মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩

বর্ষনমুখর দিনে জরদা দো এক্লিমেসিও পরিদর্শন



দুদিন ধরে মনে হচ্ছে প্যারিসের প্রকৃতিতে যেন বাংলাদেশের মতো আষাঢ়-শ্রাবণের ছোঁয়া লেগেছেকখনো ঘনবর্ষণ আরার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ার দৃশ্য দেহ-মনে এক অন্য রকম আচ্ছাদন এনে দিচ্ছেযখন বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে ঘুম ভাঙল, তখন মনে হচ্ছিল আমি বাংলার কোনো অজপাড়াগাঁয়ের শণবন ও বাঁশের তৈরি কোনো কুঁড়েঘরে শুয়ে আছি বর্ষণমুখর এক প্রভাতবেলায়বৃষ্টির কারণে ঠান্ডার প্রকোপটাও বেড়ে গিয়েছেতাই অলস দেহটা বারবার গৃহমুখী হতে চাচ্ছিলমনে হচ্ছিল, আজ গৃহবন্দী হয়ে স্মৃতিচারণা করব, প্যারিসের প্রকৃতি থেকে একচিলতে বাংলার বর্ষার স্বাদ নেবপ্যারিসে বৃষ্টি হলে এখানের রাস্তাঘাট অনেকটাই জনমানবশূন্য হয়ে যায়ক্যাফে বারগুলোর আড্ডা তেমন জমে ওঠে নাবৃষ্টির প্রকৃতিতে অধিকাংশ ফরাসির মন বিষণ্নতায় ছেয়ে ফেলেফরাসি সাহিত্যেও বৃষ্টির প্রকৃতিকে তেমন ফুটিয়ে তোলা হয়নিকারণ, এই বৃষ্টি ফরাসি জনগোষ্ঠীর কাছে অপন্দের বিষয়গুলোর মধ্যে একটিঅপর দিকে বাংলার প্রকৃতিতে বৃষ্টি এক অপরূপ নান্দনিকতার নামতাই তো রবীন্দ্র, নজরুল এবং অন্যান্য কবির কাব্য-গানে বর্ষা ও বৃষ্টির প্রকৃতিকে নানা রং ও ঢঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছেআর এই অপরূপ নৈসর্গিক প্রকৃতির মধ্য দিয়ে আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অমিয় সুধা পান করাতাই তো এই সুদূর প্রবাসে বসেও বৃষ্টি দেখলে আমি ফিরে যাই সেই ছেলেবেলার বর্ষার নদীর পাড় ধরে দৌড়ে একঝাঁক বালকের ন্যাংটা হয়ে ঝাঁপ দিয়ে ডুবসাঁতার খেলার দলে, বৃষ্টিভেজা ফুটবল খেলার মাঠে, হারিয়ে যাই পড়ার টেবিলের সামনে জানালা খুলে ফুল বাগানের ফোটা ফুলগুলোর বাতাস বৃষ্টি সংমিশ্রিত দোল খাওয়ার রোমাঞ্চিত দৃশ্যেএ যেন না পাওয়ার মাঝে হাতড়ে কিছু খুঁজে পাওয়ার সান্ত্বনা২৫ আগস্ট রোববারছুটির দিনবিছানায় শুয়ে স্মৃতি রোমন্থন করছিলামকিন্তু সে স্বাদ আজ আর বেশি নেওয়া হলো নাপ্যারিসের কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের বন্ধু মিলে সেদিন আয়োজন করেছিল এক ব্যতিক্রমী ভ্রমণ কর্মসূচিপরিদর্শন স্থান ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন কর্তৃক নির্মিত জরদা দো এক্লিমেসিও উদ্যানতাই পরিদর্শক দলের একজন হিসেবে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এবং সব স্মৃতিরোমন্থিত সুখানুভূতির পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম জরদা দো এক্লিমেসিও পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে১৮৬০ সালের ৬ অক্টোবর ভ্রমণার্থীদের জন্য এই উদ্যানটি খুলে দেওয়া হয় এবং এটিই প্যারিসের সবচেয়ে পুরোনো উদ্যানপ্রায় দুই মিলিয়ন ভ্রমণার্থী পরিদর্শিত উদ্যানটিতে প্রবেশের পর চোখে পড়ল ময়ূরের অবাধ বিচরণহরিণের দ্বিধাহীন মুক্ত চলাচলপাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত বিশেষায়িত গৃহপালিত পশুর খামার; উট, গরু, ছাগল, গাধা ইত্যাদি আমাদের পরিদর্শক দলের সবাইকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেসেই সঙ্গে বয়ে চলা  লেকের স্বচ্ছ জলে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন এক বাড়তি মুগ্ধতা এনে দেয়সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির বর্ষণ নিঃশেষ হয়ে গেল এবং আমরা অবস্থান নিলাম উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত একটি ক্যাফে বারেসবাই এই ভ্রমণের উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করল নিজস্ব অনুভূতি থেকেসিদ্ধান্ত হলো, এই সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক বন্ধুরা কর্মক্লান্ত দেহ-মনকে উজ্জীবিত করার জন্য প্রতি মাসে একদিন এভাবেই বেছে নেবে ঐতিহাসিক কিংবা বিশেষ কোনো স্থান এবং ভ্রমণের বর্ণনা ও ছবি প্রকাশ করা হবে বিশেষ একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে
উল্লেখ্যএই আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্স উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান এবং সঞ্চালকের বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত একজন বাঙালি বধূ

প্যারিসে বাংলার বর্ষার স্বাদ, প্রকাশ: দৈনিক প্রথম আলো ০৭.০৯.২০১৩
প্যারিসে বাংলার বর্ষার স্বাদ, প্রকাশ: দৈনিক ইপ্রথম আলো ০৭.০৯.২০১৩

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৩

নিস্তব্ধ রাতের ফরাসি জনপথ......

DSC_2481 by Muhammad Golam Morshed
DSC_2481, a photo by Muhammad Golam Morshed on Flickr.
বনের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা নিস্তব্ধ রাতের ফরাসী জনপথ.................ছবিটি Château de Vincennes থেকে তোলা।
morshed's photography

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

হে মহাবীর, তুমি ক্ষমা করে দিয়ো....

আজ শোকাবহ ১৫ই আগষ্ট। আমরা এমনই এক হতভাগা ও বিশ্বাস ঘাতক জাতি, পৃথিবীতে বিরল। যে মানুষটা আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিলো,উপহার দিলো এক খন্ড সার্বভৌম মানচিত্র, জাতীর সেই সূর্য্যসন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , আমরা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছি। লজ্জায় আজ মাথানত হয়ে যায় । হে মহাবীর , তোমার রেখে যাওয়া এই অকৃজ্ঞ জাতীকে তুমি ক্ষমা করে দিয়ো। ব্রিজ , কালভার্ট কিংবা কোন ভবনের নামফলকে নয় , বাঙ্গালী জাতির অস্তিত্ব যতদিন রবে এই পৃথিবীর বুকে , ঠিক ততদিন তুমিও রবে বাঙ্গালীর চিন্তা চেতনা ও মননে গভীর শ্রদ্ধাভরে। আজকের এই দিনে, হে মহাবীর তোমাকে স্বশ্রদ্ধ সালাম ….............

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৩

ভুল শুধরে আবার ফিরে আসবে আশরাফুল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোঃ আশরাফুল ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিজের আত্ন উপলব্ধি থেকে অবলীলায় স্বীকার করে বীরত্বের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। মানুষ কোন কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে রিপুর তারনায় অপরাধ করে ফেলে। এই অপরাধের ফলে যদি কারো মধ্যে আত্নসূচনা হয় এবং ভূল শুধরে সঠিক পথে চলে আসে, তবেই সে মহত্বের পরিচয় দিলো। আশরাফুল তার বয়স অনুপাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন। হয়তো তার অপরিপক্ক বুদ্ধির কারনে একটা ভূল করে ফেলেছে এবং সে অনুতপ্ত । এই একটি ভুলের জন্য তার সমস্ত অবদান ও ত্যাগ ম্লান হয়ে য়েতে পারেনা। আমাদের প্রত্যাশা আশরাফুল তার সমস্ত ভুল শুধরে নবরুপে আবার তার ভক্ত ও ক্রিকেট প্রেমিদের মাঝে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং তার পরিস্থিতি থেকে দলের অন্যান্য সদস্যরা শিক্ষা গ্রহন করে এ জাতিয় ক্রিকেট অপরাধ থেকে নিজেদেরকে সতর্ক দুরত্বে রাখবেন। আমাদের উচিৎ তার এই দুঃদিনে তাকে ভৎসনা না করে তার পাশে থেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। সেই সাথে কামনা করি, আশরাফুলের মত আমাদের সমস্ত চরিত্রহীন রাজনীতিবিদের তাদের সমস্ত অপর্মের জন্য আত্ন উপলব্ধি হউক এবং সংশোধিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করুক।http://www.amarblog.com/MorshedMehjabin/posts/168923

জন্মগত ভাবে ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় যথার্থ নয়, ধর্মীয় দর্শন চর্চা ও পালনের মধ্যেই ধার্মিকের পরিচয়।

প্রতিটি মানুষ যে গোত্র বা সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহন করে থাকে স্বাভাবিক দৃষ্টিকোন থেকে প্রত্যেকে নিজ নিজ গোত্রের পরিচয় বহন করে থাকে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব দর্শন রয়েছে এবং অনেকেই তার গোত্রীয় দর্শন চর্চা এবং পালন করে থাকে। আমার জানা মতে প্রতিটি ধর্মীয় দর্শনে বিভিন্ন ভাবে মানুষের শান্তির বানী শোনানো হয়েছে এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তারপরেও যদি কেও পাপ কর্মে লিপ্ত হয় তবে ঐ পাপের দায়ভার ঐ ধর্মীও দর্শনের নাকি একান্তই ঐ ব্যক্তির। ধরুন আসিফ মহিউদ্দিন,প্রণব আচার্যা,সুসান্তদাস গুপ্ত তসলিমা নাসরিন এরা এক একজন ধর্ম বিদ্বেষী লেখক কিন্তু এরা এক একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহন করেছেন এবং ঐ সব সম্প্রদায়ের নাম পরিচয় বহন করছে। এখন এই লোকগুলো দ্বারা যদি কোন অন্যায় কার্য সংগঠিত হয়, তাহলে তাদের কর্মের দায়ভার তার পৈতিক সম্প্রদায়ের উপর চাপানো মূর্খামী নয় কি?

সম্প্রতি একটি ১১ বছরের হিন্দু শিশুকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে ধর্ষনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠি ধর্মীয় সহিংসতার অপচেষ্টা করছে। যে পশু এই ঘৃন্য কাজটি করেছে সে কি আসলেই ইসলামী জ্ঞানসম্পর্ণ মানুষ এবং তার এই কর্ম কি ইসলাম চর্চার ফসল? অবশ্যই নয় ! তাহলে কেন আমরা এই অপরাধের সঙ্গে  ইসলাম শব্দটি যোগ করছি। এর ফলে আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে ফাটল ধরে জাতিগত হিংসার সৃষ্টি হচ্ছে। আসলে জন্মগত ভাবে কোন ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় যথার্থ নয়, ধর্মীয় দর্শন চর্চা ও পালনের মধ্যেই ধার্মিকের পরিচয়। আমাদের উচিৎ, কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে, কোন প্রকার বিভাজন না হয়ে  সম্মিলিত ভাবে অপরাধীর দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যাপারে শোচ্চার হওয়া।

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৩

লাশের দেশ বাংলাদেশ !

বাংলাদেশের ক্ষমতা হায়েনারা এখন তাদের সেরা সময় পার করছে। রক্ত, লাশ এবং নৃশংসতা তাদের ব্যবসার মূল উপকরণ। যা বর্তমান সময়ে খুবই সহজলভ্য এবং খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। রক্তমাখা গুলিবিদ্ধ লাশ, অগ্নিদগ্ধ কাবাব বানানো লাশ, কংক্রিটের দেয়ালে চাপা দেয়া গলিত পঁচা লাশ, বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন লাশ এত সহজেই ইতোপূর্বে একসাথে আমাদের রাজনৈতিক ঠিকাদাররা পায়নি। ঠিকাদারদের তৈরী নিজস্ব ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়া, ব্লগ,সদ্য গজানো দালালী মঞ্চ ও জোট সমূহ এবং ইন্টার্নেটের সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধ্যমগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা ক্ষমতার দৌড়ে নিজস্ব ঠিকাদারী দলকে (আওয়ামী, বি এন পি) এগিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশকে একটি লাশের দেশে পরিনত করার জন্য প্রাণপন ধোঁকাবাজি খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওরা বাংলার মানুষের সুখের ঘুম সহ্য করতে পারেনা বলেই এই মৃত্যু মৃত্যু খেলা শুরু করেছে..........তাই ধোঁকাবাজি থেকে সাবধান হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়.........জীবন কি এতই সস্তা !

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

কট্টরপন্থী মনোভাব এবং দেশের চলমান প্রেক্ষাপট।


দেশের চলমান অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়সবাই যার যার স্বার্থের জন্য ধর্ম ও স্পর্শকাতর চেতনাকে ব্যাবহার করছে আর এই ফাঁকে দুর্নীতিপরায়ণদেরকে আড়াল হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছেকেউ ভাবছেনা বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিনকাল কেমন কাটছে ,সামাজিক নিরাপত্তা আজ হুমকির দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, বিদেশী বিনিয়োগে আশংকা সৃষ্টি হচ্ছে, কষ্টার্জিত রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো বিনষ্ট করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছেএর পেছন থেকে দেশদ্রোহীরা সবাইকে বোকা বানিয়ে হাস্যরস্য করছে

 আমরা কি একবার এভাবে ভাবতে পারিনা, এই দেশ আমাদের , ষোল কোটি মানুষ আমরা এক পরিবারের সদস্য, আমাদের সমস্যাগুলো আমরাই মেটাবো দেশের প্রচলিত আইন ,প্রশাসন ও সংসদের মাধ্যমেআমাদের প্রতিবাদ থাকবে, দাবী থাকবে, আন্দোলন সংগ্রাম সবই থাকবে কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা  হবে শিষ্টাচারপূর্ণ , কুরুচিপূর্ণ নয়যদি শ্লোগানের ভাষা এই হয়, একটা করে …………….ধর, ধরে ধরে জবাই করএই ধরনের শ্লোগান সম্বলিত আন্দোলন আর যাই হোক কখনো মুক্তির আন্দোলন হতে পারেনা বরং রাষ্ট্র ধ্বংসের আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দেওয়া যেতে পারেআন্দোলনের নামে একটা গোষ্ঠী ফেসবুক, টুইটার,ব্লগ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে মিথ্যাচার চালাচ্ছে তা দেশের জন্য ভয়াবহ আশংকাজনক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছেকেউ মিথ্যা তথ্য লিখে লেখার উপরে জনপ্রিয় গনমাধ্যমের লঘু সেঁটে দিয়ে প্রচার করছে,কখনো ফটোসপ ভিডিও এডিটিং করে প্রপাকান্ডা ছড়ানো হচ্ছে ,মেয়েদের ছবি দিয়ে ভুয়া আইডি খুলে সদস্য বাড়িয়ে মিথ্যা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছেযারাই এগুলো করছে তাদেরকে আমি কখনো সংগ্রামী বলবোনা , প্রতারক বলবো কারন ভীরু কাপুষরাই সব সময় মিথ্যা ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে থাকে এবং নিজেদের প্রয়োজনেই ধর্মীয় দর্শন ,সমাজতন্ত্র ,গনতন্ত্র মনিষীদের বানী ব্যাবহার করে থাকে, আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এগুলোর বিরোধীতা করে থাকেকেউ যদি মনে করে আমিই সঠিক ও সত্য অবস্থানে আছি তাহলে আপনার সত্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করেন,মিথ্যা ও ভণ্ডামির আশ্রয় কেন ? আপনার যদি মনে হয় কেউ বিপদগামী হচ্ছে তাহলে তাকে আপনার সত্য দর্শন দিয়ে বুঝিয়ে আপনার পথে আনুন,না বুঝলে কাপুরুষের মত অবুঝের গলায় ছুড়ি চালানোর চেষ্টা কেন ?

আজ ন্যায়,যুক্তি সঙ্গত ও নিজস্ব চিন্তা উপলুব্ধ মতামত প্রকাশ করলে, সেটা যদি কারো বিন্দু পরিমান বিপক্ষে চলে যায় তাহলে কেউ রাজাকার,সাগু অথবা নাস্তিক বা মুর্তাদ হয়ে যাচ্ছেযারা নিজেদেরকে প্রগতিশীল দাবী করেন তাদের আচরনে আজ প্রতিক্রিয়াশীলদের স্বভাব ফুটে উঠছে আর প্রতিক্রিয়াশীলরা আরো কট্টর রূপ ধারন করছেএই সব কট্টরপনা ও উস্কানিমুলক বাক্য দেশের মধ্যে হানাহানি খুনাখুনি বৃদ্ধি ছাড়া আর কোন ভালো ফলাফল বয়ে আনবেনাযে যে পক্ষেই থাকুননা কেন আপনাদের কট্টরতার হানাহানি থেকে যদি কারো প্রাণ নাশ হয় তাহলে হয়তো লাশের কফিন ছুঁয়ে আন্দোলনকে আরো বেগবান করার শপত নেবেন,দুই দিন জোরালো শ্লোগান দেবেন,শহীদের খেতাব দেবেন। কিন্তু পারবেন, সন্তানহারা পরিবার যে ক্ষতির সম্মুখীন হলো সেই ক্ষতি পূরণ করতে ?,আপনার রাষ্ট্র কি দায়িত্ব নেবে ঐ শহীদ পরিবারের

দেশের মানুষের যখন গণমানুষের অধিকার,দুর্নীতি,বেকাত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি,সুশাসন ,সামাজিক নিরাপত্তা,সুষ্ঠ ও সঠিক বিচার ব্যবস্থা এবং ৭১ এর যুদ্ধাপরাধের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার কার্যকর ইত্যাদি বিষয়ে ফুসে ওঠার কথা তখন দেশদ্রোহী একটা মহল  নিজেদের অপকর্ম ও পাপকে ঢাকার জন্য অত্যন্ত নিখুত ও সুকৌশলে নাস্তিক ও আস্তিক নামক বায়বীয়  দুই শব্দ ডুকিয়ে দিয়ে  জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেআপনারা যারা কট্টরতা অবলম্বন করে দেশকে নিয়ে ধ্বংস লীলায় মেতে উঠেছেন,আপনাদের অনেকেই হয়তো চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে টুপাইচ কামাই করে সংসার চালাচ্ছেন আবার অনেকেরই নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থবিত্ত রযেছে তাদের হয়তো কোন সমস্যা হবেনা, কিন্তু যে গার্মেন্টস শ্রমিকে মুনাফাখোর মালিকের বীমা কোম্পানির টাকা আদায়ের জন্য আগুনে পুরে আত্নহুতি দিতে হয় , সেই সব শ্রমিকের মালিকেরা আপনাদের কট্টর আন্দোলন সংগ্রামের দোহার দিয়ে বলবে শিপ্টম্যান্ট বাতিল হয়েছে,বায়ার অর্ডার বাতিল করেছে ইত্যাদি অজুহাতে শ্রমিকের বেতন বন্ধ করে দেবে, শ্রমিক বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে ডঃ ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংকের জামানত বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ অথবা রক্তচোষা আশা সমিতির ঋণের জালে জরিয়ে হাবুডুবু খাবে, তখন কি আপনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে এই অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে ? আমাদের চেতনা ভোতা হয়ে যায়, যখন দেখি তাজরিন গার্মেন্টসের শত শত শ্রমিককে পুরিয়ে হত্যা করা হয় যা ৭১ এর গণহত্যা তুল্যচেতনা আবার জাগ্রত হয় যখন দেখি  দলীয় স্বার্থ বা নেতানেত্রীর স্বার্থে ঘা লাগেদিন এনে দিন খাওয়া মানুষের চেতনাবোধ ও ধর্ম প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এদের কোন দল থাকেনা, এদেরকে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয় দরিদ্রতা নামক এক ভয়ংকর দানবের সাথেআপনাদের কট্টর আন্দোলন যদি এই শ্রেনীর মানুষের পেটে টান মারে তাহলে যত নীতি বাক্যই ছুড়ুননা কেন সবই ভণ্ডামিতে পরিণত হবে।  

বাংলাদেশ আজ পূঁজিপতি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বার্থ রক্ষাকারী রাষ্ট্রযন্ত্রে পরিণত হয়েছেমধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা আজ কল্পনাতীত ব্যাপারদেশটাকে স্বজনপ্রীতি করে গুটিকয়েক গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় অধিকার ভাগ করে নিয়েছেপ্রতিটি মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে নিজের পরিবারকে রক্ষা করার আপ্রান চেষ্টা করছেদেশের জাতীয় আয়ের বিশাল একটা অংশ জুড়ে থাকে বিদেশে কর্মরত বাঙলীদের দেশে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা এই অর্থ যেমন এক একটি পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দিচ্ছে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেযারা নেপথ্যের চক্রান্তকারীদের  উস্কানীতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে মনের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন তারা যদি একবার দেখতেন প্রবাসিরা পরিবার পরিজনের মায়ামহ ত্যাগ করে কত কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে দেশের জন্য অবদান রেখে চলছে ,তাহলে হয়তো একটুর জন্য হলেও আপনাদের উগ্র চেতনাবোধে বসন্তের হাওয়া লাগতো

দেশের চলমান বিশৃঙ্খলার কারণে আজ সরকার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর হাতে বিনা দোষে সন্দেহাতীত ভাবে অনের সাধারণ মানুষকে গ্রেপতারের স্বীকার হয়ে পুলিশী নির্যাতন ভোগ করতে হচ্ছেএর ফলে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়েগিয়েছে ,কিভাবে কাটছে এই হতভাগা পরিবারগুলোর দিনকালএকবারও এদের বিপদের কথা ভেবে এদের পাশে দাড়াচ্ছেন আপনারা ?

যেসব মস্তিস্ক বিকৃত ও বিদেশী মদতপুষ্ট লেখক মতপ্রকাশের নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে দেশের দীর্ঘ দিনের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরানো এবং সামাজিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে এবং যারা ধর্মীয় অনুভূতিকে পূঁজি করে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এদের বিরুদ্ধে সচেতন হয়ে সামাজিক ঐক্যবদ্ধ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে দাড়িয়েছে। 

কোন উগ্রতার মধ্যেই দেশপ্রেম থাকতে পারেনা, থাকে মানসিক তৃপ্তি এবং আর্থিক ও ব্যক্তিস্বার্থদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ প্রেমিক তারাই, যারা দিনরাত পরিশ্রম করে একটি মজবুদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ভীত গড়ার স্বপ্নে নিরলশ কাজ করে চলছে এবং যারা দেশ ধংসকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিদিন কলম হাতে,শ্লোগানে প্রতিরোধ প্রতিবাদ অব্যহত রেখে চলছে

পরিশেষে বলতে চাই, ধর্মীয় বা যে কোন চেতনা রক্ষার আন্দোলনই আমরা করিনা কেন, প্রতিটি আন্দোলনে কট্টরতা এবং উস্কানিমূলক শব্দ পরিহার করি, স্বাধীন সার্বভৌম দেশে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা কোন সভ্য জাতির কাম্য নয়, হিংসা নয় ভালোবাসার  দিয়ে জয় করি সমস্ত মিথ্যা এবং অন্যায়কেউন্নত বিশ্ব যখন ক্ষুধা এবং দরিদ্রতাকে  জয়ের আন্দোলনে মগ্ন তখন আমরা কেন হিংসা বিদ্বেষে মত্ত হয়ে লক্ষ শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে প্রতিদিন কালিমা লেপে দিচ্ছি ?     






শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্রগতিশীল সাংবাদিক এবং ব্লগাররাই বিপ্লবের অন্যতম শক্তি।

দেশ যখন অপরাজনীতির করালগ্রাসে আক্রান্ত , সামাজিক নৈতিক অবক্ষয় যখন চূরান্ত শিখরে, নিঃপেষিত,সাধারণ মানুষ মুক্তির খোজে দিশেহারা, ধোকাবাজি রাজনীতির উপর আস্থাহীনতা, ঠিক তখনি জাতীকে মুক্তির পথ দেখাতে এক ঝাঁক নীতিবান ও গনমানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগার কলম হাতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যহত রেখে চলছে।

বাংলাদেশের বিবেকবান নাগরিকদের মধ্যে এখন একটা উপলব্ধি দারুন ভাবে নাড়া দিচ্ছে, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় একটা শুভ শক্তির আবির্ভাব। বাংলাদেশের তৃতীয় শক্তি হিসেবে যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান রাজনৈতিক দল দুটির অপকর্মের জন্য চাপ সৃষ্টি করতো,সমালোচনা করতো,রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সমস্যার ব্যাপারে ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদমূখর হয়ে রাজপথ ব্যস্ত রাখতো এদের অধিকাংশই আজ পক্ষপাতদুষ্ট রোগে আক্রান্ত। এরা এখন রাজনৈতিক কৌশল নামক এক ছলাকলা বুঝ দিয়ে আওয়ামীলীগ ও বি .এন.পির ক্ষমতার তাবেদারি রাজনীতির সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং সুবিধার ছিটেফোঁটা নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবি ও সুনাগরিক আজ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের রাজনীতি আজ এমনভাবে হাঙ্গর কুমির দ্বারা গ্রাসিত যে সুস্থ মানুষিকতা নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা অনেক কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে এখন দুটি জিনিস অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে : প্রথমত রাজনীতি থেকে অপরাজনীতির ভাইরাস আক্রান্ত রাজনীতিবিদদের ছেঁটে ফেলতে হবে। আর এই দায়িত্ব সাধারন মানুষের হাতে এবং এজন্য দরকার সাধারন মানষকে রাজনৈতিক ও অধিকার সচেতন করে তোলা। 

দ্বিতিয়ত রাজনীতির গুনগত মান উন্নয়ন করতে হবে। আর এজন্য দরকার রাজনীতিবিদদের গঠনমুলক আলোচনা সমালোচনার , উন্নত বিশ্বের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা এবং প্রয়োগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা। আর এই ব্যাপারগুলো আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে একেবারেই পরিলক্ষিত হচ্ছেনা , যা বোঝা যায় তাদের রাজনৈতিক পরিপন্থি বক্তব্য এবং মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা অদ্ভুদ ও বেকুব মার্কা মন্তব্য দেখে। আর নতুন করে যারা রাজনীতি যুক্ত হচ্ছে তাদেরকে গঠনমুলক রাজনৈতিক চর্চা ও গুনগত মানসম্পর্ণ নেতৃত্ব তৈরীর বিশেষ কোন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা মূল দলগুলোর মধ্যে নেই। নতুনদের ময়না পাখির মতো শেখানো হয় নিজের দলের নেতাদের গুনকীত্তন করা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের উপর হিংসাত্বক ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া। এর মধ্যেই তাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ। আর এভাবে চলতে থাকলে বাঙ্গালী এক সময় মাথা মোটা লাঠিয়াল জাতীতে পরিণত হওয়ার যতেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে।

মেধা ও প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা ছিলো তা বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একেবারেই পরিলক্ষিত হয়না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে একটি সুস্থ রাজনীতির ধারা এবং উন্নত মানুষীকতা সম্পর্ণ জাতি ও সমাজ গঠনের তাগিদ অনুভব করে নবরুপে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে দেশের প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগারবৃন্দ। শুধু তাই নয় , নীতিবর্জিত রাজনীতিবিদ ,খুসখোর আমলা ,রক্তচোষা মুনাফা ভোগী ব্যবসায়িদের যে কোন ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও এখন অন্যদের চেয়ে বেশী তৎপর ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে সাংবাদিক ও ব্লগারবৃন্দ।

এর একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হলো যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীর আজকের অবস্থান , যার অধিকাংশ কৃতিত্বই সাংবাদিক ও ব্লগারদের। বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামী সরকার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহন করে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করলেও প্রগতিশীল সাংবাদিক ও ব্লগাররা বিভিন্ন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও পরিবেশন এবং গবেষনা ও বিশ্লেষনধর্মী লেখনীর মাধ্যমে সংবাদপত্র,ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও ব্লগের ময়দান প্রতিনিয়ত সরগরম রেখে জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এবং সরকারকে দাবী বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃ্ষ্টি করে চলেছে। যা রনাঙ্গনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তরোবারি চালানোর সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

আজ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে শাহবাগ স্কয়ার থেকে যে শ্লোগান পৌছে যাচ্ছে সাড়া দেশে ,এই শ্লোগান শুধু যুদ্ধাপরাধীর ও ঘাতক দালালদের ফাঁসী দাবী হিসেবেই দেখছিনা,এই শ্লোগান দেশ প্রেমিকের খোলশ লাগানো জাতীর নব্য রাজাকার ও আলবদর ঘাটিতে প্রথম আঘাত হিসেবেও দেখছি। এই অভিযানকে যারা তিলে তিলে সংগঠিত করে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে তারা কোন প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা বিনিময়ে কাজ করেনি কিংবা কোন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে কাজ করেনি। এরা দেশের নতুন প্রজন্ম,এরা দেশের মাটি এবং মানুষকে ভালোবাসে,এরা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে লালন করে সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে দাড়াতে প্রস্তুত, আর তাইতো তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের গৃহিনী থেকে শুরু করে স্কুলগামী শিশুটি পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে এসে একাত্বতা ঘোষনা করেছে এবং কোন রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলন থেকে ফয়দা লুটতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক অবস্থানে থেকে সরকার দলীয় মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে বোতল ছুরে বুঝিয়ে দিয়েছে জনসাধারনের হাটটিমাটিম টিম ছড়া শেখানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। তাছাড়া এদেরকে আরো বুঝিয়ে দিয়েছে কোন সহিংসতা ছাড়া কিভাবে দাবী আদায় করতে হয় এবং কিভাবে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হয়,ভালোবাসা পেতে হয়, গনমানুষের চাওয়াকে কিভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

সাগর রুনী হত্যার বিচারের দাবীতে সাংবাদিক সমাজ দল মত নির্বিশেষে একাত্বতার সহিদ যে আন্দোলন করছে তাও জাতীর এক মঙ্গল বার্তা বহন করছে। 

শুধু যুদ্ধাপরাধ ইস্যুই নয় দেশের চলমান পদ্মা সেতু দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেংকারি,হলমার্ক কেলেংকারি,সাগর রুনী হত্যাকান্ড, বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড ইত্যাদি সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও থেমে থাকেনি সাংবাদিক ও ব্লগারা, ঘটনার নেপথ্যে পৌছে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্লেষনের মাধ্যমে মানুষের সামনে উপস্থাপন করে ভন্ড রাজনীতির মুখস খুলে দিয়েছে। আর এই অভিযান অব্যহত রাখতে গিয়ে বিগত চার বছরে ১৩ জন সাংবাদিকে প্রান দিতে হয়েছে এবং ৫০০ শতাধিক সাংবাদিকসহ অসংখ্য ব্লগারকে শারীরিক নির্যাতন ও নানামুখী হয়রানীর স্বীকার হতে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অনিয়মের প্রতিবাদের পাশাপাশী সামাজিক অবক্ষয় রোধে সাংবাদিক ও ব্লগারদের নানামূখী পদক্ষেপ দেশ প্রেমিক হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেছে। ধর্ষন,ইফটিজিং,এসিড সন্ত্রাস,মাদক এর মত ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা রোধে লেখালেখির পাশাপাশী মানব বন্ধন,ব্যানার,ফেষ্টুন সহ নানামূখী ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের ম্যাধ্যমে সচেতনতার সৃষ্টি করে সামাজিক বিপ্লবের পথ ত্বরান্নিত করছে। সেই সাথে দেশের শীতার্থ ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ আক্রান্ত মানুষের পাশে বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশী নুন্যতম সামর্থ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলছে।

গনমানুষের অধিকার আদায় ও পরিসুদ্ধ দেশ গড়ার যে স্বপ্ন হৃদয়ে ধারন করে সাংবাদিক ও ব্লগাররা জাতীকে আজ উজ্জিবিত করছে তা একদিন অবশ্যই সফলতায় পর্যভূষিত হবে। ফরাসী বিপ্লবের কথাই ধরুন, এই বিপ্লবের বীজ রোপিত হয়েছিলো লেখনীর মাধ্যমেই, তৎকালীন বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক ও সমাজ চিন্তাবিদ রুশো,ভোলতেয়ার,সাত্রে তাদের লেখায় তৎকালীন সামাজিক বৈশম্য, গীর্জার শাসকদের দৌরাত্ব ও প্রতাব,গনমানুষের নায্য অধিকার, করের টাকায় রাজাদের বিলাসী জীবন যাপন,অনিয়ম,দুর্ণীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে উঠে আসে। যা খেটে খাওয়া, অধিকার বঞ্চিত ফরাসীদের মধ্যে অধিকার সচেতন ও সমাজ সচেতনতার সৃ্ষ্টি করে এবং এই সচেতনতাই ধীরে ধীরে ফরাসীদের মধ্যে অগ্নীস্ফুলিঙ্গের রুপ ধারন করে যা পরবর্তিতে দাবানলের মত সমস্ত ফ্রান্সকে দাহন করে। যার ফলাফল স্বরুপ অসংখ্য প্রানের আত্নহুতি বিনিময়ে ফ্রান্সের আজকের এই প্রজাতন্ত্র এবং অসাধারণ এক মানবাধিকার রাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার সুনিশ্চিৎ হয়েছে। 

যেসব সাংবাদিক ও ব্লগার দেশকে ভালোবেসে সুশাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন হাতে নিয়ে প্রতিদিন মেধা ও শ্রম ঢেলে দিচ্ছেন তাদেরকে বিপ্লবী সালাম ও পূর্ণ সমর্থন। আর যারা এখনো সুবিধাভোগী রাজনীতির পক্ষপাতিত্ব করে সুবিধাভোগীদের অবস্থান সুদৃড় করার নেশায় মত্ত আছেন তাদের প্রতি আহবান আসুন আজকের এই গনজোয়ারের মিছিলে সামিল হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনকে বেগবান করি এবং গনমানুষের অধিকার সুনিশ্চৎ দেশ গড়ি।

সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্যারিস ভ্রমণসূচীতে এক দিনের জন্য রাখুন Maison du parc, La courneuve

আর কিছু দিন পরেই ফ্রান্সের প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া লাগবে। পুষ্প পল্লবে ভরে উঠবে প্রকৃতির চারিধার । ঝড়া প্রকৃতি পাবে নতুন এক প্রানশক্তি। প্রকৃতি চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য্যের ডালী সাজিয়ে সৌন্দর্য্য পিপাসুদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রতিক্ষা করবে।প্রকৃতির এহেন উৎসবকে আরো নান্দনিক ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন মেরী সংস্থাগুলো (সিটি কর্পোরেশন) নানাবিধ পদক্ষেপ হাতে নেবে। ফলে আপনি যেদিকেই তাকাবেন আপনার সৌন্দর্য্য অবগাহনের ক্ষুধা আরো বেড়ে যাবে। এই সময় যারা প্যারিস ভ্রমনে আসবেন তারা হয়তো অবশ্যই আইফেল টাওযার,লুভ্রর জাদুঘর,ভার্সাই রাজার বাড়ী ইত্যাদি নিদর্শন পরিদর্শন করবেন। শিল্পীর ইট,পাথর আর লোহার তৈরী শিল্পকলার মাঝে ঘুরতে ঘুরতে যখন একটু হাঁপিয়ে উঠবেন তখন ভ্রমন পিপাসু হৃদয়ে নতুন করে প্রানের সঞ্চারের জন্য একটি দিনের জন্য Maison du parc এ ঘুরে আসতে পারেন।

পার্কের সুবিস্তৃত অরণ্যের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই আপনি পেয়ে যাবেন দুর্বা ঘাসে ঢাকা প্রশস্ত মাঠ। ইচ্ছে করলে এখানে ভ্রমন সঙ্গীদের সাথে একটু দৌড়া দৌড়ি,খেলাধুলা করতে পারেন। দেহের ক্লান্তি দুর করা জন্য মাঠের পাশেই লেকের নিলাভ জলের পাশে বসে একটু জিরিয়ে নিতে পারবেন। লেকের বিভিন্ন প্রজাতির বনহাঁস,পানকৌরীর মুক্ত বিচরণ আপনাকে মুগ্ধতা এনে দেবে। কখনো ঝাঁক বেধে অবাক বিস্ময়ে আপনার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাবে রাজহাঁসের দল। বনের উচু নিচু টিলার মধ্যে দিয়ে হাটতে হাটতে দারুন এক এ্যাডভেঞ্চারে রোমাঞ্চিত হবে আপনার ছিন্নবাঁধা মন। যখন ক্লান্তি ছেয়ে ধরবে আপনাকে তখন আশে পাশে তাকালেই দেখবেন কোথাও আপনার জন্য ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে বানিয়ে রাখা হয়েছে সুসজ্জিত চেয়ার টেবিল। ইচ্ছে হলে এক নির্ঝুম নিরবতায় মধ্যে কাটাতে পারবেন কিছু সময়। কখনো খরগোসের দল আপনাকে দেখে বনের ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে লুকানোর দৃশ্য আপনাকে দারুন শিহরণ জাগাবে, আর বনের মাঝে মাঝে সুসজ্জিত ফুলের বাগানগুলোতে ফুটে থাকা বাহারি রং ও প্রজাতির ফুলগুলোর দিকে বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আপনার কোন উপায়ই থাকবেনা।

এই পার্কটি ৪১৫ হেক্টর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছর প্রায় ২ মিলিয়ন ভ্রমনার্থী এই পার্কটি পরিদর্শনে আসে এবং পরিদর্শনের জন্য কোন প্রকার প্রবেশ মূল্য প্রদান করতে হয়না।

পার্কটির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, জলখাবার এবং মিষ্টান্ন জাতিয় খাবারের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, পিংপং টেবিল,পথ নির্দেশক প্রদর্শনী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্যারিসের বিভিন্ন স্থান থেকে আপনি এখানে আসতে পারেন :
RER: RER বি Orly – প্যারিস – চার্লস দে Gaulle কেন্দ্র Aubervilliers – লা Courneuve তারপর বাস লাইন 249, স্টপেজ সিতে ফ্লরিয়েল।
বাস: লাইন 249: PORTE দে লা Villette (মেট্রো) / Dugny – শহরের মিল অফ কবরস্থান।
লাইন 250: ফোর্ট d’Aubervilliers (মেট্রো) / Gonesse – লা ফন্ট. Cypière – Zi স্টপ ক্রিড়া পার্ক।

পার্কটি খোলা থাকে: January-February: 7h30-18h00. March: 7:30 a.m. to 7:00 p.m., April: 7:30 a.m. to 8:30 p.m., May to August: 7:00 a.m. to 9:00 p.m. September: 7:30 a.m. to 8:00 p.m., October: 7:30 a.m. to 7:00 p.m., November-December: 7:30 a.m. to 6:00 p.m.
আপনাকে Maison du parc,La courneuve এর সৌন্দর্য্য উপভোগের আমন্ত্রন রইলো। 
ফটোগ্রাফি: মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ উজ্জ্বল"

শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৩

তুমি এসো

তুমি এসো
সোনালী রোদের রুপালী ঝিলিক দিয়ে
কাক ডাকা ভোরে গুটি গুটি পায়ে।

তুমি এসো
শরতের রোদেলা দুপুরে
কাঁশ ফুলের  শুভ্রতা নিয়ে।

তুমি এসো
বসন্তের কোকিল ডাকা মধ্যাহ্নে
আম্রমুকুলের মৌ মৌ গন্ধের আবেশ ছড়িয়ে।

তুমি এসো
শ্রাবনের বর্ষনমূখর সন্ধ্যায়
এলোচুলে বিষন্নতা ভরা মুখে  ।

তুমি এসো
শৃংখল মুক্তির মিছিলে
শানিত শ্লোগানে হাতে হাত রেখে
মুক্তির বার্তা নিয়ে।

তুমি এসো
তোমার হৃদয় দেবতার তুষ্টির জন্য
ফুলের ডালী সাজিয়ে।
C'est la traduction d'un poème d'amour écrit en bengali par Muhammad Golam Morshed.
Le poète attend sa bien aimée; il rêve d'elle; il l'imagine venir :Hasnat Jehan.
Viens !
Viens au matin, à pas lents,
quand le corbeau croasse sous les premiers rayons du ciel doré
Viens à midi à la fin de l'automne pure comme l'herbe de la pampa !
Viens au printemps, avec le parfum des fleurs de manguier, quand le rossignol chante mélodieusement å midi !
Viens le soir, pendant la saison des pluies, avec tes cheveux détachés et ton visage pâle !
Viens à la manifestation ! Marchons main dans la main au milieu des slogans pour la liberté !
Viens avec une corbeille de fleurs, en guise d'offrande, nourrir mon coeur et mon désir !


0477
Viens
Viens au matin, à pas lents, quand le corbeau croasse sous les premiers rayons du soleil doré
Viens à midi à la fin de l'automne, pure comme l'herbe de la pampa
Viens au printemps, avec le parfum des fleurs de manguier, quand le rossignol chante mélodieusement à midi
Viens le soir pendant la saison des pluies, avec tes cheveux détachés et ton visage pâle
Viens à la manifestation, marchons main dans la main au milieu des slogans pour la liberté
Viens avec une corbeille de fleurs en guise d'offrande nourrir mon coeur et mon désir



TRADUCTION MOT-A-MOT le 18 septembre 2016 avec l'auteur du texte, Hasnat Jehan et Andréa

Verbatim de l'auteur: Le poète attend sa bien-aimée, il rêve d'elle, il l'imagine venir.


Le blog de l'auteur: http://mgmorshed80.blogspot.fr


 Come
Come
with little bashful steps
When the silver flash of the golden Sun shines the dawn
Come
With the purity of those white flowers
when the sun drenches the noon of the late autumn
Come
Spreading the zest of sweet-smelling mango buds
When the cuckoo coo’s in the spring midday
Come
With your unruly hair and heart-full melancholy
In the sprinkling evening of the rainy day
Come
With whetted slogan of liberty and hand in hand
In the rally of freedom
Come
To gratify the God of your heart
with promising garden full of flowers….


Translate: Ayesha Siddiquea



শনিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৩

প্রকৃতির এক অকৃত্রিম অলংকারে সেজেছে প্যারিস

প্যারিসের সমস্ত শরীর এখন তুষারে ঢাকা। প্রকৃতির এক অকৃত্রিম অলংকারে সাজিয়েছে তার সমস্ত দেহ। প্যারিসের রুপের দিকে তাকালে প্রেমে পড়বেনা এমন মানুষ খুজে পাওয়াই দায়। শত শত বছর ধরে হাজার হাজার শিল্পী প্যারিসের রুপের উৎকর্ষ সাধনের যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তা আজ পন্ডশ্রমে পর্যভূষিত।প্যারিসের আজকের রুপের কাছে শিল্পকলার সমস্ত সৃষ্টিই পরাজিত। প্যারিসের রাস্তায় হাঁটতে বের হলে স্বর্গীয় অনুভূতিতে যে কারো দেহ মন আচ্ছাদিত হতে পারে। যে হৃদয় পাথরসম অনুভূতিহীন প্যারিসের আজকের প্রকৃতি সেই হৃদয়ে প্রাণের সঞ্চার করতে দুহাত বাড়িয়ে ডাকছে ।প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য ক্যামেরা হাতে বেড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য সৌন্দর্য় পিপাসু্ মানুষ নিজেকে স্মৃতি করে রাখার জন্য। বৃষ্টির দিনে বাংলার দুরন্ত কিশোর কিশোরী যেমন বৃষ্টিতে ভিজে তার দুরন্ততা ,দুষ্টমীতে প্রকৃতির হেয়ালীপনাকে সার্থক করে তোলে, তেমনি প্যারিসের বুকে বেড়ে ওঠা দুরন্ত কিশোর কিশোরীর দলও প্রকৃতির এই উৎসবের দিনে উজার করে উচ্ছাস ঢেলে দিচ্ছে। বাংলার বর্ষা ,বসন্ত,শরৎ যেমন প্রেমিক প্রেমিকার মনে দোলা দেয়,অনুভূতিতে ভিন্নতা আনে,হৃদয়ের রংয়ের বৈচিত্রতা আনে ,কিন্ত পশ্চিমা প্রেমিক প্রেমিকার হৃদয়ে আমাদের মত এত বৈচিত্রতা না থাকলেও আজকের প্যারিসের প্রকৃতি অবশ্যই ওদেরকে রোমাঞ্চিত করছে। তুষারের সাদা শুভ্রতার মতই সুন্দর হয়ে উঠুক পৃথিবীর সমস্ত মানুষের অন্তর, তুষারের গলিত পানিতে ধুয়ে মুছে যাক পৃথিবীর অসত্য,বাসি পঁচা মতবাদ ,সত্যের আলোয় জেগে উঠুক নতুন এক পৃথিবী ।…………………….

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

শ্রমজীবীর অধিকার জিম্মি,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ রাজনীতির পূঁজি

মুক্তিযুদ্ধ দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি কিন্তু এতটুকু উপলব্ধি করতে পারি, কতটুকু চেতনা ও দেশপ্রেম হৃদয়ে ধারণ করলে একজন মানুষ তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ, নিজের জীবন বাজী রেখে দেশ মাতৃকার রক্ষার জন্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরতে পারে।তারা আর কেউ নয় বাঙ্গালীর অহংকার ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা।বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে বিজয়ের ৪১ বছরে পা রেখেছে। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে তারা এত বড় আত্নত্যাগ করে গেলেন সেই স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে যতই শহীদ বেদিতে ফুল দেই না কেন,যতই স্মরন সভা করে বড় বড় কথা বলিনা কেন, এতে শহিদের আত্না শান্তি পাবে না এবং তাদেরকে প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন দেখানো হবেনা।

জাতিকে আজ স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ শব্দগুলি দিয়ে নানা ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।কিন্তু এই পক্ষ বিপক্ষের শক্তির কর্মকান্ডের মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়না। যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করছে তারাও মানুষ খুন করছে ,দেশের সম্পদ লুটপাট করছে আবার যাদেরকে বিপক্ষের শক্তি হিসেবে প্রচার করা হয় তারাও ক্ষমতায় গিয়ে একই কাজ করছে। এই পক্ষ বিপক্ষ মিলে সাধারণ মানুষের মান দাড় করিয়েছে পিপড়া সমতুল্য , যেন ইচ্ছে করলেই একটা ডলা দিয়ে মেরে ফেললে কোথাও কৈফিওত দেয়ার দরকার নেই। এই কথিত পক্ষ বিপক্ষের শক্তি দেশের মানুষের কিছু অনুভূতিকে মার্কেটিং পলেছি হিসেবে ব্যাবহার করে ক্ষমতার পালাবদল করে যাচ্ছে এবং ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিনিয়ত ১৬ কোটি মানুষের অধিকারের সাথে প্রতারনা করে চলছে।

৭১ এর ঘাতক দালাল ও মানবতা বিরোধীদের বিচার আমাদের প্রানের দাবি। জনগনের এই প্রত্যাশাকে পূঁজি করে ব্যাপক জয় জয়কারের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসলো স্বাধীনতার ধারক বাহক দাবিদার আওয়ামীলীগ সরকার। ক্ষমতায় এসেই শুরু করলো এই বিচার প্রক্রিয়া। আমাদেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ রয়েছে যারা ৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার বলতেই পাগল হয়ে যায় আর কোন জ্ঞান থাকেনা। আওয়ামীলীগ সরকার এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে জাতিকে বোকা বানিয়ে শেয়ার বাজার কেলেংকারী করলো,পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্ণীতি করলো,হলমার্ক কেলংকারি করলো,৭১ এর মানবতা বিরোধী বিচারের আশ্বাস দিয়ে প্রতিদিন তাজা তাজা প্রানের খুন উপহার দিলো,বিশ্ব মানবতাকে লাথি মেরে মধ্যযুগীয় বর্বরদের মতো পুলিশ প্রশাসনকে প্রহরায় রেখে নিজস্ব পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগকে দিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করালো। প্রতিদিনের তাজা খুনের বিচারের দাবিতে,এই সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা অনেকেই কথা বলিনা,স্বোচ্চার হইনা কারন এরা ৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার করছে,এসবের বিরুদ্ধে দাড়াতে গেলে যদি বিচার বাধাগ্রস্থ হয়। আমাদের সৌখিন বুদ্ধিজীবীদের আচরনে এটাই প্রকাশ পেলো, দেশ রসাতলে যাক কিন্তু বিচারের ব্যাপারে সরকারের সমস্ত মন্ত্রণালয় নিজস্ব কাজ কর্ম ফেলে ৭১ এর বিচার বিচার বলে চিল্লাপাল্লাতো করছে এটাই যেন তাদের শান্তি। এভাবে আমাদের আমাদের সৌখিন বুদ্ধিজীবীদের খুশি করে, তাদেরকে বোকা বানিয়ে আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী নেতা ও তাদের সহযোগীরা বিগত চার বছরে দেশকে লুটপাটের যা করার করে নিয়েছে আর খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ উপহার পেয়েছে ক্ষুধা ,দারিদ্রতা,বেকারত্ব,মুদ্রাস্ফিতি,আর তাজা তাজা প্রাণের বলী। ৭১ এর ঘাতকদের বিচারকার্য এই সরকার আসলেই কি করবে ?নাকি আবার ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাটের জন্য ইস্যু হিসেবে ঝুলিয়ে রাখবে, এটা সময়ই বলে দেবে।

দেশের এমন অবস্থায় সাধারন মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে ,মুক্তির পথ খুজে পাচ্ছেনা। মানুষের দুরাবস্থাকে পুঁজি করে রাজনীতির মাঠ দারুন ভাবে গরম করে রেখেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি আর তাদের মাথার উপর ছাতা ধরে আছে ৭১ এর মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহকারী দল জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত বি .এন.পি কে ব্যবহার করছে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য আর বি .এন.পি জামায়াতকে ব্যবহার করছে ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে সুগম করার জন্য। বি.এন.পি জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হয়তো আবারো দেখা যেতে পারে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চাইনি বরং মুক্তিযোদ্ধাদের পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সহায়তা করেছে তাদের গাড়িতে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা পতপত করে উড়বে, তারা এই দেশটাকে শাসন করবে । এই অপমান,এই গ্লানি জেনেও সাধারন মানুষ হয়তো আগামী সংসদ নির্বাচনে বি .এন.পিকে ভোট দেওয়ার চিন্তা করছে। দিশেহারা হয়ে ভাবছে বর্তমান পেক্ষাপট থেকে বাঁচার এটাই সঠিক পথ,মুক্তির পথ। মুক্তির আশায় সাধারণ মানুষ যাদেরকে ক্ষমতায় পাঠানোর কথা ভাবছে তাদের অনেকেই এখন থেকেই দোকানে বাকী খাওয়া শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতায় গিয়ে পরিশোধের আশায়। তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো এখন থেকেই টেন্ডার-বাজীর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ক্ষমতায় পৌঁছানোর পর দেখা যাবে বিগত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক হয়রানির প্রতিশোধ গ্রহনের মহোৎসব,যেসব রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে সেই সব সাইনবোর্ড নামিয়ে নতুন সাইনবোর্ড উঠানোর ফিতাকাটা অনুষ্ঠান, লুটপাট,হত্যা,দলীয়করণ ইত্যাদি অপকর্ম। তখন আমাদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির দাবিদার আওয়ামীলীগের দেশপ্রেম উতলে উঠবে,অতীতের সমস্ত অপকর্ম ভুলে গিয়ে বি.এন.পির অপকর্ম ঠেকাতে রাস্তায় নামবে ,৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার কার্যকর করার জন্য আবারো আমাদের সৌখিন বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে মানবন্ধন করবে,দেশ বিদেশে জনমত তৈরি করবে,হরতাল করবে,রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধংস করবে। এভাবেই হয়তো আরো পাঁচটি বছর পার হয়ে যাবে,মাঝখানে বি.এন.পি ও তার শরীকদের নেতা ও সুবিধাভোগীরা লুটপাট ও অপকর্মের যতটুকু দরকার তা করে নেবে। শ্রমজীবি সাধারন মানুষ আবারো ফাঁকির মধ্যে পড়বে আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ধীরে ধীরে মুদি দোকান হওয়ার উপক্রম হবে।আর এত সব অপকর্ম দেশের এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ নিরব দর্শকের দেখবে আর বলবে দেশ যাই হোক জামায়াত বি .এন.পি ইসলামের কথা বলছে,ইসলাম রক্ষার কাজ করছে।

দেশ বিজয়ের ৪১ বছরে পা রাখলেও এখনো স্ব-অর্থায়নে একটি পদ্মা সেতু নির্মানের যোগ্যতা অর্জন করেনি। সরকার পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে হাত পেতেছে। সাধারণ মানুষ দেশের ভালোবাসার জায়গা থেকে সরকারের ডাকে সাড়া দিয়েছে কিন্তু দেশের এই দুর্দিনে আমাদের ক্ষমতাসীন দলগুলো কি সাধারণ মানুষের ডাকে সাড়া দিচ্ছে ? দেশ এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের সরকার কালবার্ড নির্মাণের জন্যও জনগনের কাছে হাত পাততে পারে, বর্তমানের অবস্থা থেকে রাষ্ট্র পরিণত হতে পারে মোড়ল রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। এখন প্রতিনিয়তই দেখা যায়, রাষ্ট্রের যে ধরনের দুর্যোগে আমাদের সরকারগুলো দেশের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত পাতে। আমার কাছে ব্যাপারটা খুবই লজ্জাজনক লাগে, শ্রমজীবী শ্রেনী,সাধারণ মানুষ কি ভিক্ষুক  যে বিত্তবানদের অনুগ্রহ গ্রহন করবে?,তাদের কি আত্নসন্মান নেই ? বাংলার শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাওয়া শিখেছে,চুরি করা শেখেনি,তাদের আত্নসন্মানবোধ আছে। শ্রমজীবী শ্রেনী দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছে, শ্রমজীবী শ্রেনী চায় তাদের বিপদে রাষ্ট্র সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে,কোনো বিত্তবানের ভিক্ষা নয়। আমাদের সরকারগুলো বিত্তবানদের কাছে হাত পাতে তাদের অধিকারের জায়গা থেকে কারন প্রতিটি সরকারই যেমন দুর্নীতি করে ব্যক্তিগত অর্থ বিত্ত বানায় এবং তাদের আত্নীয় স্বজন ও দোসরদেরকেও সুযোগ করে দেয় আরার এই হারাম টাকাকে হালাল করার জন্য প্রতিটি সরকারই বাজেট ঘোষনার সময় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টিও করে রাখে। এভাবে তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গরিব বানিয়ে,শ্রমজীবী শ্রেনীর রক্ত চুষে আজ অনেক বিত্তবান তৈরি করেছে। আবার বিত্তবানদের কাছ থেকে সরকার সাধারণ মানুষের জন্য সাহায্যে গ্রহন করে দুর্নীতিগ্রস্থ বিত্তবানদের দেশপ্রেমিক,হৃদয়বান,দানশীল উপাধীতে সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সরকারগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকায় আমাদের দুর্নীতিগ্রস্থ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ প্রেমিক বলতে কুন্ঠাবোধ করেননা।

একবার গ্রামের একটি বাজারে ঘুরতে গিয়েছিলাম। বাজারের মধ্যে দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখ আটকে গেলো এক কৃষকের দিকে , কৃষক কাঁচা কলা বিক্রি করছে দু টাকা হালি। কৃষকের সঙ্গে তার বাচ্চা ছেলের নাক দিয়ে অনবরত সর্দি ঝড়ছে । ছেলেটি বাবার কাছে আবদার করছে ,আব্বা চপ খাবো কিন্তু কৃষক ছেলেকে সাত পাঁচ বুঝিয়ে শান্ত করে রাখছে।কৃষকের চিন্তা কলা বিক্রি করে আগে ২ কেজি চালের পয়সা জোগার করতে হবে তার পর ছেলের বায়না মেটানোর কথা ভাবতে হবে।কৃষক ঐ দিন ছেলের একটা চপের আবদার পূরন করেছে কিনা ,২কেজি চাল কিনতে পেরেছে কিনা আমি জানিনা।গল্পটা এজন্য করলাম কারন এটাই বাংলাদেশের প্রকৃত সামাজিক প্রেক্ষাপট আর কৃষকের ঐ কাঁচা কলা আমাদের অর্থনীতি। এই কৃষকের মত দেশের লাখ লাখ মানুষ আজ বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার থেকে বঞ্চিত।ঢাকার আলো ঝলমল জীবনের মাঝে আমাদের অনেক কিছুই বোধগম্য হয়ে উঠেনা।

দেশের বুদ্ধিজীবি ও বিবেকবানদের কাছে আমার প্রশ্ন দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবি সাধারণ মানুষ আর কতকাল এই সব দুর্বৃত্ত সরকারগুলোর গোলামী করবে ?যে দেশের মানুষের এখনো তিন বেলা খেয়ে পড়ে বাঁচার যোগ্যতা অর্জন করেনি সেই দেশের এক শ্রেনীর মানুষের গুলশান বনানীর বিলাশ বহুল জীবন আসে কোথা থেকে ?যে দেশের প্রধান মন্ত্রীকে প্রতিদিন সংবাদ পত্রের পাতায় খুনের খবর পড়ে দিনের কার্যদিবস শুরু করতে হয় সেই দেশের প্রধান মন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মুখ হাস্যজ্জল থাকে কিভাবে ?এখনো কি সময় আসেনি, এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলে, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির পথ খোজার ? পরিশেষে বলতে চাই,

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
শুধু শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নয়,
শুধু বিশেষ দিনে আলোচনার ঝড় তোলা নয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
কোন শিশু বাংলাদেশের বুকে ঋনের বোঝা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হবেনা।
কোনো বাঙ্গালী অন্য বাঙ্গালীর বুকে আর গুলি চালাবে না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে
সুশিক্ষা ও প্রযুক্তির হাত ধরে বাঙ্গালী জাতির অগ্রযাত্রায় পথে হেঁটে চলা,
জাতীয় স্বার্থে দল মত ভুলে গিয়ে এক সুরে কথা বলা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে 
বাংলার এক একটি ভোর বাঙ্গালীর হাসি মুখ দিয়ে শুরু হওয়া।

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১২

ভালোবাসা নেই



আমার হৃদয়ে এখন আর কোন ভালোবাসা নেই
অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা আর সাধনা করে হৃদয়পৃষ্ঠে রোপন করেছিলাম ভালোবাসা নামক একটি বৃক্ষ,
তাও আবার বৈশাখের কোন ঘুর্ণিঝড়ে হৃদয়পৃষ্ঠ থেকে উপড়ে পড়ে গেছে।
এই উপড়ে পড়ার ব্যথিত বেদনে কেটেছে
আমার অনেক সকাল,চৈতালী দুপুর,সূর্যাস্ত পড়ন্ত বিকেল আর জোনাকজ্বলা রাত।
একদিন হৃদয় থেকে সমস্ত বেদন নিঃশেষ হয়ে
হৃদয় পরিণত হলো  নতুন এক বেলাভূমিতে।
এই হৃদয়ের বেলাভূমিতে কখন যে দু তিনটি ভালোবাসা নামক ঘাস গুল্ম জন্ম নিয়েছে,
আমি বুঝতে পারিনি।
ওরা এখন একটু আদর চায় , ভালোবাসা চায়
কিন্তু আমি দিয়ে পারিনা
কারন আমার হৃদয়ে এখন আর কোন ভালোবাসা নেই।

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১২

আর একটি বিপ্লবের আহবান



                  ৭১ এ যুদ্ধ করেছি,

রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি একটি মানচিত্র,

একটি স্বাধীন জাতিস্বত্বা।

কিন্ত, পেয়েছি কি অর্থনৈতিক মুক্তি ?

শ্রেনী বৈষম্যহীন সমাজ ?

আমার বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার ?


নিঃপেষিত বাঙ্গালী

আবারো হাতিয়ার তুলে নাও

রাইফেল তাক করো ওদের দিকে

এবং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো,

যারা তোমাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে বীমা কোম্পানির অর্থ আদায় করে ,

আর তোমার দগ্ধ লাশের মূল্য নির্ধারণ করে ২০০০০ টাকায়।


ওরা তোমার রক্তকে ঘামে রুপান্তরিত করে পূঁজির পাহাড় গড়ছে

আর তোমাকে ক্ষুধার্ত কুকুরের মত হাড্ডি ছুরে দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে রেখেছে।


ওরা মানুষ নয় 

ওরা সুকৌশলী রাক্ষস

তোমাদের রক্তই ওদের খাদ্য।


তোমার ঘামে উৎপাদিত শষ্যে ওদের পেট ভরে,

অথচ ৫০০০ টাকার ঋণের দায়ে কোমরে দড়ি পরিয়ে

তোমাকে লক আপে ডুকিয়ে দেয়।


তুমি দিন রাত মিলকারখানার চাকা ঘুরিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখো,

অথচ ঐ অর্থ ওরা লুট করে বিদেশে পাচার করে

আর রঙিন পাগলা পানিতে মাতাল হয়ে

ফাইভ ষ্টার হোটেলের বেশ্যার কোলে ঢলে পড়ে।


ওরা তোমার স্বাধীনতার কোমল অনুভূতিকে পূঁজি করে ক্ষমতায় গিয়ে

স্বাধীনতা বিরোধী কাজ করে।

ওরা তোমার পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতিকে পূঁজি করে ক্ষমতায় গিয়ে

অধর্মের কাজ করে।

ওরা দেশ প্রেমের কথা বলে দেশের সম্পদ বেনিয়াদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য

দেশবিরোধী চুক্তি করে ,

আর নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাছিল করে।


ওদের মুখস উন্মোচন করতে গেলেই

ওরা ঠান্ডা মাথায় বুদ্ধিজীবী হত্যা করে ,

সাংবাদিক হত্যা করে।

ওরা ২৫শে মার্চের হানাদারদের চেয়েও ভয়ংকর।


ওরা তোমার হাতে তিলে তিলে গড়া কলকারখানা নিলামে বিক্রি করে

তোমাকে বেকার করে রাস্তায় নামিয়েছে।

ওরা প্রতারনার ফাঁদ পেতে তোমার বেঁচে থাকার সর্বস্ব পূঁজিটুকু পূঁজিবাজার থেকে লুট করেছে ,

তোমার মধ্যবিত্তের সন্মানটুকু কেড়ে নিয়ে ভিক্ষুকের সারিতে দাড় করেছে।


এবার হাতিয়ার তুলে নাও এরং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো

যতক্ষণ না জাতির এই নব্য রাজাকার ,আলদরদেরর নিশ্চিহ্ন ঘটে।


জাতির অহংকার ঐ ৭১ এর বীর প্রতীক ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষার ঝুলি হাতে দ্বারে দ্বারে ঘোরে ,

ফেলানীর লাশ ঝোলে ভারতের কাঁটাতারে।

এ লজ্জা আর কত কাল বয়ে বেড়াবে।

এবার হাতিয়ার তুলে নাও এরং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো

যতক্ষণনা শরীর থেকে অপমানের জ্বালা মেটে।


ওরা সমাজতন্ত্রের কথা বলে সমাজবিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতার হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ওরা সুস্থ মস্তিস্কে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর জন্য তোমাকে চলন্ত ট্রেনের দিকে ঠেলে দিয়ে কাটা লাশ বানিয়ে বলি দিচ্ছে।

ওরা বিশ্বমানবতাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তোমাকে দিয়েই তোমার ভাইকে লগি বৈঠার আঘাতে হত্যা করাচ্ছে।

ওরা তোমার দরিদ্রতা ও কঙ্কালসার দেহকে প্রদর্শন করে দাতা সংস্থার ভিক্ষা এনে ভোগ করছে।

ওরা মরিয়ম ,জরিনা,ছকিনা,কালুমিয়ার যন্ত্রনাকাতর দেহকে অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে রেখে দর কষাকষি করে।

ওরা শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে বিভিন্ন ব্যান্ডে বাজারজাত করছে,

দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে বানিয়েছে এক একটি সামরিক ঘাটি

গ্রন্থের বদলে সরবারহ করছে অস্ত্র গোলাবারুদ

শিক্ষার বদলে চলছে সশস্ত্র মহড়া

আর সম্মুখ সমরে তোমাকে দিয়েই তোমার ভাইকে হত্যা করিয়ে ওদের ক্ষমতার কালো সিংহাসন পাকাপক্ত করছে।


এবার অস্ত্রের নিশানা তোমার ভাইয়ের বুক থেকে ঘুরিয়ে ওদের দিকে তাক করো

এবং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো

যতক্ষণ না ওদের সমূলে বিনাস ঘটে।


৫৫৫৯৯ বর্গমাইল সীমানার পবিত্র ভূমির প্রতি সেঃমিঃ ভূমি তোমার,

দেশের প্রতিটি অবকাঠামো তোমারই ইস্পাত হাতে গড়া ,

ঐ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে শক্ত হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার তোমারও আছে।

ভগ্নস্তূপের উপর দাড়ানো ক্যান্সার আক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে দুমরে মুচরে এবার তোমার হাতেই সাজাতে হবে।


হে নিঃপেষিত ,নিপীড়িত,নিরন্ন,প্রতারিতও প্রবঞ্চিত বাঙ্গালীর দল,

এবার ঐ ৪৭,৫২,৬৭,এবং৭১ এর দিকে ফিরে তাকাও,

প্রতিটি শহীদের নামে শপত গ্রহন করো, এবং

 জাতির এই ক্রান্তিকালে সুশৃংখল সৈনিকের মত এক সারিতে দাঁড়িয়ে রাইফেল হাতে তুলে নাও

এবং নিশানা ঠিক রেখে টিগার টিপতে থাকো ,

যতক্ষননা শাসনের নামে শোষন চলতে থাকে

যতক্ষন না তোমার বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত হয়।