের কথা ভেবে এদের পাশে দাড়াচ্ছেন আপনারা ?

যেসব মস্তিস্ক বিকৃত ও বিদেশী মদতপুষ্ট লেখক মতপ্রকাশের নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে দেশের দীর্ঘ দিনের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরানো এবং সামাজিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে এবং যারা ধর্মীয় অনুভূতিকে পূঁজি করে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এদের বিরুদ্ধে সচেতন হয়ে সামাজিক ঐক্যবদ্ধ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে দাড়িয়েছে। 

কোন উগ্রতার মধ্যেই দেশপ্রেম থাকতে পারেনা, থাকে মানসিক তৃপ্তি এবং আর্থিক ও ব্যক্তিস্বার্থ। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ প্রেমিক তারাই, যারা দিনরাত পরিশ্রম করে একটি মজবুদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ভীত গড়ার স্বপ্নে নিরলশ কাজ করে চলছে এবং যারা দেশ ধংসকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিদিন কলম হাতে,শ্লোগানে প্রতিরোধ প্রতিবাদ অব্যহত রেখে চলছে।

পরিশেষে বলতে চাই, ধর্মীয় বা যে কোন চেতনা রক্ষার আন্দোলনই আমরা করিনা কেন, প্রতিটি আন্দোলনে কট্টরতা এবং উস্কানিমূলক শব্দ পরিহার করি, স্বাধীন সার্বভৌম দেশে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা কোন সভ্য জাতির কাম্য নয়, হিংসা নয় ভালোবাসার  দিয়ে জয় করি সমস্ত মিথ্যা এবং অন্যায়কে। উন্নত বিশ্ব যখন ক্ষুধা এবং দরিদ্রতাকে  জয়ের আন্দোলনে মগ্ন তখন আমরা কেন হিংসা বিদ্বেষে মত্ত হয়ে লক্ষ শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে প্রতিদিন কালিমা লেপে দিচ্ছি ?     






শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্রগতিশীল সাংবাদিক এবং ব্লগাররাই বিপ্লবের অন্যতম শক্তি।

দেশ যখন অপরাজনীতির করালগ্রাসে আক্রান্ত , সামাজিক নৈতিক অবক্ষয় যখন চূরান্ত শিখরে, নিঃপেষিত,সাধারণ মানুষ মুক্তির খোজে দিশেহারা, ধোকাবাজি রাজনীতির উপর আস্থাহীনতা, ঠিক তখনি জাতীকে মুক্তির পথ দেখাতে এক ঝাঁক নীতিবান ও গনমানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগার কলম হাতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যহত রেখে চলছে।

বাংলাদেশের বিবেকবান নাগরিকদের মধ্যে এখন একটা উপলব্ধি দারুন ভাবে নাড়া দিচ্ছে, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় একটা শুভ শক্তির আবির্ভাব। বাংলাদেশের তৃতীয় শক্তি হিসেবে যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান রাজনৈতিক দল দুটির অপকর্মের জন্য চাপ সৃষ্টি করতো,সমালোচনা করতো,রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সমস্যার ব্যাপারে ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদমূখর হয়ে রাজপথ ব্যস্ত রাখতো এদের অধিকাংশই আজ পক্ষপাতদুষ্ট রোগে আক্রান্ত। এরা এখন রাজনৈতিক কৌশল নামক এক ছলাকলা বুঝ দিয়ে আওয়ামীলীগ ও বি .এন.পির ক্ষমতার তাবেদারি রাজনীতির সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং সুবিধার ছিটেফোঁটা নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবি ও সুনাগরিক আজ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের রাজনীতি আজ এমনভাবে হাঙ্গর কুমির দ্বারা গ্রাসিত যে সুস্থ মানুষিকতা নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা অনেক কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে এখন দুটি জিনিস অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে : প্রথমত রাজনীতি থেকে অপরাজনীতির ভাইরাস আক্রান্ত রাজনীতিবিদদের ছেঁটে ফেলতে হবে। আর এই দায়িত্ব সাধারন মানুষের হাতে এবং এজন্য দরকার সাধারন মানষকে রাজনৈতিক ও অধিকার সচেতন করে তোলা। 

দ্বিতিয়ত রাজনীতির গুনগত মান উন্নয়ন করতে হবে। আর এজন্য দরকার রাজনীতিবিদদের গঠনমুলক আলোচনা সমালোচনার , উন্নত বিশ্বের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা এবং প্রয়োগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা। আর এই ব্যাপারগুলো আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে একেবারেই পরিলক্ষিত হচ্ছেনা , যা বোঝা যায় তাদের রাজনৈতিক পরিপন্থি বক্তব্য এবং মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা অদ্ভুদ ও বেকুব মার্কা মন্তব্য দেখে। আর নতুন করে যারা রাজনীতি যুক্ত হচ্ছে তাদেরকে গঠনমুলক রাজনৈতিক চর্চা ও গুনগত মানসম্পর্ণ নেতৃত্ব তৈরীর বিশেষ কোন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা মূল দলগুলোর মধ্যে নেই। নতুনদের ময়না পাখির মতো শেখানো হয় নিজের দলের নেতাদের গুনকীত্তন করা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের উপর হিংসাত্বক ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া। এর মধ্যেই তাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ। আর এভাবে চলতে থাকলে বাঙ্গালী এক সময় মাথা মোটা লাঠিয়াল জাতীতে পরিণত হওয়ার যতেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে।

মেধা ও প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা ছিলো তা বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একেবারেই পরিলক্ষিত হয়না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে একটি সুস্থ রাজনীতির ধারা এবং উন্নত মানুষীকতা সম্পর্ণ জাতি ও সমাজ গঠনের তাগিদ অনুভব করে নবরুপে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে দেশের প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগারবৃন্দ। শুধু তাই নয় , নীতিবর্জিত রাজনীতিবিদ ,খুসখোর আমলা ,রক্তচোষা মুনাফা ভোগী ব্যবসায়িদের যে কোন ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও এখন অন্যদের চেয়ে বেশী তৎপর ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে সাংবাদিক ও ব্লগারবৃন্দ।

এর একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হলো যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীর আজকের অবস্থান , যার অধিকাংশ কৃতিত্বই সাংবাদিক ও ব্লগারদের। বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামী সরকার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহন করে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করলেও প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগাররা বিভিন্ন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও পরিবেশন এবং গবেষনা ও বিশ্লেষনধর্মী লেখনীর মাধ্যমে সংবাদপত্র,ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও ব্লগের ময়দান প্রতিনিয়ত সরগরম রেখে জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এবং সরকারকে দাবী বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃ্ষ্টি করে চলেছে। যা রনাঙ্গনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তরোবারি চালানোর সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

আজ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে শাহবাগ স্কয়ার থেকে যে শ্লোগান পৌছে যাচ্ছে সাড়া দেশে ,এই শ্লোগান শুধু যুদ্ধাপরাধীর ও ঘাতক দালালদের ফাঁসী দাবী হিসেবেই দেখছিনা,এই শ্লোগান দেশ প্রেমিকের খোলশ লাগানো জাতীর নব্য রাজাকার ও আলবদর ঘাটিতে প্রথম আঘাত হিসেবেও দেখছি। এই অভিযানকে যারা তিলে তিলে সংগঠিত করে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে তারা কোন প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা বিনিময়ে কাজ করেনি কিংবা কোন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে কাজ করেনি। এরা দেশের নতুন প্রজন্ম,এরা দেশের মাটি এবং মানুষকে ভালোবাসে,এরা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে লালন করে সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে দাড়াতে প্রস্তুত, আর তাইতো তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের গৃহিনী থেকে শুরু করে স্কুলগামী শিশুটি পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে এসে একাত্বতা ঘোষনা করেছে এবং কোন রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলন থেকে ফয়দা লুটতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক অবস্থানে থেকে সরকার দলীয় মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে বোতল ছুরে বুঝিয়ে দিয়েছে জনসাধারনের হাটটিমাটিম টিম ছড়া শেখানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। তাছাড়া এদেরকে আরো বুঝিয়ে দিয়েছে কোন সহিংসতা ছাড়া কিভাবে দাবী আদায় করতে হয় এবং কিভাবে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হয়,ভালোবাসা পেতে হয়, গনমানুষের চাওয়াকে কিভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

সাগর রুনী হত্যার বিচারের দাবীতে সাংবাদিক সমাজ দল মত নির্বিশেষে একাত্বতার সহিদ যে আন্দোলন করছে তাও জাতীর এক মঙ্গল বার্তা বহন করছে। 

শুধু যুদ্ধাপরাধ ইস্যুই নয় দেশের চলমান পদ্মা সেতু দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেংকারি,হলমার্ক কেলেংকারি,সাগর রুনী হত্যাকান্ড, বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড ইত্যাদি সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও থেমে থাকেনি সাংবাদিক ও ব্লগারা, ঘটনার নেপথ্যে পৌছে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্লেষনের মাধ্যমে মানুষের সামনে উপস্থাপন করে ভন্ড রাজনীতির মুখস খুলে দিয়েছে। আর এই অভিযান অব্যহত রাখতে গিয়ে বিগত চার বছরে ১৩ জন সাংবাদিকে প্রান দিতে হয়েছে এবং ৫০০ শতাধিক সাংবাদিকসহ অসংখ্য ব্লগারকে শারীরিক নির্যাতন ও নানামুখী হয়রানীর স্বীকার হতে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অনিয়মের প্রতিবাদের পাশাপাশী সামাজিক অবক্ষয় রোধে সাংবাদিক ও ব্লগারদের নানামূখী পদক্ষেপ দেশ প্রেমিক হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেছে। ধর্ষন,ইফটিজিং,এসিড সন্ত্রাস,মাদক এর মত ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা রোধে লেখালেখির পাশাপাশী মানব বন্ধন,ব্যানার,ফেষ্টুন সহ নানামূখী ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের ম্যাধ্যমে সচেতনতার সৃষ্টি করে সামাজিক বিপ্লবের পথ ত্বরান্নিত করছে। সেই সাথে দেশের শীতার্থ ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ আক্রান্ত মানুষের পাশে বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশী নুন্যতম সামর্থ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলছে।

গনমানুষের অধিকার আদায় ও পরিসুদ্ধ দেশ গড়ার যে স্বপ্ন হৃদয়ে ধারন করে সাংবাদিক ও ব্লগাররা জাতীকে আজ উজ্জিবিত করছে তা একদিন অবশ্যই সফলতায় পর্যভূষিত হবে। ফরাসী বিপ্লবের কথাই ধরুন, এই বিপ্লবের বীজ রোপিত হয়েছিলো লেখনীর মাধ্যমেই, তৎকালীন বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক ও সমাজ চিন্তাবিদ রুশো,ভোলতেয়ার,সাত্রে তাদের লেখায় তৎকালীন সামাজিক বৈশম্য, গীর্জার শাসকদের দৌরাত্ব ও প্রতাব,গনমানুষের নায্য অধিকার, করের টাকায় রাজাদের বিলাসী জীবন যাপন,অনিয়ম,দুর্ণীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে উঠে আসে। যা খেটে খাওয়া, অধিকার বঞ্চিত ফরাসীদের মধ্যে অধিকার সচেতন ও সমাজ সচেতনতার সৃ্ষ্টি করে এবং এই সচেতনতাই ধীরে ধীরে ফরাসীদের মধ্যে অগ্নীস্ফুলিঙ্গের রুপ ধারন করে যা পরবর্তিতে দাবানলের মত সমস্ত ফ্রান্সকে দাহন করে। যার ফলাফল স্বরুপ অসংখ্য প্রানের আত্নহুতি বিনিময়ে ফ্রান্সের আজকের এই প্রজাতন্ত্র এবং অসাধারণ এক মানবাধিকার রাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার সুনিশ্চিৎ হয়েছে। 

যেসব সাংবাদিক ও ব্লগার দেশকে ভালোবেসে সুশাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন হাতে নিয়ে প্রতিদিন মেধা ও শ্রম ঢেলে দিচ্ছেন তাদেরকে বিপ্লবী সালাম ও পূর্ণ সমর্থন। আর যারা এখনো সুবিধাভোগী রাজনীতির পক্ষপাতিত্ব করে সুবিধাভোগীদের অবস্থান সুদৃড় করার নেশায় মত্ত আছেন তাদের প্রতি আহবান আসুন আজকের এই গনজোয়ারের মিছিলে সামিল হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনকে বেগবান করি এবং গনমানুষের অধিকার সুনিশ্চৎ দেশ গড়ি।

সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্যারিস ভ্রমণসূচীতে এক দিনের জন্য রাখুন Maison du parc, La courneuve

আর কিছু দিন পরেই ফ্রান্সের প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া লাগবে। পুষ্প পল্লবে ভরে উঠবে প্রকৃতির চারিধার । ঝড়া প্রকৃতি পাবে নতুন এক প্রানশক্তি। প্রকৃতি চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য্যের ডালী সাজিয়ে সৌন্দর্য্য পিপাসুদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রতিক্ষা করবে।প্রকৃতির এহেন উৎসবকে আরো নান্দনিক ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন মেরী সংস্থাগুলো (সিটি কর্পোরেশন) নানাবিধ পদক্ষেপ হাতে নেবে। ফলে আপনি যেদিকেই তাকাবেন আপনার সৌন্দর্য্য অবগাহনের ক্ষুধা আরো বেড়ে যাবে। এই সময় যারা প্যারিস ভ্রমনে আসবেন তারা হয়তো অবশ্যই আইফেল টাওযার,লুভ্রর জাদুঘর,ভার্সাই রাজার বাড়ী ইত্যাদি নিদর্শন পরিদর্শন করবেন। শিল্পীর ইট,পাথর আর লোহার তৈরী শিল্পকলার মাঝে ঘুরতে ঘুরতে যখন একটু হাঁপিয়ে উঠবেন তখন ভ্রমন পিপাসু হৃদয়ে নতুন করে প্রানের সঞ্চারের জন্য একটি দিনের জন্য Maison du parc এ ঘুরে আসতে পারেন।

পার্কের সুবিস্তৃত অরণ্যের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই আপনি পেয়ে যাবেন দুর্বা ঘাসে ঢাকা প্রশস্ত মাঠ। ইচ্ছে করলে এখানে ভ্রমন সঙ্গীদের সাথে একটু দৌড়া দৌড়ি,খেলাধুলা করতে পারেন। দেহের ক্লান্তি দুর করা জন্য মাঠের পাশেই লেকের নিলাভ জলের পাশে বসে একটু জিরিয়ে নিতে পারবেন। লেকের বিভিন্ন প্রজাতির বনহাঁস,পানকৌরীর মুক্ত বিচরণ আপনাকে মুগ্ধতা এনে দেবে। কখনো ঝাঁক বেধে অবাক বিস্ময়ে আপনার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাবে রাজহাঁসের দল। বনের উচু নিচু টিলার মধ্যে দিয়ে হাটতে হাটতে দারুন এক এ্যাডভেঞ্চারে রোমাঞ্চিত হবে আপনার ছিন্নবাঁধা মন। যখন ক্লান্তি ছেয়ে ধরবে আপনাকে তখন আশে পাশে তাকালেই দেখবেন কোথাও আপনার জন্য ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে বানিয়ে রাখা হয়েছে সুসজ্জিত চেয়ার টেবিল। ইচ্ছে হলে এক নির্ঝুম নিরবতায় মধ্যে কাটাতে পারবেন কিছু সময়। কখনো খরগোসের দল আপনাকে দেখে বনের ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে লুকানোর দৃশ্য আপনাকে দারুন শিহরণ জাগাবে, আর বনের মাঝে মাঝে সুসজ্জিত ফুলের বাগানগুলোতে ফুটে থাকা বাহারি রং ও প্রজাতির ফুলগুলোর দিকে বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আপনার কোন উপায়ই থাকবেনা।

এই পার্কটি ৪১৫ হেক্টর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছর প্রায় ২ মিলিয়ন ভ্রমনার্থী এই পার্কটি পরিদর্শনে আসে এবং পরিদর্শনের জন্য কোন প্রকার প্রবেশ মূল্য প্রদান করতে হয়না।

পার্কটির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, জলখাবার এবং মিষ্টান্ন জাতিয় খাবারের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, পিংপং টেবিল,পথ নির্দেশক প্রদর্শনী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্যারিসের বিভিন্ন স্থান থেকে আপনি এখানে আসতে পারেন :
RER: RER বি Orly – প্যারিস – চার্লস দে Gaulle কেন্দ্র Aubervilliers – লা Courneuve তারপর বাস লাইন 249, স্টপেজ সিতে ফ্লরিয়েল।
বাস: লাইন 249: PORTE দে লা Villette (মেট্রো) / Dugny – শহরের মিল অফ কবরস্থান।
লাইন 250: ফোর্ট d’Aubervilliers (মেট্রো) / Gonesse – লা ফন্ট. Cypière – Zi স্টপ ক্রিড়া পার্ক।

পার্কটি খোলা থাকে: January-February: 7h30-18h00. March: 7:30 a.m. to 7:00 p.m., April: 7:30 a.m. to 8:30 p.m., May to August: 7:00 a.m. to 9:00 p.m. September: 7:30 a.m. to 8:00 p.m., October: 7:30 a.m. to 7:00 p.m., November-December: 7:30 a.m. to 6:00 p.m.
আপনাকে Maison du parc,La courneuve এর সৌন্দর্য্য উপভোগের আমন্ত্রন রইলো। 
ফটোগ্রাফি: মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ উজ্জ্বল"