শনিবার, ১৪ জুন, ২০১৪

র‍্যাব এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

২৬ মার্চ ২০০৪ সালে বাংলাদেশের সামরিক,আধাসামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় রাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। শুরুতে এই বাহিনীর কার্যকক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আস্থা অর্জনে সমর্থ হয় কারণ তৎকালীন সময়ে অস্থিতিশীল সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও সন্ত্রাস,চাঁদাবাজীর মূল উৎপাটনের জন্য তরিৎ অভিযান পরিচালনা সক্ষম ও বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পর্ণ এমন একটি শক্তিশালী আইন শৃংখলা বাহিনী সময়ের দাবী ছিলো ।এছাড়া অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী সংগঠন ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অনেক দুঃসাহসী সফল অভিযান পরিচালনা করে তাদের সক্ষমতার স্বাক্ষর মানুষের কাছে তুলে ধরেন। শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও এ ধরনের বিশেষ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। শুরুতে এই বাহিনীর কার্যক্রম আশা জাগানোর হলেও এর পরের গল্প শুধুই হতাশার,বেদনার এবং কান্নার। আইন শৃংখলা রক্ষার নামে এর অন্তরালে এই বাহিনীকে দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাশীনরা এই দশ বছরে কি করেছে তার বিশদ বিশ্লেষন এবং কি উদ্দেশ্যে মূলত ব্যবহার করা হচ্ছে তা আজ গভীর ভাবে ভেবে মানুষের সচেতন ও শোচ্চার হবার সময় এসেছে।

একটি দেশের দুষ্কৃতিকারী মহল দ্বারা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংগঠিত হবে ও তৎপরতা চলবে এবং তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীকে ধরে আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করা ও সমাজের অপতৎপরতামূলক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করাই মূলত দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীগুলোর কাজ। সেই বাহিনীই যদি কোন প্রকার জবাবদিহিতা ছাড়া নিজ হাতে বিচার বিভাগের দায়িত্ব তুলে নিয়ে জল্লাদের কাজটিও সম্পন্ন করে ফেলে এবং তা সরকারের নির্দেশেই তাহলে সেই সংগঠন বা বাহিনীকে জনগনের বন্ধু সংগঠন বলা যায় কি? এবং এমন কর্মকান্ড সমর্থনকারী সরকার বা রাষ্ট্রকে মানবিক ও আধুনিক গণতান্ত্রীক রাষ্ট্র বলা যায় কি? ধরে নিতে হবে দেশ আসলে গণতন্ত্রের ছদ্দবেশে মূলত সেই সম্রাট আকবরে পাইক পেয়াদার একনায়কতান্ত্রিক শাসনের দিকে ধাবিত হয়েছে।

একটি বেসরকাারী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাশীন সরকার এ পর্যন্ত র‌্যাবকে দিয়ে প্রায় ২০০০ মানুষকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করিয়েছে। রাষ্ট্র ও র‌্যাব এর কাছে এই দুই হাজার মানুষের পরিচয় সন্ত্র্রাসী হিসেবে। যদি সন্ত্রাসী হয়েও থাকে তবুও প্রাথমিক দৃষ্টিকোন থেকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিলো এই মানুষগুলোকে আইনের আওতায় এনে দেশের প্রচলিত  আইন অনুযায়ী শাস্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা করা। একজন মানুষের সম্পর্কে আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ থাকলেই একজন মানুষ সন্ত্রাসী বা অপরাধী হয়না, অভিযোগকারী ব্যক্তিকে প্রামানিক তথ্য উপাত্ত ও বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করে একমাত্র আদালত সন্ত্রাসী বা অপরাধী সাবস্থ্য করতে পারে আবার নিরাপরাধও প্রমান হতে পারে।

যে মানুষগুলোকে হত্যা করা হয়েছে এই মানুষগুলোর আত্নকথন দেশের মানুষ জানেনা। সরকার কেন তাদের বক্তব্য শোনেনি ?কেন সরাসরি হত্যা করলো ? বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই কেন সন্ত্রসী হিসেবে চিহ্নিত করলো ? এই হত্যা প্রক্রিয়া কি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের স্বার্থে ?নাকি বিশেষ কোন গোষ্ঠীর স্বার্থে ?যদি কল্যাণের স্বার্থেই হয়, তাহলে দুই হাজার বড় বড় সন্ত্রাসী হত্যা করার পরও দেশ কেন আজ হত্যা, গুম, খুন ও অপকর্মের চারণভূমি ? এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে আসলে কি ঘটছে তা আজ দেশের বিবেকবান ও সমাজ সচেতন মানুষদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।

যে মানুষগুলো হত্যা করা হয়েছে তারা প্রত্যেই রাষ্ট্র অনুমোদিত গল্প অনুযায়ী র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধ করতে গিয়ে ক্রসফায়ারে মারা গিয়েছে। কিন্তু এই সাজানো যুদ্ধের আসল ঘটনা একমাত্র অপারেশনাল ফোর্স ও ভিকটিম ব্যক্তি ছাড়া কেউ জানতে পারেনা ।ভিকটিম ব্যক্তিকে যেহেতু পরপারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাই আসল ঘটনা আর জনসম্মুখে আসার সুযোগ থাকেনা। পরবর্তিতে র‌্যাবের মিডিয়া উইং কর্তৃক ঘটনার সাথে রং রস লাগিয়ে মিডিয়ার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমাদের মিডিয়াগুলোও উপস্থাপিত গল্পকে অত্যন্ত গুরত্ব সহকারে অনুসন্ধান ছাড়াই খুন হওয়া ব্যক্তিককে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে প্রচার করে থাকে,আর যেসব সাহসী সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিক ঘটনার নেপথ্যে অনুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়েছে তাদেরকে অনেক সময় সরকারের এই পাইক পেয়াদা বাহিনী দ্বারা হয়রানীর স্বীকার হতে হয়েছে।

এই বাহিনীর কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার প্রতিবাদ করে আসলেও কোন সরকারই তা কর্ণপাত না করে রাষ্ট্রীয় এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালু রেখেছে। আবার দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা বাইরে থেকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে কথা বললেও ক্ষমতা গিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থেই এই বাহিনীকে ব্যবহার করছে।

আজ যে মানুষগুলোকে রাষ্ট্রীয় ভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের জীবনের উপর একটু গবেষনা চালিয়ে যদি জানার চেষ্টা করা হয় ঘটনার নেপথ্যের গল্প, তাহলে একটু গভিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে দেখা যাবে , এই মানষগুলোর জীবন যাপন স্বাভাবিক ছিলো, কিন্তু জীবনের কোন এক পর্যায়ে অপ্রাপ্তি ,হতাশা ও ব্যর্থতা থেকে জীবনের প্রয়োজনে কোন সমাজ বিরোধী চক্রের প্ররোচনায় অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে, আবার অনেকেই কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহারের হাতিয়ার হয়ে পরে নামের সাথে লেগেছে সন্ত্রাসীর তকমা।

আমাদের দেশে বর্তমান যে ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু রয়েছে এই ধারায় মাঠ পর্যায়ে সশস্ত্র ক্যাডার,সুদক্ষ খুনি,চাঁদাবাজ,ত্রাস সৃষ্টিকারী বোমাবাজ,দখলদারিত্বে পারদর্শী নেতাকর্মী ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক রেসের ময়দানে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই রাজনীতির প্রয়োজন থেকে এবং ক্ষমতা লুটের লড়াইয়ে শক্তি বৃদ্ধির জন্য আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সমাজ থেকে কিছু মানুষকে প্রয়োজনের তাগিদেই লাঠিয়াল হিসেবে তৈরী করে এবং উদ্বুদ্ধ করে। এই ছোট্ট লাঠিয়ালই লাঠিবারি খেলতে খেলতে কোন একসময় হয়ে যায় লাঠিয়াল সরদার। সরদার থেকে যখন অর্থ বিত্তের পাশাপাশী তৈরী করে ফেলে আন্ডার ওয়াল্ডে বিশেষ প্রভাব ঠিক তখনি এই মানুষগুলোকে সমাজের কাছে ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ত্রাস সৃষ্টি করে এদেরকে দিয়ে আড়ালে বসে স্যুট কোট ও পাজামা পানজাবী পরিহিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাধারী স্বচ্ছ ইমেজের সমাজ বিরোধী স্বার্থান্বেষী মানুষেরা চালায় যাবতীয় অপকর্ম ও তৎপরতা। এই আন্ডার ওয়াল্ডের মানুষগুলো যখন আমাদের স্বচ্ছ ইমেজের ভন্ড নেতাদের মুখোস উন্মোচনের কারণ হয়ে দাড়ায়, ঠিক তখনি জনগনের অর্থে কেনা গোলা বারুদ ও বেতন ভাতায় পোষ্য সরকারী পাইক পেয়াদা দিয়ে সুস্থ মাথায় হত্যা করিয়ে জনসাধারণকে বোঝানো হয় তারা দেশের আইন শৃংখলা ও জান মাল রক্ষায় আপোসহীন ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এভাবেই আমাদের শোষক শ্রেণী যেমন নিজ স্বার্থে সমাজ থেকে সন্ত্রাসী সৃষ্টি করছে অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকেও নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব প্রতিপত্তি আরো সুদৃঢ়  করার জন্য অপব্যবহার করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মাথার ওপর যে শোষক শ্রেনী পাথরের মত চেপে বসেছে এবং তাদের রক্তচোষা নেতৃত্বের কারণে আজ জনগনের টাকায় পোষ্য আইন শৃংখলা বাহিনীগুলো জনসাধারণের সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে প্রতিনিয়ত জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ঘাতকতা করে চলছে। হত্যা প্রক্রিয়াই যদি সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সমাধান হতো তাহলে যে দুই হাজার মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে হত্যা করা হলো এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ শান্তির স্বর্গভূমি হওয়ার কথা ছিলো। মূলত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপকর্মের মূল শিকড়ে পানি ঢেলে সতেজ করে শুধু ডালপালা ছেঁটে দিয়ে সন্ত্রাসকে আরো শৈল্পীক ভাবে পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে গ্রাসীত করা হয়েছে।
রাষ্ট্র যদি আজ কল্যাণমুখী হতো তাহলে একজন মানুষের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার কারণ খুজে বের করে তা সমাধানের নানা পদক্ষেপ গ্রহন করতো এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেকটি ঘটনার প্রকৃত রহস্য খুজে বের করতো এবং যথাযত পদক্ষেপ গ্রহন করে এই অনৈতিক হত্যালীলা বন্ধ করতো।

আসলে যে রাষ্ট্র বা সরকার ব্যবস্থা মানুষকে তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার যোগ্যতা রাখেনা, সেই রাষ্ট্রের মানুষ হত্যার অধিকার কতটা যৌক্তিক ?

আজ র‌্যাব শব্দটি মানুষের কাছে এক শঙ্কার নাম। কোন পরিবারের কোন সদস্য যদি এই বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়, তাহলে সেই পরিবারের সকল সদস্যদের আতংক ও সংশয়ের মধ্যে প্রতি মুহূর্ত চিন্তা করতে হয় যে, মানুষটি সুস্থ শরীরে আবার ফিরে আসবে কি ?নাকি প্রিয় মানুষটির লাশ রূপে দেখা মিলবে খালে বিলে অথবা কোন মর্গে। এমন শত শত পরিবার  প্রিয়জনের দুঃসহ স্মৃতি বুকে নিয়ে আজ দিনাতিপাত করছে।আজকের সরকার এই বাহিনীকে দিয়ে অনেকেরই পুঙ্গত্বের জীবন উপহার দিয়ে জীবনের বেঁচে থাকার সোনালী স্বপ্নকে ধূসর করে দিয়েছে।র‌্যাবের আক্রশের স্বীকার পঙ্গু লিমন চাইলেই আর কোন দিনও দুই পায়ে খেলার মাঠে দৌড়াতে পারবেনা,পারবেনা দরিদ্র পিতামাতার সংসারের হাল শক্ত ভাবে  ধরতে,সারা জীবন খোড়া হয়েই জীবন অতিবাহিত করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে।

এক সময় সমাজের কালো টাকার মালিকেরা শত্রু বা প্রতিপক্ষকে খুন করার জন্য পেশাদার খুনি চক্রের সাথে টাকা বিনিময়ে চুক্তি করতো,কিন্তু আজ সময়ের বিবর্তনে র‌্যাব সেই কালো টাকার মালিকদের কাছে আশির্বাদ হয়ে আবর্ভাব হয়েছে ,কারণ এখন খুন করার জন্য টাকার বিনিময়ে র‌্যাব এর সাথে চুক্তি করলেই, খুবই নিখুতভাবে ঝুকিমুক্ত খুনের সেবা প্রদান করে র‌্যাব সমাজ বিরোধী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়নগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনাই যেন তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। আবার অনেকের জমিজমা দখলের ব্যাপারেও মাস্তানদের পরিবর্তে এই বাহিনীর সদস্যদের সাথে চুক্তির করছে, সেই দৃষ্টান্তও আজ দৃশ্যমান ।

...... আপনারদের বিবেকের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই, রাষ্ট্রের বড় চেয়ারে বসে ও মর্যদার পোষাক পরে আজ আপনারা যারা যে টাকার বিনিময়ে ঘৃন্য কাজে লিপ্ত হয়ে রাষ্ট্র ও জাতিকে নিয়ে যে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছেন, সেই টাকায়  গুলশান বনানীতে কেনা ফ্লাটের দক্ষিনা জানালার বাতাস কি আপনার শরীরকে শীতল করবে? যে নরম বিছানায় স্ত্রীর সাথে আরাম করে ঘুমানোর জন্য মানুষ হত্যা করলেন, আপনার কি সত্যির আয়েশের ঘুম হবে? মনে হবেনা,  আপনি আসলে নরম বিছানায় নয়, বরং লাশের ওপর শুয়ে আছেন?একবারও কি মনে প্রশ্ন জাগেনা, আপনার অভিশপ্ত টাকার ফ্লাটে পরিবারের সবার আয়েশের ঘুম হলেও অপঘাতে আপনার হাতে খুন হওয়া মানুষগুলো আত্না আপনার চিন্তার জগতে আনাগোনা করে আমৃত্যু  দংশন করবে। একটু অন্যভাবে চিন্তা করে দেখুন ,আপনার যে প্রজন্মকে উচ্চবিলাশী জীবন উপহার দেওয়ার জন্য আজ আপনার অর্জিত শিক্ষা, জ্ঞান ও বিবেককে বলিদান করলেন,সেই প্রজন্মকে মূলত কি দিয়ে গেলেন? আপনি আসলে আপনার প্রজন্মজকে এক ঘৃনার ইতিহাস মানুষের রক্ত দিয়ে রচনা করে দিয়ে গেলেন।
যদিও জংধরা তালাবদ্ধ বিবেকেরবানদের কাছে বিবেক ও নৈতিকতার গল্প হাস্যকর।

আজ শুধু র‌্যাবের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শোচ্চার হলেই সমস্যার সমাধান মিলবেনা মূলত সন্ত্রাস ও অপকর্মের যে ফলবান বৃক্ষ আমাদের মাথার উপর ছেয়ে আছে সেই ফলবান বিষবৃক্ষের মূলশিকড় উপরে ফেলার দিকে লক্ষ্য স্থির করে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গনসচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য প্রত্যেক সমাজ সচেতন ও যারা শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে দৃঢ়  সংকল্পবদ্ধ তাদের প্রত্যেককেই আজ যার যার অবস্থান থেকে দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে কথা বলা শুরু করতে হবে। যেদিন সামাজিক জাগরণের মধ্যেদিয়ে এক মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সংঘবদ্ধ গণশত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চূড়ান্ত করতে পারবো সেই দিনই জাতীর মুক্তি। তানাহলে সমাজ আজ যে ধারায় বহমান সেই ধারা অব্যহত থাকলে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোন একসময় লিমন কিংবা দু হাজার অপমৃত্যুর স্বীকারদের মত ভাগ্য বরণ করা লাগতে পারে।

রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৪

প্যারিসে খুঁজে ফেরা বাংলাদেশ

প্যারিসে এসেছি প্রায় তিন বছর আগে। আসার পর আড়াই বছর ছিলাম বাঙালি পরিমণ্ডলে। এখন ছিতে নটর ডেম-নিয়ন্ত্রিত একটি হোস্টেলে উঠেছি। বাঙালি পরিমণ্ডলে থাকার সময় কখনো বুঝতে পারিনি, আমি প্রবাসে আছি। বাংলাদেশি খাবার, বাংলা ভাষা, বাঙালির মমতা আমাকে ভুলিয়ে রেখেছিল প্রবাসের কষ্ট।
নতুন জায়গায় আমরা পাঁচজন মাত্র বাঙালি। বাকি সবাই ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের। আমার রুমমেট একজন আফ্রিকান। নাম ছেরগি। সাবেক ফ্রেঞ্চ কলোনির মানুষ হওয়ায় সুযোগ পেলেই মন খুলে ফ্রেঞ্চ ভাষায় অনর্গল কথা বলতে থাকে। ছেরগির কথা না বুঝলেও বোঝার ভান করে রুমে ওর সঙ্গে তাল মেলাতে হয়।
হোস্টেলের নিচতলার ক্যানটিন। খাওয়ার সময় আমরা বাঙালিরা এক টেবিলে বসার চেষ্টা করি। তখন আমাদের মধ্যে নিজ ভাষায় আলাপ হয়। খেতে খেতে আড্ডা দিই। আমাদের আড্ডায় যোগ দেয় একজন পাকিস্তানি। কিন্তু সে বাংলা বোঝে না। আড্ডায় নীরব থাকে। গায়ের রঙের কারণেই সে আমাদের টেবিলে বসে। তার সুবিধার্থে মাঝেমধ্যে আমরা ইংরেজি বলি।
ভাত-মাছে অভ্যস্ত আমাদের প্রথম প্রথম ফরাসি খাবারে সমস্যা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আমরা মানিয়ে নিয়েছি। এখানে আমাদের অবসর সময়ের অনেকটাই কাটে বই পড়ে। মাঝেমধ্যে রাতের খাবার খেয়ে যাই প্যারিসের বুক চিরে বয়ে চলা সেন নদীর তীরে।

নদীর ওপর শিল্পের ছোঁয়া লাগানো কারুকার্যময় প্রশস্ত সেতু। এই সেতুর ওপর দাঁড়ালে অন্য রকম এক মুগ্ধতায় দেহ-মন ভরে যায়। সেতুর ওপর নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলোর আলোর দ্যুতি এবং মাঝেমধ্যে জোনাকির মতো মিটিমিটি আলো ছড়িয়ে প্রমোদতরির ভেসে চলার দৃশ্য এক ভিন্ন রকম অনুভূতির সৃষ্টি করে। রাতের প্যারিসের এই সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ। রাতের এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দায়!
আমি যে এলাকার কথা বর্ণনা করছি, সে এলাকার নাম আনভালিদ।
এর পাশেই ভাস্কর্যসংবলিত চার স্তম্ভবিশিষ্ট দণ্ডায়মান সেতুটিকে মনে হয়, কাউকে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করছে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে চোখের দৃষ্টির দিক পরিবর্তন করলে দৃষ্টিতে ধরা দেবে সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত প্যারিসের সব স্থাপনার উচ্চতা ভেদ করে শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আইফেল টাওয়ার। সবুজ দূর্বা ঘাসে ঢাকা বিরাট মাঠ পেরিয়ে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের সমাধি (আর্মি মিউজিয়াম) ও ফ্রান্সের ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট ভবন।

আশপাশে একটু হাঁটলেই চোখে পড়ে
ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট দ্য গ্যলের ভাস্কর্য,
ঐতিহাসিক প্যালেস দ্য কনকর্ড, প্যারিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাভিনিউ দ্য সনজোলজি ছাড়াও অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা। মুগ্ধ হতে হয় বৃক্ষশোভিত নীরব ও মৃদু কোলাহলপূর্ণ প্রকৃতির আপন আতিথেয়তায়।
মাঝেমধ্যে আমি ছবি তোলার নেশায় ক্যামেরা হাতে সৌন্দর্য শিকারে ঘুরি-ফিরি বর্ণনাস্থলে। ক্যামেরায় প্যারিসের মনোলোভা সৌন্দর্যের ছবি তোলার সময় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের রাতের মায়াভরা রূপ ও চন্দ্রিমা উদ্যানের পড়ন্ত বিকেলের সৌন্দর্য। খুঁজে ফিরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রিয় রাতের ফুলার রোডের সুখস্মৃতিমাখা দিনগুলো। যে সৌন্দর্যগুলো কখনোই ক্যামেরাবন্দী করা হয়নি আমার।
প্রবাসের চাকচিক্য রূপ-প্রকতির মধ্যেও বুকের এক কোণে আমার প্রিয় মাতৃভূমির একখণ্ড ছবি প্রতিনিয়ত বয়ে নিয়েই কাটে আমার প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি। প্রতীক্ষার প্রহর গুনি, কবে ফিরে যাব আমার মাতৃভূমির বুকে। আবার নয়ন জুড়াব দেশমাতার রূপলাবণ্যে।


ফ্রান্সের বাংলা কমিউনিটির কিছু অসঙ্গতি এবং সাম্প্রতিক প্রেসক্লাব বিতর্ক।

প্রায় চল্লিশ হাজার জনগোষ্ঠীর আমাদের ফ্রান্সের বাংলাদেশী কমিউনিটি।প্রত্যেকেই কোননা কোন কারণে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে এই বিদেশ বিভুঁইয়ে বসতি স্থাপন করেছি। আমরা যারা এই ভূখন্ডে বসবাস করছি তারা প্রত্যেকেই কোননা কোন ভাবে গুণান্বিত। কারো মধ্যে রয়েছে শিল্প সত্তা, কারো মধ্যে কঠোর পরিশ্রম ও জীবনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকার অদম্য মনোবল এবং সৃজনশীল মেধা ও মনন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে , আমাদের সহজাত গুন ও চিন্তাকে বিকশিত করার জন্য স্ব স্ব কর্মব্যস্ততার পাশাপাশী এখানে গড়ে তুলেছি নানাবিধ সাংস্কৃতিক,সামাজিক,রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। দিন দিন কমিউনিটির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন এবং উন্নত চিন্তা সমৃদ্ধ জনগোষ্ঠী তৈরির ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার সময়ও এসেছে।

আমার এখন পর্যন্ত এখানকার কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ডে যুক্ত হবার সুযোগ হয়নি, কিন্তু চল্লিশ হাজার সদস্যের বাঙ্গালী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে কিছু কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করছি। এখানে কমিউনিটির বিভিন্ন ফেজবুক পেজের সাথে সংযোগ থাকার কারণে কমিউনিটির নানাবিধ খবর ফেজবুক ওয়ালে দেখতে পাই। কোন কোন খবর নিজেকে পুলকিত করে আবার কোন খবর সত্যি হতাশ করে। সম্প্রতি একটি কমিউনিটি পেজে ‘শতর্ক হউন’ ফ্রান্সে জামাতি প্রেসক্লাব শিরোনামের একটি লেখা কমিউনিটি সংক্রান্ত অনেক কথা মনের মধ্যে উস্কে দিলো। লেখাটিতে নির্দিষ্ট কয়েক জন ব্যক্তির এখানে আগমন,অবস্থান,বর্তমান সামাজিক অবস্থান,জ্ঞান গরিমা ইত্যাদি হেয় ভাবে বর্ণনা করে লেখক নিজের শ্রেষ্টত্বের প্রমান দেবার চেষ্টা করেছন ।আমরা যারা এখানে বসবাস করছি তারা সবাই জানি যে, কিছু ব্যক্তিবর্গ শিক্ষা বৃত্তি ,পড়াশুনা ও পেশাগতভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ ছাড়া অন্য বৃহৎ অংশ কিভাবে বসবাসের স্থায়িত্ব লাভ করেছে। কোন যোগ্যতার বিশেষ মানদন্ডে আমরা এই স্থায়িত্ব লাভ করিনি, যেটা নিয়ে গর্ব করা যায়।ক্ষুদ্র স্বার্থে একজন বাঙ্গালী হয়ে এই দূরপ্রবাসে বসে অন্য বাঙ্গালীকে অসম্মান করার মধ্যে কোন গৌরব বা মহত্ব নিহিত থাকতে পারে কি? একজন বাঙ্গালী ভায়ের কাগজ হয়নি বলে এভাবে উলঙ্গ করার অধিকার কি আপনার আছে ? বরং আপনার কাগজ আছে বলে, কাগজ ছাড়া ভাইটির পাশে দাড়িয়ে,মানসিক ভাবে মনোবল জুগিয়ে তার কাগজ হওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করাই একজন গর্বিত বাঙ্গালীর  দায়িত্ব নয় কি ? শুধু এই বিষয়টিই নয় পূর্বেও এ ধরণের  আরো অনেক বিষয় দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধে নই। অনেক সময় জেনে,না জেনে আমরা ভুল করে থাকি।ধরুন আমি আপনার ভাই হয়ে একটা ভুল করেছি, তাই বলে আপনার একটা ফেজবুক এ্যাকান্ট বা নিউজ পোর্টাল আছে  বলেই আমাকে শুধরে না দিয়ে এবং সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে ন্যাংটা করে কমিউনিটির কাছে উপস্থাপন করবেন। বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন, এটা কতটুকু ন্যায় সঙ্গত। কেউ যদি ভুল করে তা কমিউনিটির শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই সমীচীন নয় কি ? একবার ভাবুন, কাউকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু লিখে ফেজবুকে পোষ্ট করে ছড়িয়ে দিলেন তা শুধু ফ্রান্সের কমিনিটির মানুষই দেখছেনা, মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে বসবাসরত বাঙ্গালীদের কাছে যা সত্যতা যাচাই ছাড়াই সবার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সহ সমম্ত কমিউনিটি সম্পর্কে এক বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি ফেজবুকে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে,তাহলো প্যারিসে একটি বাংলা প্রেসক্লাব গঠনকে কেন্দ্র করে। প্যারিসে গণমাধ্যম কর্মীদের একটি সংগঠন হবে এটি সত্যিই আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু এই ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত ঘটনাগুলো অনেককেই মর্মাহত করেছে। আমার জানা মতে বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমগুলো তাদের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়োগকৃত প্রতিনিধিদের  কোন প্রকার ভাতা বা আর্থিক সুবিধা প্রদান করেনা। আর যারা করে তার পরিমান নিতান্তই নগন্য। সেই সূত্রে ফ্রান্সে বাংলাদেশী গণমাধ্যমের যেসব সংবাদকর্মী ভাইয়েরা কাজ করছেন তারা কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা ছাড়াই ,নিজ খরচে ক্যামেরা কিনে স্বেচ্ছায় সামাজিক  দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কমিনিটিকে সেবা দিয়ে চলছেন। এ জন্য আপনাদের সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হচ্ছে, আপনারা কমিউনিটির মহৎ,সচেতন ও সেরা মানুষদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ নিজস্ব কর্মব্যস্ততার পাশাপাশী  আপনারা এখানকার  বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের নিয়ে ভাবেন এবং তাদের সুখ দুঃখ,আনন্দ বেদনা,আচার অনুষ্ঠান মিডিয়ার মাধ্যমে ষোল কোটি বাঙ্গালীর কাছে তুলে ধরেন। বিনিময়ে কমিউনিটির মানুষ আপনাদেরকে সমীহ করে,সম্মান করে,শ্রদ্ধা করে। তাই আমি বলবো, আপনারা শুধু একটি প্রেস ক্লাব নয়,একটি মহতি সংঘ গঠনের উদ্যেগ নিয়েছিলেন।যেহেতু সমাজের মহৎ ও সচেতনদের সংগঠন তাই প্রাথমিক পর্যায়ে দ্বন্দের ঊর্ধে থাকাই বাঞ্চনীয় ছিলো। দেখতে পেলাম একটি কমিটি না হয়ে দুইটি কমিটি আত্নপ্রকাশ করেছে। কারণ নেতৃত্বের ভাগাভাগিতে সমঝোতায় না পৌঁছানো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ফেজবুকের পাতায় উলঙ্গ করার যে মহড়া দিচ্ছে তা খুবই হতাশা ব্যঞ্জক। আপনারা কমিউনিটির সেরা অংশ হয়ে যদি একে অপরকে ছোট করে উপস্থাপন করেন,অসম্মান করেন, তাহলে অন্যরা কি করবে ? সুষ্ঠ, সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হলে একদিন সবাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাদ নিতে পারবেন। কেউ একটু আগে পরে হলে কি এমন ক্ষতিইবা হবে। এমন একটি ব্যাপার নিয়ে নিজেদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ একেবারেই অগ্রনযোগ্য।
যে দিন দেখবো বাংলাদেশী যুবকেরা ক্যামেরা হাতে ফরাসি সংবাদের পিছে ছুটছে,ফরাসি মিডিয়ায় পেশাদারী ভাবে কাজ করছে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিকদের একটি সংগঠন বা প্রেসক্লাব নির্মিত হয়েছে, সেই দিন মনে হবে ফরাসী বাংলা কমিউনিটির কিছু অর্জন হয়েছে। আজ কমিউনিটি প্রেসক্লাব গঠনের যে ক্ষুদ্র প্রয়াস চলছে আশা করি এখান থেকেই আপনারা সমস্ত দ্বন্দের ঊর্ধে গিয়ে এবং একত্রিত হয়ে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে বাংলা কমিউনিটির মানুষদের এগিয়ে নিতে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে যাবেন।
পরিশেষে বলতে চাই,আমরা বাংলাদেশ থেকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চক্রান্তের যে বিভাজন প্রক্রিয়ার মন্ত্র মস্তিস্কে  ধারণ করে এখানে এসেছি তা ঝেড়ে ফেলে, এই ভূখন্ডের জাতিগোষ্ঠীর (ফরাসি) জাতীয়তাবোধ,রাষ্ট্রের প্রতি মমত্ব ও ঐক্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের প্রিয় স্বাধীন সার্বভৌম মাতৃভূমিটাকে ভালোবাসি এবং প্রবাস থেকে  দেশপ্রেম ও ঐক্যের মডেল হয়ে দেশের মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আমরা শোষকের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মু্ক্ত হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পেলেও এখনো অর্থনীতির পরাধীনতার জালে আবদ্ধ তাই আমাদের একমাত্র অর্থনৈতিক মুক্তির যে যুদ্ধ চলছে ,সেই যুদ্ধে প্রত্যেক প্রবাসী যার যার নিজস্ব অবস্থান থেকে অবদান রাখবো, এটাই প্রত্যাশা।


রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

বাংলা অভিধান থেকে পরিবর্তন হতে পারে মহামান্য ও মাননীয় শব্দের অর্থ

বাংলা ভাষায় মহামান্য ও মাননীয় শব্দ দুটির সাথে গভীর শ্রদ্ধা সম্মান অন্তর্নিহিত।রাষ্ট্র বা সমাজের বিশেষ মানুষ বা ব্যক্তি বিশেষদের ক্ষেত্রেই শুধু এই শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়। যারা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নিজেকে আত্নত্যাগ করে থাকে, গণমানুষের মুক্তির জন্য প্রাণপন লড়াই করে নেতৃত্বের  বিশেষ আসনে অধিষ্ঠিত হয় ,কেবল তাদের নামের পূর্বেই মহামান্য বা মাননীয়  শব্দদ্বয়  জুড়ে দিয়ে তার প্রাপ্য সম্মান  প্রদর্শন করা হয়। আমরাও ভুল করিনি এই শব্দ দুটির যথার্থ  ব্যবহারের ক্ষেত্রে। যাদের আত্নত্যাগে আজকের এই বাংলাদেশ সেই এ কে ফজলুল হক , মাওলানা  আবদুল  হামিদ খাঁন ভাসানী , হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী , বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এই নামগুলোর সাথে আপনা আপনিই মহামান্য ও মাননীয় শব্দগুলো বসে যায় গভীর শ্রদ্ধাভরে।স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ৪২ বছরের রাজনীতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন রাজনীতি বলতে মুক্তির সংগ্রাম বোঝায় না। এখন রাজনীতি হলো, সমাজের দুর্নীতিবাজ, চোর,দুস্কৃতিকারী,কালোবাজারীদের মহামান্য ও মাননীয় বানানোর ফ্যাক্টরী, রাজনীতি হলো প্রাইভেট লিঃ বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং জল্লাদ তৈরির কারখানা। রাজনীতিকে বানিজ্যে মেরুকরণ করার ফলে, এখন বাংলাদেশে রাজনীতির বাজারে পূর্ণ প্রতিযোগিতা মূলক বাজার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।  বাজার ধরে রাখার জন্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অবলম্বন করছে নানাবিধ মার্কেটিং পলেছি। রাজনীতি শিল্পের ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নানাবিধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেমন রকমারি বোমা তৈরি ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সরবারহ প্রতিষ্ঠান , আইন শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার উপযুক্ত ও প্রশিক্ষিত ফাইটার সরবারহ প্রতিষ্ঠান,দেশের অবকাঠামো দক্ষতার সহিত ধ্বংসের জন্য কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , রাজনৈতিক পন্যের গুনগতমান (যেমন , খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্থান,চিকিৎসা,শিক্ষা সুনিশ্চিত করণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঘরে ঘরে চাকুরীর সুযোগ ইত্যাদি) জনগনের নিকট তুলে ধরার জন্য ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, হয়তো এরই মধ্যে প্রস্তুতি চলছে টক শো তারকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার, কারণ সামনের রাজনীতির বাজারে ব্যাপক টক শো তারকার চাহিদা সৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানের রাজনীতি ব্যবসায় উল্লেখিত বিষয়গুলো সংযোজনের ফলে ব্যবসায় অধিক মূলধন বিনিযোগের আধিক্য দেখা দিয়েছে। যার ফলে মূলধন সরবারহের জন্য দেশের  প্রধান রাজনীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিত্তহীন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতাকর্মী সংগ্রহের পরিবর্তে বিত্তবান দুর্নীতিবাজ, চোর,দুস্কৃতিকারী,কালোবাজারী সংগ্রহের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমানে গার্মেন্টস ব্যবসা,শেয়ার ব্যবসা,ব্যাংকিং ব্যবসা মন্দা থাকায় অনেক বিনিযোগকারী এখন রাজনীতি ব্যবসার দিকে ঝুকে পড়েছেন। কিছু দিন পর পরই অনুমোদন পাচ্ছে নতুন নতুন রাজনীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর অনুমোদনের সাথে সাথেই রমরমা বাজারে পড়ে থাকছেনা কেউই। প্রধান রাজনীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অঙ্কের টাকা,সংসদের আসন বন্টন,মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগী চুক্তিতে কিনে নিচ্ছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও সদ্য গজানো  রাজনীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার।এছাড়া মহামান্য ও মাননীয় হওয়ার এত সহজ ডিসকাউন্ট দেশের প্রধান প্রধান রাজনীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোপূর্বে কখনো দেয়নি।এই সুযোগ যথাযত ভাবে কাজে লাগাতে  অনেক দুর্নীতিবাজ, চোর,দুস্কৃতিকারী,কালোবাজারী পূর্বের উপাধী মুছে  মাননীয় সাংসদ ,মহামান্য মন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার দিকে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার লিজ বা কন্ট্রাক্ট পেয়ে গেলেই  লগ্নিকৃত অর্থ ফেরতসহ,সম্পদ চারশত থেকে পাঁচশত গুন করার নিশ্চিত সুযোগ অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যেই আশার সঞ্চার করেছে। ইতোমধ্যেই গত সংসদ নির্বাচনে অর্থলগ্নী করে শতভাগ সফলতা পেয়েছেন বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অনেক মাননীয় ও মহামান্য ব্যক্তিবর্গ। এই অভাবনীয় সাফল্যের ফলে বাংলাদেশে এই রাজনীতি শিল্পের সুদৃঢ় ভাবে বিকাশের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।


ইতিহাসে অনেক শব্দের অর্থ অনেক অর্থবহ ও মহিমান্বিত হলেও পরবর্তিতে কর্মপ্রক্রিয়ার ফলে ঘৃণিত হয়েছে। রাজাকার শব্দের অর্থ যত অর্থবহই হোক না কেন , বাঙলার মানুষ সব সমই এই শব্দ দ্বারা ঘৃনা প্রকাশ করবে। তেমনি বাংলাদেশের রাজনীতি বানিজ্যিকরণ করার ফলে চলমান প্রক্রিয়ায় যেভাবে মহামান্য ও মাননীয় বানানোর মহাৎসব শুরু হয়েছে তাতে এই শ্রদ্ধামিশ্রিত শব্দ দুটির অর্থ বাঙলার মানুষের কাছে ভিন্নতায় রুপ নিতে পারে , অদূর ভবিষ্যতে অভিধান থেকে পরিবর্তন হতে পারে শব্দ দুটির অর্থ। তাই বাংলা ভাষার এই অমূল্য শব্দ দুটির অর্থ অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে এখনি আমাদের সজাগ ও সচেতন হওয়া উচিত নয় কি ?

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

সংখ্যালঘু দুষ্কৃতিকারী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র

সারা পৃথিবীর মুসলীম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশগুলো যখন যুদ্ধ, দাঙ্গা,হাঙ্গামায় জর্জরিত এবং বিশ্ব মিডিয়া ও পশ্চিমা অবিভাবকদের কূটনৈতিক চিন্তায় শরীর ঘামে ভেজা। তখন বাংলাদেশ নামের একটি দেশ যেখানে শতকরা ৮৫ জন মুসলিমের বসবাসের দেশ হওয়ার সত্বেও এই ভূখন্ডে প্রবাহিত হতে থাকে শান্তির সুবাতাস, চলতে থাকে সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অঘোষিত প্রতিযোগিতা। মুষ্টিমেয় মৌলবাদী গোষ্টীর যে তৎপরতা তাও সরকারের নিয়ন্ত্রনে।১৯৪৭,৭১ এ দেশ বিভক্তি সময়কালে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্পর্কের যে বিভাজন ও অবনতি হয়েছিলো তা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষে মানুষের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে একটি বিশেষ অবস্থানে পৌছুতেও সক্ষম হয়েছে। তার পরেও কিছু নৃশংস ঘটনাগুলো ঘটেছে। এর মধ্যে একটি মুসলিম পরিবারের সঙ্গে অন্য মুসলিম পরিবারের যে সংঘাত হয়েছে তা স্বাভাবিক ভাবেই দেখা হয়েছে। আবার যখন, একটি মুসলিম পরিবারের সাথে অন্য ধর্মাম্বলি পরিবারের যে সংঘাত হয়েছে, তখন তা যথাযত বিচার প্রক্রিয়ায় না এনে কিছু স্বার্থানেষী রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘু নির্যাতন নাম দিয়ে রাজনৈতিক ফয়দা লুটার চেষ্টা করেছে। এধরনের ঘটনা পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় নগন্য। দেশে সামাজিক যে স্থিতিশীলতা তৈরী হয়েছিলো তা সামাজিক সৌহার্দ্যপূর্ন্য সম্পর্কের মধ্যে দিয়েই। আমাদের দেশটা দুইটা শ্রেণীতে বিভক্ত । একটা শ্রেনী স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী শ্রেনী, অন্যটি দেশ প্রেমিক সাধারণ জনতা। স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী শ্রেনীর মানুষ মুষ্টিমেয় হলেও এরা অর্থ বিত্ত ও সামাজিক ভাবে প্রভাবশালী। দেশের নিয়ন্ত্রনও তাদের হাতেই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা এদের জন্যই বরাদ্দ। এরা অর্থ ও প্রভাবের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাঁচ বছর পর পর দেশটাকে ইজারা নিয়ে থাকে। তাই, অর্থের বিনিময় ছাড়া এদের নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশের মানুষ চিন্তাও করেনা। তাই দেশ প্রেমিক সাধারণ জনতা ভাগ্যের এই দুষ্ট পরিহাস মেনে নিয়েই গড়ে তুলেছে নিজস্ব এক সামাজিক বলয়। এক একটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমাজ যেনো এক একটি আদর্শ রাষ্ট্রের মতো। সামাজিক সমস্যাগুলো সামাজিক ভাবেই নিষ্পন্ন করার এক দারুন সংস্কৃতিও তৈরী হয়েছিলো। আমাদের এই শ্রেনীর মানুষের মধ্যে রয়েছে পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতি, জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি পরম শ্রদ্ধা, জীবন যুদ্ধে নিজেদের টিকিয়ে রাখার আপ্রান প্রচেষ্টা।এদের চাহিদার সীমারেখাও সীমিত। এর মধ্যে দিয়েই পরিচালিত হচ্ছিল বাংলাদেশ নামের আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিটি। আমাদের সমস্ত মৌলিক অধিকার লুন্ঠনের পর, বেঁচে থাকার সর্বশেষ পূঁজি সামাজিক সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় পবিত্র অনুভূতিটুকুর মধ্যে আজ ওদের নোংড়া হাত ডুকিয়ে দিয়ে লুটপাটের অভিযানে সহায়তার জন্য জাতিকে বিভক্ত করে দিয়েছে। আজ কেন যেন মনে হচ্ছে সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশপ্রেমিক জনতা সংখ্যালঘু দুষ্কৃতিকারী স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী শ্রেনীর কাছেই পরাজিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট,সীমাহীন দুর্নীতি,দিনের পর দিন বিত্তহীন ও বিত্তবান বৃদ্ধির যে প্রতিযোগিতা চলছিলো, তা সাধারণ মানুষ যখন বুঝতে শুরু করলো, কথা বলতে শুরু করলো,সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করল, ঠিক সেই সময় ওরা জাতিকে বিভক্তির অস্ত্রটি ব্যবহার করে দিয়েছে। ওরা হয়তো বুঝতে পেরেছিলো, সংখ্যা গরিষ্ঠ জনতার আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। আজ ওদের ষড়যন্ত্রের ধোকায় পড়ে আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধংসের লীলায় মেতে উঠেছি ,নির্দ্বিধায় এক বাংলাদেশী ভাই আর এক বাংলাদেশী ভাইয়ের হত্যার হলি খেলায় মেতে উঠেছি। আজ এক পক্ষ অন্য পক্ষের হত্যাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি । এই হত্যা লীলার যে বীজ ওরা সমাজের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে তা এখনি সামাজিক ভাবে বিনষ্টের উদ্যেগ না নিলে এবং সচেতন নাহলে আগামীতে হয়তো কোন পক্ষেরই অপমৃত্যুর হাত থেকে রেহাই মিলবেনা।চক্রান্তকারীরা বিদেশে অবস্থান করবে, ভোগ বিলাসেরও কোন কমতি থাকবেনা কিন্তু আমার আপনার এই দেশেই অবস্থান করতে হবে, এই সমাজ থেকেই রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে হবে।সেই সমাজের স্থিতিশীলতায় চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষার এখনি প্রকৃত সময় । বাংলার যে মুক্ত বাতাস থেকে প্রতিদিন আমরা সঞ্চিবনী শক্তি লাভ করি ,সেই বাতাসে বারুদের গন্ধ ছড়ানোর যে পায়তারা চলছে তা এখনি রুখে না দিলে ……..দেশ হয়তো ইরাক,আফগান, সিরিয়া বা আর একটি মিসরে পরিনত হতে বেশী সময় লাগবেনা।…..

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৩

ফ্রান্সের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী সুর


গ্রীষ্মের তাপদাহ ও শরতের শুভ্রতাকে বিদায় দিয়ে ফ্রান্সের প্রকৃতিতে এসেছে শীত। বৃক্ষরাজির বেশিরভাগ বৃক্ষের পাতা ঝরে পড়েছে। পাতাহীন কান্ডবিশিষ্ট গাছের অসাধারণ শৈল্পিক রূপের পাশাপাশি অনেক বৃক্ষ যৌবনের সবুজ রঙ বদলে ধারণ করেছে হলুদ বর্ণের পত্রযুক্ত রূপ। সৌন্দর্যবর্ধক লতাবিশিষ্ট গুল্ম, ক্যাকটাস ও পুষ্প ফোটানো গাছগাছালি বসন্ত ও শরতের প্রকৃতিকে সুষমায়িত ও ফুল ফোটানোর মহান দায়িত্ব পালন করে ক্লান্ত দেহকে অবসর দিয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু তুষারের আবরণে শেষ সমাধির।
 শীতের জড়োসড়ো প্রকৃতিতে পাখপাখালির কলকাকলি প্রায় থেমে এসেছে। বাহারি রঙ ও ডিজাইনের টি শার্ট, জিন্স ও শর্ট পোশাকের পরিবর্তে সবার শরীরে উঞ্চতাবর্ধক শীতের পোশাক। মেঘযুক্ত আকাশ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টিধারা এখন জীবনধারার প্রাত্যাহিক অংশ। সূর্য মাঝে মাঝে মেঘ ভেদ করে তার অস্তিত্বকে জানান দিয়ে লুকোচুরি খেলায় মগ্ন। এমন প্রকৃতিতে একচিলতে রোদ যেন সদ্য যৌবনা ষোড়শী কন্যার মুখ দর্শন। পর্যটকের দল প্যারিসের যে সব পথঘাট, রেস্তোরাঁ কোলাহলমুখর করে রেখেছিল তা নিঝুম নিস্তব্ধতায় রূপান্তর করে সবাই আপন নিড়ে ফিরে গেছে।

গোটা ইউরোপ জুড়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি চলছে খ্রীষ্টধর্মীয় সবচেয়ে বড় উৎসব ক্রিসমাস ডে পালনের। ফ্রান্সও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে এই উৎসবকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় নোয়েল। শীতের সমস্ত রিক্ততা ও সিক্ততাকে আনন্দে রূপান্তরের ক্ষেত্রে নোয়েল তুলনাহীন। দিনটি একটি বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীর উৎসব হলেও এখানে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবের আনন্দে নিজেকে রাঙ্গাতে কার্পণ্যতা করে না। এখন থেকেই সুপার মার্কেট ও বিশেষায়িত দোকানগুলো নয়েল টুপি, চকলেট, কেক ও নানাবিধ উপহার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে। অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ পণ্য সামগ্রীর ওপর বিশেষ ছাড় দিয়েছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ফ্রান্সের সকল শহরগুলো জেগে উঠবে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায়। ফুলের দোকানগুলোতে লেগে যাবে ক্রিসমাসট্রি বিক্রির ধুম।
প্রত্যেক ফরাসি উপহার বিনিময় করবে প্রিয় মানুষ, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে। শীতের তীব্রতা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে এই উৎসব আনন্দের কাছে। তুষারের সাদায় রূপ নেবে এক ভিন্ন প্রকৃতি।


শীতের এই তীব্রতায় থেমে থাকে না ফরাসি জীবন ও জীবিকা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মব্যস্ত মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেট্রো-ট্রাম-বাসস্টেশন এবং রাস্তাঘাট ও শপিংমল। চারদিকে থাকে স্বাভাবিক জীবনধারা। মানুষ প্রতীক্ষায় থাকে। শীতের জীর্ণ প্রকৃতিকে বিদায় দিয়ে জীবনধারায় লাগুক আবার বসন্ত বাতাস।


ফ্রান্সের প্রকৃতিতে শীতের আগমনি, প্রকাশ :দৈনিক প্রথম আলো ৩০.১১.২০১৩

শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৩

ফরাসি ভূখন্ডে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই উচ্চশিক্ষা, রাজনৈতিক আশ্রয়, বিভিন্ন বৃত্তিসহ নানা ভাবে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর মানুষের শিল্প সংস্কৃতির তীর্থভূমি ফ্রান্সে আগমন ঘটেশুরুতে এ সংখ্যা নেহায়েত হাতে গোনা হলেও বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজারের কোঠায়ফরাসি ভূখন্ডে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশ ও বাঙালি নামটা এখন বিশেষ গুরত্ব বহন করেএ দেশে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাসরত মানুষের মধ্যে বাঙালি জনগোষ্ঠী তাদের জীবনযাপন, পেশা, সরকারের আইনের প্রতি আনুগত্য, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি, অন্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি সন্মান প্রদর্শন ইত্যাদি কারণে স্বতন্ত্র এক ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেছে
এখানে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাজধানী প্যারিসে বসবাস করেএছাড়া তুলুজ, তুলোন, রেস্ট, মারছাইসহ ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও বেশ কিছু সংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে
স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালিদের অধিকাংশই রাজনৈতিক আশ্রয়ের মাধ্যমে স্থায়ী হয়েছেনএখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক, বাংলাদেশি রিফিউজি, ইমিগ্রান্ট, রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনপ্রার্থী পরিচয়সহ অনেকেই অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অবস্থান করছেন
পেশাগত দিক থেকে জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা ও রেষ্টুরেন্ট সংশ্লিষ্ট পেশার সাথে জড়িতএ ছাড়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ট্যাক্সিফোন ও আমদানি রপ্তানি ব্যবসা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অনেকেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেনএখানকার প্রশাসনিক কর্মকান্ডের সব কিছু ফরাসি ভাষায় পরিচালিত হয়ে থাকেতাই অনেক বাঙালি ফরাসি ভাষা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আয়ত্ব করে অনুবাদকের পেশার মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের সেবার পাশাপাশি নিজেদেরকে স্বনির্ভর করেছেনতারা এই পেশাকে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছেনপাশাপাশি আইন ব্যবসা, প্রশাসনিক কর্মী ও কর্মকর্তা এবং শিল্প সংস্কৃতির মতো সৃজনশীল পেশায়ও বাঙালিরা স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল


এখানকার প্রত্যেক বাঙালি জন্মভূমি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাস করলেও সবার বুকের এক কোণে বসবাস করে ছোট্ট একখন্ড বাংলাদেশস্ব স্ব পেশার পাশাপাশি শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজস্ব শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতি চর্চা ইত্যাদিতেও রয়েছে তাদের সরব উপস্থিতিবাংলাদেশের মতো এখানেও বাঙালির চিরাচরিত অনুষ্ঠানশহীদ দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজা এবং অন্যান্য উৎসবগুলোর আনন্দ প্রবাসীরা মিলেমিশে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়সাহিত্য সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনায় উদযাপন করে থাকে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিবসগুলোএছাড়া রবীন্দ্র-নজরুল ও অন্যান্য কবি সাহিত্যিকদের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিউনিটি সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন যেন এক দেশীয় আমেজের সৃষ্টি করেএখানে যে সব সংগঠন উল্লেখিত উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে তাদের মধ্যে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, ইয়ুথ ক্লাব, একুশে উদযাপন পরিষদ, স্বরলিপি শিল্পী গোষ্ঠী, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মাটির সুর, বাংলাদেশ ভিউ, কালচার প্লাস অন্যতমউল্লেখ্য বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র লাল টিপ ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী এনায়েত উল্লাহর প্রযোজনা ও প্রবাসী স্বপন আহমদের পরিচলনায় প্যারিসেই নির্মিত হয়েছেএছাড়া অনেকেই টিভি নাটক নির্মাণের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেনবাংলাদেশের অনেক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বসবাস এই ফ্রান্সেতাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুকাভিনেতা পার্থ প্রতীম মজুদার, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সনামধন্য আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন অন্যতম

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি অনেকেরই সাহিত্যচর্চার অভ্যাস রয়েছেসাহিত্যপিপাসু প্রবাসীদের উদ্যেগে মাঝে মাঝেই প্যারিস থেকে প্রকাশিত হয় গল্প, কবিতা ও ছড়া সংকলনউল্লেখ্য বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি মাইকেল মধুসুধন দত্ত ও লাল সালুখ্যাত ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লা ফ্রান্সের প্রবাস জীবনেই লিখেছেন অনবদ্য গল্প, কবিতা ও উপন্যাস


অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতায় এসেছে এক নতুন দিগন্তপ্রবাসীদের সুখ দুঃখ, আনন্দ বেদনা, সফলতা, অর্জন ইত্যাদি সম্বলিত সংবাদ এখন বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেফ্রান্সপ্রবাসী বাঙালিদের নানাবিধ সংবাদ তুলে ধরার জন্য নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণকেই দেখা যায় ফ্রিল্যান্স হিসেবে ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহের কাজেবিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশনকারীদের উদ্যেগে প্যারিসে একটি প্রেসক্লাব গঠনের চেষ্টা চলছেঅনেকেই প্যারিস থেকে নিয়মিতভাবে বাংলা পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা বের করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন


দেশের যে কোনো রাজনৈতিক সংকট ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো এখানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এখানে শাখা রয়েছেপ্রত্যেকেই যার যার দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে থাকেআবার অনেকেই স্বপ্ন দেখেন দেশের প্রচলিত রাজনীতির ধারা ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে একটি বাংলাদেশ গড়ারএর পরিপেক্ষিতে এখানকার প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রবাসীদের দেখা যায় দেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড, দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ব্যানার ফেস্টুন হাতে প্রতিবাদ জানাতে


প্রবাসী বাংলাদেশিরা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও যথেষ্ট রাজনৈতিক ও সমাজ সচেতনদেশের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় নির্বিকার বসে না থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেতাছাড়া এখানে অনেক সাদা মনের প্রবাসী রয়েছেনযারা প্রতিনিয়ত নিঃস্বার্থভাবে কমিউনিটির বিপদগ্রস্থ ও সমস্যাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন


আড্ডা দিয়ে ও খোশ গল্প করে সময় কাটানোয় বাঙালিদের বিশেষ জুড়ি রয়েছে, এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়প্যারিসের গারদো নর্থ, লাশাপেল, ক্যাথসীমা প্রভৃতি এলাকার রেষ্টুরেন্ট, ক্যাফে বার ও রাস্তার পাশগুলো প্রতিদিন জেগে ওঠে বাঙালিদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক আলোচনা ও হাসিঠাট্টায়যা ক্ষণিকের জন্য ভুলিয়ে দেয় প্রবাস জীবনের দূরত্বের কষ্ট


ফ্রান্সপ্রবাসী বাঙালিদের এখানে হাজারো সাফল্যগাথা, কর্মকান্ড ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু প্রতিকূলতাপ্রথমত প্রত্যেক বাঙালিকে এখানে এসে যুদ্ধ করতে হয় পৃথিবীর অন্যতম দুর্বোধ্য ফরাসি ভাষার সঙ্গেঅদক্ষ ভাষাজ্ঞানের কারণে প্রশাসনিক ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত হোঁচট খেতে হয়অনেক ক্ষেত্রে কাজ হারিয়ে বেকারও হতে হয়তাই নতুন করে যাঁরা ফ্রান্সে বসবাসের কথা ভাবছেন, তাঁদের উচিৎ এখন থেকেই ফরাসি ভাষা জ্ঞান অর্জনের ওপর বিশেষ গুরত্ব দেওয়া
অনেক বাংলাদেশিকেই ফ্রান্সে আসার পর প্রথম প্রথম তীক্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন ও মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় শুধু আইনগতভাবে চলার সঠিক দিক নির্দেশনা ও বৈধভাবে বসবাসের স্বচ্ছ্ব ধারণার অভাবেঅনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার নজিরও রয়েছেএই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের যৌথ প্রচেষ্টায় একটি বিশেষ সেবা বিভাগ খোলার বিষয়টি ভেবে দেখার সময় এসেছে


পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ফ্রান্সেও বেড়ে উঠছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মযাদের জন্ম এই ফ্রান্সের মাটিতেই এবং এদের শিক্ষা সংস্কৃতি ফরাসি পরিমন্ডলের মধ্যেএদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ফ্রান্স সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মে নিয়োগ হচ্ছেনযা বাঙালি কমিউনিটির প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত সুসংবাদতাছাড়া অনেক বাংলাদেশি নাগরিক এখানকার ফরাসি ও অন্য দেশের নাগরিককে বিয়ে করে সংসার করছে এবং তাদের ঘরে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠছে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রজন্মদুঃখের বিষয়, এখানে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের অধিকাংশই শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে, লিখতে, পড়তে এবং বলতে পারে নাএর কারণ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অন্যান্য দেশে বাংলা শিক্ষার বিভিন্ন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো ফ্র্রান্সের মাটিতে গড়ে ওঠেনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বাংলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএ ভাবে চলতে থাকলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এই নব প্রজন্মের অস্তিত্ব থেকে মুছে যাবে তার বাঙালিত্ব এবং হারিয়ে ফেলবে তার শেকড়ের সন্ধানতাই বিলম্ব না করে এখনি বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত উদ্যেগে কিছু বাংলা শিক্ষা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজনযাতে এই স্কুল থেকে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি, বাংলা কবিতা, গান ও শিল্প সাহিত্যচর্চার সুযোগ পায় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারে


অদূর ভবিষ্যতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা রেমিটেন্সের মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আরো বেশি বেশি অবদান রাখবেফরাসি ভূখন্ডে গড়ে তুলবে তথ্য প্রযুক্তি, মেধা ও জ্ঞান নির্ভর সমাজফরাসি জনগোষ্ঠীর নিকট জায়গা করে নেবে সুনাম ও আস্থার বিশেষ একটি স্থানএটাই প্রত্যাশা
মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ
প্যারিস, ফ্রান্স
ফরাসি ভূখন্ডে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী, প্রকাশ : প্রথম আলো

ফরাসি দেশে বাঙ্গালিরা, প্রকাশ : ই প্রথম আলো

ফ্রান্সে বাংলাদেশিরা কেমন আছেন? প্রকাশ : বেঙ্গললি টাইমস, কানাডা