সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
কট্টরপন্থী মনোভাব এবং দেশের চলমান প্রেক্ষাপট।
শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
প্রগতিশীল সাংবাদিক এবং ব্লগাররাই বিপ্লবের অন্যতম শক্তি।
বাংলাদেশের বিবেকবান নাগরিকদের মধ্যে এখন একটা উপলব্ধি দারুন ভাবে নাড়া দিচ্ছে, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় একটা শুভ শক্তির আবির্ভাব। বাংলাদেশের তৃতীয় শক্তি হিসেবে যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান রাজনৈতিক দল দুটির অপকর্মের জন্য চাপ সৃষ্টি করতো,সমালোচনা করতো,রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সমস্যার ব্যাপারে ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদমূখর হয়ে রাজপথ ব্যস্ত রাখতো এদের অধিকাংশই আজ পক্ষপাতদুষ্ট রোগে আক্রান্ত। এরা এখন রাজনৈতিক কৌশল নামক এক ছলাকলা বুঝ দিয়ে আওয়ামীলীগ ও বি .এন.পির ক্ষমতার তাবেদারি রাজনীতির সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং সুবিধার ছিটেফোঁটা নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবি ও সুনাগরিক আজ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের রাজনীতি আজ এমনভাবে হাঙ্গর কুমির দ্বারা গ্রাসিত যে সুস্থ মানুষিকতা নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা অনেক কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে এখন দুটি জিনিস অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে : প্রথমত রাজনীতি থেকে অপরাজনীতির ভাইরাস আক্রান্ত রাজনীতিবিদদের ছেঁটে ফেলতে হবে। আর এই দায়িত্ব সাধারন মানুষের হাতে এবং এজন্য দরকার সাধারন মানষকে রাজনৈতিক ও অধিকার সচেতন করে তোলা।
দ্বিতিয়ত রাজনীতির গুনগত মান উন্নয়ন করতে হবে। আর এজন্য দরকার রাজনীতিবিদদের গঠনমুলক আলোচনা সমালোচনার , উন্নত বিশ্বের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা এবং প্রয়োগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা। আর এই ব্যাপারগুলো আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে একেবারেই পরিলক্ষিত হচ্ছেনা , যা বোঝা যায় তাদের রাজনৈতিক পরিপন্থি বক্তব্য এবং মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা অদ্ভুদ ও বেকুব মার্কা মন্তব্য দেখে। আর নতুন করে যারা রাজনীতি যুক্ত হচ্ছে তাদেরকে গঠনমুলক রাজনৈতিক চর্চা ও গুনগত মানসম্পর্ণ নেতৃত্ব তৈরীর বিশেষ কোন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা মূল দলগুলোর মধ্যে নেই। নতুনদের ময়না পাখির মতো শেখানো হয় নিজের দলের নেতাদের গুনকীত্তন করা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের উপর হিংসাত্বক ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া। এর মধ্যেই তাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ। আর এভাবে চলতে থাকলে বাঙ্গালী এক সময় মাথা মোটা লাঠিয়াল জাতীতে পরিণত হওয়ার যতেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে।
মেধা ও প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা ছিলো তা বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একেবারেই পরিলক্ষিত হয়না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে একটি সুস্থ রাজনীতির ধারা এবং উন্নত মানুষীকতা সম্পর্ণ জাতি ও সমাজ গঠনের তাগিদ অনুভব করে নবরুপে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে দেশের প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগারবৃন্দ। শুধু তাই নয় , নীতিবর্জিত রাজনীতিবিদ ,খুসখোর আমলা ,রক্তচোষা মুনাফা ভোগী ব্যবসায়িদের যে কোন ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও এখন অন্যদের চেয়ে বেশী তৎপর ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে সাংবাদিক ও ব্লগারবৃন্দ।
এর একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হলো যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীর আজকের অবস্থান , যার অধিকাংশ কৃতিত্বই সাংবাদিক ও ব্লগারদের। বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামী সরকার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহন করে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করলেও প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগাররা বিভিন্ন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও পরিবেশন এবং গবেষনা ও বিশ্লেষনধর্মী লেখনীর মাধ্যমে সংবাদপত্র,ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও ব্লগের ময়দান প্রতিনিয়ত সরগরম রেখে জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এবং সরকারকে দাবী বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃ্ষ্টি করে চলেছে। যা রনাঙ্গনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তরোবারি চালানোর সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
আজ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে শাহবাগ স্কয়ার থেকে যে শ্লোগান পৌছে যাচ্ছে সাড়া দেশে ,এই শ্লোগান শুধু যুদ্ধাপরাধীর ও ঘাতক দালালদের ফাঁসী দাবী হিসেবেই দেখছিনা,এই শ্লোগান দেশ প্রেমিকের খোলশ লাগানো জাতীর নব্য রাজাকার ও আলবদর ঘাটিতে প্রথম আঘাত হিসেবেও দেখছি। এই অভিযানকে যারা তিলে তিলে সংগঠিত করে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে তারা কোন প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা বিনিময়ে কাজ করেনি কিংবা কোন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে কাজ করেনি। এরা দেশের নতুন প্রজন্ম,এরা দেশের মাটি এবং মানুষকে ভালোবাসে,এরা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে লালন করে সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে দাড়াতে প্রস্তুত, আর তাইতো তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের গৃহিনী থেকে শুরু করে স্কুলগামী শিশুটি পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে এসে একাত্বতা ঘোষনা করেছে এবং কোন রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলন থেকে ফয়দা লুটতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক অবস্থানে থেকে সরকার দলীয় মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে বোতল ছুরে বুঝিয়ে দিয়েছে জনসাধারনের হাটটিমাটিম টিম ছড়া শেখানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। তাছাড়া এদেরকে আরো বুঝিয়ে দিয়েছে কোন সহিংসতা ছাড়া কিভাবে দাবী আদায় করতে হয় এবং কিভাবে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হয়,ভালোবাসা পেতে হয়, গনমানুষের চাওয়াকে কিভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।
সাগর রুনী হত্যার বিচারের দাবীতে সাংবাদিক সমাজ দল মত নির্বিশেষে একাত্বতার সহিদ যে আন্দোলন করছে তাও জাতীর এক মঙ্গল বার্তা বহন করছে।
শুধু যুদ্ধাপরাধ ইস্যুই নয় দেশের চলমান পদ্মা সেতু দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেংকারি,হলমার্ক কেলেংকারি,সাগর রুনী হত্যাকান্ড, বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড ইত্যাদি সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও থেমে থাকেনি সাংবাদিক ও ব্লগারা, ঘটনার নেপথ্যে পৌছে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্লেষনের মাধ্যমে মানুষের সামনে উপস্থাপন করে ভন্ড রাজনীতির মুখস খুলে দিয়েছে। আর এই অভিযান অব্যহত রাখতে গিয়ে বিগত চার বছরে ১৩ জন সাংবাদিকে প্রান দিতে হয়েছে এবং ৫০০ শতাধিক সাংবাদিকসহ অসংখ্য ব্লগারকে শারীরিক নির্যাতন ও নানামুখী হয়রানীর স্বীকার হতে হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অনিয়মের প্রতিবাদের পাশাপাশী সামাজিক অবক্ষয় রোধে সাংবাদিক ও ব্লগারদের নানামূখী পদক্ষেপ দেশ প্রেমিক হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেছে। ধর্ষন,ইফটিজিং,এসিড সন্ত্রাস,মাদক এর মত ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা রোধে লেখালেখির পাশাপাশী মানব বন্ধন,ব্যানার,ফেষ্টুন সহ নানামূখী ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের ম্যাধ্যমে সচেতনতার সৃষ্টি করে সামাজিক বিপ্লবের পথ ত্বরান্নিত করছে। সেই সাথে দেশের শীতার্থ ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ আক্রান্ত মানুষের পাশে বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশী নুন্যতম সামর্থ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলছে।
গনমানুষের অধিকার আদায় ও পরিসুদ্ধ দেশ গড়ার যে স্বপ্ন হৃদয়ে ধারন করে সাংবাদিক ও ব্লগাররা জাতীকে আজ উজ্জিবিত করছে তা একদিন অবশ্যই সফলতায় পর্যভূষিত হবে। ফরাসী বিপ্লবের কথাই ধরুন, এই বিপ্লবের বীজ রোপিত হয়েছিলো লেখনীর মাধ্যমেই, তৎকালীন বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক ও সমাজ চিন্তাবিদ রুশো,ভোলতেয়ার,সাত্রে তাদের লেখায় তৎকালীন সামাজিক বৈশম্য, গীর্জার শাসকদের দৌরাত্ব ও প্রতাব,গনমানুষের নায্য অধিকার, করের টাকায় রাজাদের বিলাসী জীবন যাপন,অনিয়ম,দুর্ণীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে উঠে আসে। যা খেটে খাওয়া, অধিকার বঞ্চিত ফরাসীদের মধ্যে অধিকার সচেতন ও সমাজ সচেতনতার সৃ্ষ্টি করে এবং এই সচেতনতাই ধীরে ধীরে ফরাসীদের মধ্যে অগ্নীস্ফুলিঙ্গের রুপ ধারন করে যা পরবর্তিতে দাবানলের মত সমস্ত ফ্রান্সকে দাহন করে। যার ফলাফল স্বরুপ অসংখ্য প্রানের আত্নহুতি বিনিময়ে ফ্রান্সের আজকের এই প্রজাতন্ত্র এবং অসাধারণ এক মানবাধিকার রাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার সুনিশ্চিৎ হয়েছে।
যেসব সাংবাদিক ও ব্লগার দেশকে ভালোবেসে সুশাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন হাতে নিয়ে প্রতিদিন মেধা ও শ্রম ঢেলে দিচ্ছেন তাদেরকে বিপ্লবী সালাম ও পূর্ণ সমর্থন। আর যারা এখনো সুবিধাভোগী রাজনীতির পক্ষপাতিত্ব করে সুবিধাভোগীদের অবস্থান সুদৃড় করার নেশায় মত্ত আছেন তাদের প্রতি আহবান আসুন আজকের এই গনজোয়ারের মিছিলে সামিল হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনকে বেগবান করি এবং গনমানুষের অধিকার সুনিশ্চৎ দেশ গড়ি।
সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
প্যারিস ভ্রমণসূচীতে এক দিনের জন্য রাখুন Maison du parc, La courneuve
পার্কটির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, জলখাবার এবং মিষ্টান্ন জাতিয় খাবারের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, পিংপং টেবিল,পথ নির্দেশক প্রদর্শনী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্যারিসের বিভিন্ন স্থান থেকে আপনি এখানে আসতে পারেন :
RER: RER বি Orly – প্যারিস – চার্লস দে Gaulle কেন্দ্র Aubervilliers – লা Courneuve তারপর বাস লাইন 249, স্টপেজ সিতে ফ্লরিয়েল।
বাস: লাইন 249: PORTE দে লা Villette (মেট্রো) / Dugny – শহরের মিল অফ কবরস্থান।
লাইন 250: ফোর্ট d’Aubervilliers (মেট্রো) / Gonesse – লা ফন্ট. Cypière – Zi স্টপ ক্রিড়া পার্ক।
পার্কটি খোলা থাকে: January-February: 7h30-18h00. March: 7:30 a.m. to 7:00 p.m., April: 7:30 a.m. to 8:30 p.m., May to August: 7:00 a.m. to 9:00 p.m. September: 7:30 a.m. to 8:00 p.m., October: 7:30 a.m. to 7:00 p.m., November-December: 7:30 a.m. to 6:00 p.m.
আপনাকে Maison du parc,La courneuve এর সৌন্দর্য্য উপভোগের আমন্ত্রন রইলো।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-20/news/362187
শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৩
তুমি এসো
Come
শনিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৩
প্রকৃতির এক অকৃত্রিম অলংকারে সেজেছে প্যারিস
শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২
শ্রমজীবীর অধিকার জিম্মি,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ রাজনীতির পূঁজি
জাতিকে আজ স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ শব্দগুলি দিয়ে নানা ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।কিন্তু এই পক্ষ বিপক্ষের শক্তির কর্মকান্ডের মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়না। যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করছে তারাও মানুষ খুন করছে ,দেশের সম্পদ লুটপাট করছে আবার যাদেরকে বিপক্ষের শক্তি হিসেবে প্রচার করা হয় তারাও ক্ষমতায় গিয়ে একই কাজ করছে। এই পক্ষ বিপক্ষ মিলে সাধারণ মানুষের মান দাড় করিয়েছে পিপড়া সমতুল্য , যেন ইচ্ছে করলেই একটা ডলা দিয়ে মেরে ফেললে কোথাও কৈফিওত দেয়ার দরকার নেই। এই কথিত পক্ষ বিপক্ষের শক্তি দেশের মানুষের কিছু অনুভূতিকে মার্কেটিং পলেছি হিসেবে ব্যাবহার করে ক্ষমতার পালাবদল করে যাচ্ছে এবং ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিনিয়ত ১৬ কোটি মানুষের অধিকারের সাথে প্রতারনা করে চলছে।
৭১ এর ঘাতক দালাল ও মানবতা বিরোধীদের বিচার আমাদের প্রানের দাবি। জনগনের এই প্রত্যাশাকে পূঁজি করে ব্যাপক জয় জয়কারের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসলো স্বাধীনতার ধারক বাহক দাবিদার আওয়ামীলীগ সরকার। ক্ষমতায় এসেই শুরু করলো এই বিচার প্রক্রিয়া। আমাদেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ রয়েছে যারা ৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার বলতেই পাগল হয়ে যায় আর কোন জ্ঞান থাকেনা। আওয়ামীলীগ সরকার এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে জাতিকে বোকা বানিয়ে শেয়ার বাজার কেলেংকারী করলো,পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্ণীতি করলো,হলমার্ক কেলংকারি করলো,৭১ এর মানবতা বিরোধী বিচারের আশ্বাস দিয়ে প্রতিদিন তাজা তাজা প্রানের খুন উপহার দিলো,বিশ্ব মানবতাকে লাথি মেরে মধ্যযুগীয় বর্বরদের মতো পুলিশ প্রশাসনকে প্রহরায় রেখে নিজস্ব পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগকে দিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করালো। প্রতিদিনের তাজা খুনের বিচারের দাবিতে,এই সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা অনেকেই কথা বলিনা,স্বোচ্চার হইনা কারন এরা ৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার করছে,এসবের বিরুদ্ধে দাড়াতে গেলে যদি বিচার বাধাগ্রস্থ হয়। আমাদের সৌখিন বুদ্ধিজীবীদের আচরনে এটাই প্রকাশ পেলো, দেশ রসাতলে যাক কিন্তু বিচারের ব্যাপারে সরকারের সমস্ত মন্ত্রণালয় নিজস্ব কাজ কর্ম ফেলে ৭১ এর বিচার বিচার বলে চিল্লাপাল্লাতো করছে এটাই যেন তাদের শান্তি। এভাবে আমাদের আমাদের সৌখিন বুদ্ধিজীবীদের খুশি করে, তাদেরকে বোকা বানিয়ে আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী নেতা ও তাদের সহযোগীরা বিগত চার বছরে দেশকে লুটপাটের যা করার করে নিয়েছে আর খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ উপহার পেয়েছে ক্ষুধা ,দারিদ্রতা,বেকারত্ব,মুদ্রাস্ফিতি,আর তাজা তাজা প্রাণের বলী। ৭১ এর ঘাতকদের বিচারকার্য এই সরকার আসলেই কি করবে ?নাকি আবার ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাটের জন্য ইস্যু হিসেবে ঝুলিয়ে রাখবে, এটা সময়ই বলে দেবে।
দেশের এমন অবস্থায় সাধারন মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে ,মুক্তির পথ খুজে পাচ্ছেনা। মানুষের দুরাবস্থাকে পুঁজি করে রাজনীতির মাঠ দারুন ভাবে গরম করে রেখেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি আর তাদের মাথার উপর ছাতা ধরে আছে ৭১ এর মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহকারী দল জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত বি .এন.পি কে ব্যবহার করছে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য আর বি .এন.পি জামায়াতকে ব্যবহার করছে ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে সুগম করার জন্য। বি.এন.পি জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হয়তো আবারো দেখা যেতে পারে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চাইনি বরং মুক্তিযোদ্ধাদের পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সহায়তা করেছে তাদের গাড়িতে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা পতপত করে উড়বে, তারা এই দেশটাকে শাসন করবে । এই অপমান,এই গ্লানি জেনেও সাধারন মানুষ হয়তো আগামী সংসদ নির্বাচনে বি .এন.পিকে ভোট দেওয়ার চিন্তা করছে। দিশেহারা হয়ে ভাবছে বর্তমান পেক্ষাপট থেকে বাঁচার এটাই সঠিক পথ,মুক্তির পথ। মুক্তির আশায় সাধারণ মানুষ যাদেরকে ক্ষমতায় পাঠানোর কথা ভাবছে তাদের অনেকেই এখন থেকেই দোকানে বাকী খাওয়া শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতায় গিয়ে পরিশোধের আশায়। তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো এখন থেকেই টেন্ডার-বাজীর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ক্ষমতায় পৌঁছানোর পর দেখা যাবে বিগত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক হয়রানির প্রতিশোধ গ্রহনের মহোৎসব,যেসব রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে সেই সব সাইনবোর্ড নামিয়ে নতুন সাইনবোর্ড উঠানোর ফিতাকাটা অনুষ্ঠান, লুটপাট,হত্যা,দলীয়করণ ইত্যাদি অপকর্ম। তখন আমাদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির দাবিদার আওয়ামীলীগের দেশপ্রেম উতলে উঠবে,অতীতের সমস্ত অপকর্ম ভুলে গিয়ে বি.এন.পির অপকর্ম ঠেকাতে রাস্তায় নামবে ,৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার কার্যকর করার জন্য আবারো আমাদের সৌখিন বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে মানবন্ধন করবে,দেশ বিদেশে জনমত তৈরি করবে,হরতাল করবে,রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধংস করবে। এভাবেই হয়তো আরো পাঁচটি বছর পার হয়ে যাবে,মাঝখানে বি.এন.পি ও তার শরীকদের নেতা ও সুবিধাভোগীরা লুটপাট ও অপকর্মের যতটুকু দরকার তা করে নেবে। শ্রমজীবি সাধারন মানুষ আবারো ফাঁকির মধ্যে পড়বে আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ধীরে ধীরে মুদি দোকান হওয়ার উপক্রম হবে।আর এত সব অপকর্ম দেশের এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ নিরব দর্শকের দেখবে আর বলবে দেশ যাই হোক জামায়াত বি .এন.পি ইসলামের কথা বলছে,ইসলাম রক্ষার কাজ করছে।
দেশ বিজয়ের ৪১ বছরে পা রাখলেও এখনো স্ব-অর্থায়নে একটি পদ্মা সেতু নির্মানের যোগ্যতা অর্জন করেনি। সরকার পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে হাত পেতেছে। সাধারণ মানুষ দেশের ভালোবাসার জায়গা থেকে সরকারের ডাকে সাড়া দিয়েছে কিন্তু দেশের এই দুর্দিনে আমাদের ক্ষমতাসীন দলগুলো কি সাধারণ মানুষের ডাকে সাড়া দিচ্ছে ? দেশ এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের সরকার কালবার্ড নির্মাণের জন্যও জনগনের কাছে হাত পাততে পারে, বর্তমানের অবস্থা থেকে রাষ্ট্র পরিণত হতে পারে মোড়ল রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। এখন প্রতিনিয়তই দেখা যায়, রাষ্ট্রের যে ধরনের দুর্যোগে আমাদের সরকারগুলো দেশের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত পাতে। আমার কাছে ব্যাপারটা খুবই লজ্জাজনক লাগে, শ্রমজীবী শ্রেনী,সাধারণ মানুষ কি ভিক্ষুক যে বিত্তবানদের অনুগ্রহ গ্রহন করবে?,তাদের কি আত্নসন্মান নেই ? বাংলার শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাওয়া শিখেছে,চুরি করা শেখেনি,তাদের আত্নসন্মানবোধ আছে। শ্রমজীবী শ্রেনী দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছে, শ্রমজীবী শ্রেনী চায় তাদের বিপদে রাষ্ট্র সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে,কোনো বিত্তবানের ভিক্ষা নয়। আমাদের সরকারগুলো বিত্তবানদের কাছে হাত পাতে তাদের অধিকারের জায়গা থেকে কারন প্রতিটি সরকারই যেমন দুর্নীতি করে ব্যক্তিগত অর্থ বিত্ত বানায় এবং তাদের আত্নীয় স্বজন ও দোসরদেরকেও সুযোগ করে দেয় আরার এই হারাম টাকাকে হালাল করার জন্য প্রতিটি সরকারই বাজেট ঘোষনার সময় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টিও করে রাখে। এভাবে তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গরিব বানিয়ে,শ্রমজীবী শ্রেনীর রক্ত চুষে আজ অনেক বিত্তবান তৈরি করেছে। আবার বিত্তবানদের কাছ থেকে সরকার সাধারণ মানুষের জন্য সাহায্যে গ্রহন করে দুর্নীতিগ্রস্থ বিত্তবানদের দেশপ্রেমিক,হৃদয়বান,দানশীল উপাধীতে সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সরকারগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকায় আমাদের দুর্নীতিগ্রস্থ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ প্রেমিক বলতে কুন্ঠাবোধ করেননা।
একবার গ্রামের একটি বাজারে ঘুরতে গিয়েছিলাম। বাজারের মধ্যে দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখ আটকে গেলো এক কৃষকের দিকে , কৃষক কাঁচা কলা বিক্রি করছে দু টাকা হালি। কৃষকের সঙ্গে তার বাচ্চা ছেলের নাক দিয়ে অনবরত সর্দি ঝড়ছে । ছেলেটি বাবার কাছে আবদার করছে ,আব্বা চপ খাবো কিন্তু কৃষক ছেলেকে সাত পাঁচ বুঝিয়ে শান্ত করে রাখছে।কৃষকের চিন্তা কলা বিক্রি করে আগে ২ কেজি চালের পয়সা জোগার করতে হবে তার পর ছেলের বায়না মেটানোর কথা ভাবতে হবে।কৃষক ঐ দিন ছেলের একটা চপের আবদার পূরন করেছে কিনা ,২কেজি চাল কিনতে পেরেছে কিনা আমি জানিনা।গল্পটা এজন্য করলাম কারন এটাই বাংলাদেশের প্রকৃত সামাজিক প্রেক্ষাপট আর কৃষকের ঐ কাঁচা কলা আমাদের অর্থনীতি। এই কৃষকের মত দেশের লাখ লাখ মানুষ আজ বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার থেকে বঞ্চিত।ঢাকার আলো ঝলমল জীবনের মাঝে আমাদের অনেক কিছুই বোধগম্য হয়ে উঠেনা।
দেশের বুদ্ধিজীবি ও বিবেকবানদের কাছে আমার প্রশ্ন দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবি সাধারণ মানুষ আর কতকাল এই সব দুর্বৃত্ত সরকারগুলোর গোলামী করবে ?যে দেশের মানুষের এখনো তিন বেলা খেয়ে পড়ে বাঁচার যোগ্যতা অর্জন করেনি সেই দেশের এক শ্রেনীর মানুষের গুলশান বনানীর বিলাশ বহুল জীবন আসে কোথা থেকে ?যে দেশের প্রধান মন্ত্রীকে প্রতিদিন সংবাদ পত্রের পাতায় খুনের খবর পড়ে দিনের কার্যদিবস শুরু করতে হয় সেই দেশের প্রধান মন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মুখ হাস্যজ্জল থাকে কিভাবে ?এখনো কি সময় আসেনি, এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলে, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির পথ খোজার ? পরিশেষে বলতে চাই,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
শুধু শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নয়,
শুধু বিশেষ দিনে আলোচনার ঝড় তোলা নয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
কোন শিশু বাংলাদেশের বুকে ঋনের বোঝা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হবেনা।
কোনো বাঙ্গালী অন্য বাঙ্গালীর বুকে আর গুলি চালাবে না।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
সুশিক্ষা ও প্রযুক্তির হাত ধরে বাঙ্গালী জাতির অগ্রযাত্রায় পথে হেঁটে চলা,
জাতীয় স্বার্থে দল মত ভুলে গিয়ে এক সুরে কথা বলা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১২
ভালোবাসা নেই
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১২
আর একটি বিপ্লবের আহবান
৭১ এ যুদ্ধ করেছি,
রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি একটি মানচিত্র,
একটি স্বাধীন জাতিস্বত্বা।
কিন্ত, পেয়েছি কি অর্থনৈতিক মুক্তি ?
শ্রেনী বৈষম্যহীন সমাজ ?
আমার বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার ?
নিঃপেষিত বাঙ্গালী
আবারো হাতিয়ার তুলে নাও
রাইফেল তাক করো ওদের দিকে
এবং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো,
যারা তোমাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে বীমা কোম্পানির অর্থ আদায় করে ,
আর তোমার দগ্ধ লাশের মূল্য নির্ধারণ করে ২০০০০ টাকায়।
ওরা তোমার রক্তকে ঘামে রুপান্তরিত করে পূঁজির পাহাড় গড়ছে
আর তোমাকে ক্ষুধার্ত কুকুরের মত হাড্ডি ছুরে দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে রেখেছে।
ওরা মানুষ নয়
ওরা সুকৌশলী রাক্ষস
তোমাদের রক্তই ওদের খাদ্য।
তোমার ঘামে উৎপাদিত শষ্যে ওদের পেট ভরে,
অথচ ৫০০০ টাকার ঋণের দায়ে কোমরে দড়ি পরিয়ে
তোমাকে লক আপে ডুকিয়ে দেয়।
তুমি দিন রাত মিলকারখানার চাকা ঘুরিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখো,
অথচ ঐ অর্থ ওরা লুট করে বিদেশে পাচার করে
আর রঙিন পাগলা পানিতে মাতাল হয়ে
ফাইভ ষ্টার হোটেলের বেশ্যার কোলে ঢলে পড়ে।
ওরা তোমার স্বাধীনতার কোমল অনুভূতিকে পূঁজি করে ক্ষমতায় গিয়ে
স্বাধীনতা বিরোধী কাজ করে।
ওরা তোমার পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতিকে পূঁজি করে ক্ষমতায় গিয়ে
অধর্মের কাজ করে।
ওরা দেশ প্রেমের কথা বলে দেশের সম্পদ বেনিয়াদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য
দেশবিরোধী চুক্তি করে ,
আর নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাছিল করে।
ওদের মুখস উন্মোচন করতে গেলেই
ওরা ঠান্ডা মাথায় বুদ্ধিজীবী হত্যা করে ,
সাংবাদিক হত্যা করে।
ওরা ২৫শে মার্চের হানাদারদের চেয়েও ভয়ংকর।
ওরা তোমার হাতে তিলে তিলে গড়া কলকারখানা নিলামে বিক্রি করে
তোমাকে বেকার করে রাস্তায় নামিয়েছে।
ওরা প্রতারনার ফাঁদ পেতে তোমার বেঁচে থাকার সর্বস্ব পূঁজিটুকু পূঁজিবাজার থেকে লুট করেছে ,
তোমার মধ্যবিত্তের সন্মানটুকু কেড়ে নিয়ে ভিক্ষুকের সারিতে দাড় করেছে।
এবার হাতিয়ার তুলে নাও এরং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো
যতক্ষণ না জাতির এই নব্য রাজাকার ,আলদরদেরর নিশ্চিহ্ন ঘটে।
জাতির অহংকার ঐ ৭১ এর বীর প্রতীক ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষার ঝুলি হাতে দ্বারে দ্বারে ঘোরে ,
ফেলানীর লাশ ঝোলে ভারতের কাঁটাতারে।
এ লজ্জা আর কত কাল বয়ে বেড়াবে।
এবার হাতিয়ার তুলে নাও এরং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো
যতক্ষণনা শরীর থেকে অপমানের জ্বালা মেটে।
ওরা সমাজতন্ত্রের কথা বলে সমাজবিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতার হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ওরা সুস্থ মস্তিস্কে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর জন্য তোমাকে চলন্ত ট্রেনের দিকে ঠেলে দিয়ে কাটা লাশ বানিয়ে বলি দিচ্ছে।
ওরা বিশ্বমানবতাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তোমাকে দিয়েই তোমার ভাইকে লগি বৈঠার আঘাতে হত্যা করাচ্ছে।
ওরা তোমার দরিদ্রতা ও কঙ্কালসার দেহকে প্রদর্শন করে দাতা সংস্থার ভিক্ষা এনে ভোগ করছে।
ওরা মরিয়ম ,জরিনা,ছকিনা,কালুমিয়ার যন্ত্রনাকাতর দেহকে অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে রেখে দর কষাকষি করে।
ওরা শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে বিভিন্ন ব্যান্ডে বাজারজাত করছে,
দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে বানিয়েছে এক একটি সামরিক ঘাটি
গ্রন্থের বদলে সরবারহ করছে অস্ত্র গোলাবারুদ
শিক্ষার বদলে চলছে সশস্ত্র মহড়া
আর সম্মুখ সমরে তোমাকে দিয়েই তোমার ভাইকে হত্যা করিয়ে ওদের ক্ষমতার কালো সিংহাসন পাকাপক্ত করছে।
এবার অস্ত্রের নিশানা তোমার ভাইয়ের বুক থেকে ঘুরিয়ে ওদের দিকে তাক করো
এবং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো
যতক্ষণ না ওদের সমূলে বিনাস ঘটে।
৫৫৫৯৯ বর্গমাইল সীমানার পবিত্র ভূমির প্রতি সেঃমিঃ ভূমি তোমার,
দেশের প্রতিটি অবকাঠামো তোমারই ইস্পাত হাতে গড়া ,
ঐ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে শক্ত হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার তোমারও আছে।
ভগ্নস্তূপের উপর দাড়ানো ক্যান্সার আক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে দুমরে মুচরে এবার তোমার হাতেই সাজাতে হবে।
হে নিঃপেষিত ,নিপীড়িত,নিরন্ন,প্রতারিতও প্রবঞ্চিত বাঙ্গালীর দল,
এবার ঐ ৪৭,৫২,৬৭,এবং৭১ এর দিকে ফিরে তাকাও,
প্রতিটি শহীদের নামে শপত গ্রহন করো, এবং
জাতির এই ক্রান্তিকালে সুশৃংখল সৈনিকের মত এক সারিতে দাঁড়িয়ে রাইফেল হাতে তুলে নাও
এবং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো ,
যতক্ষননা শাসনের নামে শোষন চলতে থাকে
যতক্ষন না তোমার বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত হয়।
রবিবার, ১৫ জুলাই, ২০১২
তুমি আছো
তুমি আছো
তাই বেঁচে আছে আমার প্রাণ
আমার ছিন্নবাধা পলাতক মন,
তুমি আছো
তাই আজও আমার শিরা উপশিরাগুলো শিহরিত হয়,
অনুভূতি জাগায়
রক্তে ভালোবাসার ভাইরাস প্রবাহিত হয়।
তুমি আছো
তাই আজও আমি স্বপ্ন দেখি কয়েকটি সোনালী দিনের,
ফুলে শোভিতো একটি বাসর শয্যার।
তুমি আছো
তাই আজও আমি দুর্বা ঘাসের টলমলে শিশিরের স্নিগ্ধতা অনুভব করি,
অনুভব করি তোমার লজ্জারাঙ্গা মুখ
ভাসা ভাসা দুটি চোখ,
উদাসী জানালার পাশে বাতাশে উড়া তোমার একগুচ্ছ কেশ
আর তোমার উষ্ণ পরশ।
তুমি আছো বলেইতো
আজও আমার কলম চলে
গল্প কবিতা আর উপন্যাসের খাতায়।
প্রতিক্ষা
কিন্তু হারিয়ে যায়নি তোমার স্মৃতির পান্ডুলিপি
আমার হৃদয় থেকে।
তাইতো এই মন আজও তোমাকে খোঁজে
কখনো পাখিদের মেলায়
কখনো জোনাকিদের আলো আধারের মাঝে।
চাঁদের আলো দিয়ে খুজেছি তোমায়
কখনো গ্রহ নক্ষত্র
আবার তারাদের ভীড়ে।
খুঁজে পাইনি
তবুও হতাশায় নুয়ে পড়েনি আমার জীর্ণ শরীর,
খুঁজেছি তোমায় নদীর পাড়ে গ্রামে গ্রামে
কখনো সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের মাঝে।
খুঁজে পাইনি তোমায়,
আজ আমি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত।
মাঝে মাঝে মনে হয়
তুমি আছো
এই পৃথিবীর অদৃশ্যের মাঝে
না হয় মিশে গিয়েছো এই বাংলার সরশ মাটির বুকে
তবুও তোমার প্রতিক্ষায় থাকবো
আমার হৃদয় জানালা খুলে।
তোমাকে ভাবি
যখন নিকোশ কালো অন্ধকারের ঘোর কাটে না,
যখন সূর্য্য তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে ভূপৃষ্ঠে আলো ছড়ায় না,
তখন আমি একান্ত নিজের করে তোমাকে ভাবি।
যখন মানুষ জীবিকার সন্ধানে বাহির পানে ছোটে,
যখন অজানা গন্তব্যের সন্ধানে আমি ছুটে বেড়াই দিক হতে দিগন্তে,
তখন একান্ত নিজের করে আমি তোমাকে ভাবি।
যখন মানুষ সারাদিনের কর্মক্লান্তি শেষে ফেরে আপনজনের কাছে,
যখন পাখি উড়ন্ত দুর্বল ডানা নিয়ে ফেরে আপন নীড়ে
যখন দিগভ্রান্তের মত নিরাশায় আমার জীর্ন কুটিরে চরন রাখি,
তখন একান্ত নিজের করে তোমাকে ভাবি।
যখন মানুষ পরিশ্রান্ত অলস দেহটাকে এড়িয়ে দেয় প্রেমার্ত মাটির বুকে,
যখন ঝিঝি পোকা বোবা প্রকৃতিকে শোনায় ঝিঝি শব্দ
যখন জোনাকীরা মৃদ মন্দা আলো ছড়িয়ে খেলা করে
যখন চন্দ্র তার লজ্জা রাঙা মুখখানি মেঘের আড়ালে ঢাকতে চায়
তখন আমার চোখ দুটি তন্দ্রায় ঢলতে থাকে,
তখন আমি বালিশের উপর মাথা রেখে
একান্ত নিজের করে তোমাকে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি।

