বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

দাসত্বের বেড়ি পড়ান সভ্য সমাজের মানুষ হওয়ার চেয়ে গণমানুষের সুরে সুর মিলিয়ে গান গাওয়া সাধারণ জীবন সার্থক

একটি পুরস্কার বা পদক কাজের স্বীকৃতির পরিচয় বহন করে,পরবর্তী কাজের প্রেরণার পাথেয় হিসেবে অনুপ্রেরণা যোগায়, সমাজের মানুষের নিকট নতুন করে আবির্ভাব ঘটায়। অপরদিকে পুরষ্কারের বিপরীতের একজন পুরষ্কার গ্রহীতার যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় তাহলো, পুরষ্কার প্রাপ্তির পর পুরস্কৃত ব্যক্তির বিবেক,ইচ্ছা,আনন্দ,কণ্ঠ নতুন করে দাসত্বের শিকলে বন্দী হয়। কারণ কোন পুরষ্কার গ্রহণের সম্মতি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে পুরষ্কার প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে পুরষ্কার গ্রহীতার এক ধরণের আনুগত্যের অলিখিত চুক্তি সম্পাদন হয়ে যায়। ফলে পুরষ্কার প্রদানকারী ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ বা জনবিরোধী কোন কর্মকাণ্ডের সমালোচনার ক্ষেত্রে পুরষ্কার প্রাপ্ত ব্যক্তির সারা জীবনের অর্জিত শিক্ষা ও সাধনা দ্বারা তৈরি হওয়া বিবেকবোধের উপর প্রাপ্ত পুরষ্কার একটি পাথর হয়ে চেপে বসে।
যদি কোন গানের কথামালা আমার হৃদয়কে আন্দোলিত করে, সুরে আমার শিরা উপশিরায় শিহরণ তুলে দেহকে ছন্দে দোলায়।এই ছন্দের তালে দুলে যাওয়াইতো আমার বেঁচে থাকার স্বাধীনতার সুখ।যে পুরষ্কার আমার ছন্দের  তালকে বাধাগ্রস্ত করে ওটার নাম পুরষ্কার নয় ,ওটা সন্মান নয়, ওটা পরাধীনতা।
দাসত্বের বেড়ি পড়ান সভ্য সমাজের মানুষ হওয়ার চেয়ে মুক্ত পাখির মতো গণমানুষের সুরে সুর মিলিয়ে গান গাওয়া সাধারণ জীবন সার্থক……

বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮

জীবিত অথবা মৃত প্রাণীর শরীর মাত্রই প্রাণীর আহার

জীবিত অথবা মৃত প্রাণীর শরীর মাত্রই কোননা কোন প্রাণীর আহার।জীবিত মানুষের মাংস অনেক মাংসাশী প্রাণীর প্রিয় আহার হলেও তারা মানুষের মাংস ভক্ষণ থেকে বঞ্চিত হয়, কারণ মানুষ বুদ্ধির কারণে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা, ফলে আকৃতিতে ছোট হলেও অনেক বৃহৎ, হিংস্র ও শক্তিশালী প্রাণীর আক্রমণ থেকে সে নিজের শরীর ও প্রাণকে রক্ষা করতে পারে ।হিংস্র মাংসাশী প্রাণীকে বঞ্চিত করে মানুষ জীবিত অবস্থায় অন্য প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করলেও মৃত্যুর পর তাহার গলিত ও পচা শরীরকে পোকা মাকড়কে খাদ্য হিসেবে সপে দিতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ, মানুষ অন্য প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকার ঋণের শোধ জীবিত অবস্থায় করতে না পারলেও প্রাকৃতিক নিয়মে তার মৃত্যুর পর মৃত দেহ পোকা মাকড় ও কীট পতঙ্গকে খাবার সুযোগ দিয়ে শোধ করে।আবার জীবিত মানুষের শরীরের উপর ভর করে কৃমি তার প্রাণের স্বাদ গ্রহণ করে থাকে।মানুষ শুধু অন্য প্রাণীকে খায়ই না উকুন ও মশার মতো ক্ষুদ্র প্রাণীদেরকে তার রক্ত খাইয়ে বাঁচিয়েও রাখে।সৃষ্টি প্রকৃতির নিয়ম খাও এবং নিজেকেও খাওয়াও। আমি নিজে না চাইলেও সৃষ্টি প্রকৃতি এই ভাবেই চলছে এবং চলবে।অর্থাৎ এককে খেয়ে অন্যের জীবনের সুখ উপভোগ।এই নিয়ম এক দৃষ্টিকোন থেকে নিষ্ঠুর হলেও অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে অপার অনিন্দ্য সুন্দর।

উপরোক্ত আলোচনাটুকু করার কারণ আজ মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোরবানির ঈদ।এই দিনে সারা পৃথিবীতে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রচুর চতুষ্পদ প্রাণী জবেহ করা হয় এবং এই জবেহ করা মাংসের আবার ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী সুন্দর একটি বণ্টন ব্যবস্থা রয়েছে।
নিয়ম হচ্ছে কোরবানির মাংস বানানোর পর সব মাংস সমান তিনভাগে ভাগ করতে হবে। মাংস সমান তিন ভাগ করার পর এক ভাগ সমাজের নিম্ন বৃত্ত মানুষের জন্য , এক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে এবং এক ভাগ নিজে খাওয়ার জন্য রাখা হয়।
কোরবানির গরুর আরেকটি অংশ হচ্ছে চামড়ার টাকা। যা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদেরকে প্রদান করা হয়ে থাকে।

এই কোরবানির ফলে সমাজের যে শ্রেণীর মানুষের ম্যাকডোনাল্ড, কে এফ সি খাওয়ার সামর্থ নেই,এমন কি সারা বছরে একদিনেও মাংস কিনে খাওয়া হয়না তাদের ন্যূনতম মাংসের স্বাদ নেবার সুযোগ ঘটে।
কিন্তু প্রতি বছর কোরবানি ঈদ আসলেই কোরবানির এই মুসলিম রীতিকে কেন্দ্র করে কিছু ম্যাকডোনাল্ড,কে এফ সি , শুকুরের মাংস খাওয়া এবং পায়ে পশুর চামড়ার জুতা পরা উদারপন্থী মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরবানির পশুর জবেহ হওয়ার কষ্টে কাতর হয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রূপে সরব হয়ে ওঠেন।অনেক উদারপন্থী বিদ্বান রয়েছে যারা কোরবানির মাংস দিয়ে ভূড়ীভোজ করার পর কোরবানির পশুর গলায় ছুরি চালানোর ব্যথায় ব্যথিত হয়ে ফেচবুকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এই রীতির তুখোড় সমালোচনার ঝড় তোলেন। 

এমন উদারপন্থীদের প্রতি পরামর্শ, এ ধরনের সমালোচনার পূর্বে প্রতিজ্ঞা করুণ, আজ থেকে কোন প্রাণের থেকে নিজের প্রাণের উপকরণ সংগ্রহ করবো না (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) ।  দরকার হলে নিজের শরীর কৃমি, উকুন,মশা, ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য উপকরণ বানাবো কিন্তু নিজে পানি এবং বাতাস খেয়ে পৃথিবীর এই খাওয়া খাওয়ি নিয়মের প্রতিবাদ করে পোকা মাকড়কে এই রক্ত মাংসের দেহকে দান করে দেবো ……।
 সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ……
শ্লোগান হোক… নিজে খাই এবং অন্যেকেও মনের আনন্দে খাওয়াই ...।   

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮

খুন যদি হয় সমাধান,তবে কেন “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ"এই স্লোগান সম্বলিত প্রতিষ্ঠান ?

মাদক ব্যবসা কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে করা কখনোই  সম্ভব নয়। সমাজের যে সাধারণ মানুষটিকে মাদক ব্যবসা করতে দেখা যায় তার পেছনে হয়তো প্রশাসনিক অথবা রাজনৈতিক সহায়তা থাকে। সমাজের একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি কখনো নিজে হাতে মাদকের ফেরী করেনা, তারা এজেন্ট হিসেবে বেছে নেয় সমাজের বেকার হতাশাগ্রস্ত যুবকদের।তারাই এই যুবকদের দিয়ে যুব সমাজের হাতে মাদক তুলে দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাদের অর্থ বিত্ত বৈভবের গোপন সূত্র খুঁজতে গেলে দেখা যায় এর মূলে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ কোন অবৈধ ব্যবসা।মাদক যখন কোন দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে সেখানে প্রশাসনের সহায়তা থাকে, মাদক যখন স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় সেখানেও প্রশাসনের সহায়তা থাকে । এই সহায়তা যদি শুরু থেকে না করা হয় এবং শক্ত হাতে দমন করা হয় তাহলেতো এর  বিস্তার ঘটেনা। মাদকের অভিযানের নামে সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে  বিচার বহির্ভূত ভাবে মানুষ হত্যার উৎসব করার প্রয়োজন হয়না ।

এই প্রসঙ্গে আমার দেখা বাস্তব অভিজ্ঞতার একটু বর্ণনা করি, আমার জেলা রাজবাড়ীতে এক সময় ভারতীয় ফেনসিড্রিলের  রমরমা ব্যবসা হতো । যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের  মাঝে মাঝে  জীবন যাত্রার হালচাল দেখে বেশ ধনী মনে হতো। কিন্তু এমন সুখের সময় হঠাৎই পুলিশ এদের মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতো, তখন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী নিয়মিত থানা কোট কাচারিতে দৌড়াদৌড়ি করতো। এভাবে মাস দুয়েক  ফেনসিড্রিল ব্যবসার জমানো সব টাকা পুলিশ,  উকিল, আদালতের পেছনে খরচ করে  স্বামীকে জেল থেকে জামিনে মুক্ত করে বের করে নিয়ে আসতো। বেরিয়ে আসার পর ওপার থেকে  আবার সীমান্ত প্রহরীদের টাকা পয়সা দিয়ে ট্রেনে করে জি আর পি পুলিশের সহায়তায়  ফেনসিড্রিলের চালান নিয়ে আসতো। আবার রমরমা ব্যবসা, নগদ টাকার উড়াউড়ি। সেই টাকার গন্ধে আবার পুলিশের হানা। আবার স্ত্রী’র কোট কাচারিতে দৌড়াদৌড়ি, থানা পুলিশ, উকিলের পেছনে ব্যবসার জমানো সমস্ত টাকা ঢেলে প্রিয় স্বামীকে মুক্ত কড়ে নিয়ে আসা। ওই মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ বারবার মাদকসহ গ্রেপ্তার করলেও কখনো সংশোধনের সুযোগের জন্য মাদক আইনে সাজা ভোগ করে দীর্ঘদিন কারাবাস হতে দেখিনি।অর্থাৎ পুলিশের হাতে ধরা পড়া, জামিনে ছাড়া পাওয়া, আবার ব্যবসা করা এটাই ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ ।যারা এই ব্যবসা করতো তারা মূলত কিছুদিন ইলিশ মাছ, মাংস দিয়ে ভাত  খেত আর ভালো কাপড় পড়তো,কিন্তু পাকা বাড়ী বানাতে পারতোনা কারণ, নগদ জমলেই পুলিশ হানা । ওর জীবন ঝুঁকির টাকায় হয়তো পুলিশ অফিসারের ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ  হতো, রাজনৈতিক নেতার ভাই কিংবা বোন জামাইয়ের টাকার বাণ্ডিলের উপর বাণ্ডিল জমতো, কোটের উকিলের রুটি রুজি ভালো হতো। আর এই কারণেই ওই সব মাদক ব্যবসায়ীদের কখনো সংশোধনের জন্য সাজার ব্যবস্থা করা হতোনা। ওর সাজা হলে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা,  উকিলদের উপরি আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়।

নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে মাদক ব্যবসা মূলত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে মাদক বিক্রেতা,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, এই তিনের সমন্বয়েই সম্পন্ন হয়ে থাকে।দেশে যখন কোন বিশেষ অভিযান শুরু হয় তখন দেখা যায় যে লোকটা মাদক ব্যবসার টাকায় ইলিশ মাছ আর মাংস খায় ওই মারা পড়ে, যাদের  মাদকের টাকায় ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ হয় তাদের গুলিতে এবং টাকার বাণ্ডিলের পর বাণ্ডিল রাখা মহৎ জনদরদী নেতাদের পরিকল্পনায়।দেশের ক্ষমতাসীনরা যদি জনদরদী হয়ে থাকে তবে হঠাৎ করে বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন আছে কি? তাদের সুশাসনের ফলে মাদকসহ আইন শৃঙ্খলা অবস্থা সারা বছর স্বাভাবিক থাকবে।সরকারের উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয়ে  থাকে তাহলে একটি জীবন্ত মানুষকে হত্যা না করে তাকে বিচারের সম্মুখীন করা হোক এবং মাদকের মূল হোতাদের আবিষ্কারের জন্য তাকে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ভয় দিয়ে মিডিয়া এবং সমাজ সচেতন মানুষের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় আইনে  বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। রাষ্ট্র জনগণের কাছে পিতা মাতার মতো,সন্তানদের ভুল শুধরে সঠিক পথ দেখানোই তার  দায়িত্ব।  কিন্তু আমদের রাষ্ট্র অভিভাবক আমাদের  ভরণপোষণের ক্ষমতা রাখেনা, রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে পারেনা,অথচ যখন  নিজহাতে হত্যা করার  ধৃষ্টতা দেখিয়ে  বর্বর উৎসবে মেতে ওঠে, তখন  বুঝতে হবে আমাদের রাষ্ট্র মাতা সৎ পিতার অধীনের সংসার করছে। হত্যা যদি সমাধানের পথ হয় তবে  জেল গেটের ফটকে লেখা “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ” এ জাতিও নীতিবাক্যকে হাস্যকর মনে হয় এবং এমন প্রতিষ্ঠান নিষ্প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক ভাবে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হবে সরকারে ক্ষমতার মধ্যে থেকে কারা মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদেরকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।এই পদক্ষেপ কার্যকর করতে পারলে মাদক সমস্যার ৬০% সমাধান। দ্বিতীয়ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সৎ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তৈরি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে বাহিনীর কোন সদস্যের মাদক ব্যবসার  সহযোগিতায় যোগসাজশ রয়েছে এবং প্রমাণিত অসৎ সদস্যদের বাহিনী থেকে চাকুরীচ্যূতির মাধ্যমে বের করে দিতে হবে। এতে ৩০% সমাধান মিলবে।বাকী দশ ভাগ সমস্যার সমাধান মিলবে , মাঠ পর্যায়ে যারা মাদক সেবীদের নিকট সরাসরি মাদক পৌঁছে দিয়ে অর্থ উপার্জন করে তাদেরকে ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সংশোধনের সুযোগ দেয়া।   

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১৮

সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীর সমস্ত পেশার ভিত্তি কৃষক ও শ্রমিকের পেশা

সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ   পেশা কৃষক ও শ্রমিকের পেশা এবং পৃথিবীর সমস্ত পেশা গড়ে উঠেছে এই দুটি পেশার উপর ভিত্তি করে । পৃথিবীতে যে কর্মযজ্ঞ ও যা কিছু হচ্ছে তা এই দুটি পেশাকে কেন্দ্র করে।আজ অফিস আদালত, ব্যাংক বীমা,শিক্ষা, আবিষ্কার, রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রতিটি বিভাগ, পৃথিবীর যাবতীয় ঘটনাপুঞ্জ এই দুটি পেশার উপর নির্ভরশীল। 
কৃষকের উৎপাদন ও শ্রমিকের শ্রমেই গড়ে উঠে ব্যবসা বাণিজ্য, লেনদেন, কর্পোরেটদের স্যুট কোট টাইয়ের পরিপাটি পোশাক।যদি কখনো কৃষক তার খাদ্য উৎপাদন ও শ্রমিক তার পণ্য উৎপাদন কিছু দিনের জন্য বন্ধ করে দেয় তাহলে রাষ্ট্র তথা পৃথিবী যাবতীয় তন্ত্র মন্ত্র ,প্রণালী, পদ্ধুতি স্থবির হয়ে পড়বে।প্রয়োজনে  বাঁচার তাগিদে ব্যাংকার ও কর্পোরেট কর্মীদের  স্যুট কোট পরে মিল কারখানায় গিয়ে পণ্য উৎপাদন করতে হবে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি তার মন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে তুলতুলে চেয়ার ফেলে হাতুড়ী কাস্তে হাতে মাঠে নামতে হবে ।

কৃষক ও শ্রমিকের ঘাম যত বেশী ঝরে রাষ্ট্রযন্ত্রের চেয়ারগুলো তত বেশী নরম ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে কৃষক ও শ্রমিক যদি তার কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখে অন্যদিকে অন্য পেশাজীবী মানুষ যদি তাদের কাজ কর্ম বন্ধ রাখে তাতে সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলার কিছুটা ব্যহত হলেও সমাজ বা রাষ্ট্রের ভিত্তির কোন ক্ষতি সাধন হবেনা ।কোন লেখক যদি মারা যায় তখন আমরা বলি তার জীবদ্দশায় ১০০টি বই লিখে গেছেন আমাদের জন্য। অভিনেতার ক্ষেত্রে বলি ২০০ সিনেমা করে গেছেন আমাদের জন্য।একজন কৃষক মারা গেলে আমরা কখনো কি এভাবে হিসাব করি , তার জীবদ্দশায় শ্রমে ঘামে আমাদের জন্য তিনি কত টন খাদ্য উৎপাদন করেছেন  ,অথবা একজন কারখানা শ্রমিকের ক্ষেত্রে কি বলি তার জীবদ্দশায় এক লক্ষ পণ্য উৎপাদন করে আমাদের অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে গেছেন এই মহান মানুষটি । দুঃখের বিষয় সমস্ত পেশার অভিভাবক, সবচেয়ে সম্মানিত কৃষক ও শ্রমিকের পেশা রাষ্ট্রীয় ভাবে আজও বৈষম্য ও অবহেলার স্বীকার। আজকের এই মে দিবসে আমাদের সকলের কাম্য, কৃষক শ্রমিক তার প্রাপ্য সম্মান নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং তাদের  ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আর বেগবান হয়ে উঠুক । …… 

পৃথিবীর সমস্ত শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি রইলো মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা ……।।

রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

তুষারের শুভ্রতায় নবরূপে উদ্ভাসিত প্যারিস নগরী

সদ্য শরীরের কাঁটাছেড়া অংশে সকাল থেকে ব্যথার তীব্রতা বেড়েই চলছে। ব্যথানাশক ঔষধ সেবনে উপশমের চেষ্টা। ব্যথা নিয়েই মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় একাকী দিন যাপনের প্রস্তুতি। প্রকৃতি আগাম আভাস না দিয়ে হঠাৎ করেই শুরু করেছে বাতাসে তুষারের ওড়াউড়ি। যে দৃশ্যর অবতারণ সাধারণত প্যারিসে খুব একটা মেলেনা। মনে হল দিনটা বাড়তি প্রাপ্তি দিয়ে শুরু হল। ড্রয়িং রুমের প্রতিটি পর্দা তুলে দিয়ে সোফায় শুয়ে শুয়ে প্রকৃতির আপন মনে এমন খেলা করার দৃশ্য হৃদয়ে এক ভিন্ন রকম শিহরণ জাগিয়ে মুহূর্তগুলো রাঙিয়ে দিচ্ছে। বেলকোনিতে মাঝে মাঝে দুটো কালো কবুতর এসে সঙ্গ দিয়ে আবার উড়ে চলে যাচ্ছে। সাথে প্রিয় রবি সুর। স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী হলাম প্রকৃতির এমন আতিথেয়তায়!

এমন ভালোলাগা শুধু নিজে উপভোগ না করে প্রযুক্তির আশ্চর্য উদ্ভাবন ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে কিছু সময় ভাগাভাভাগি করলাম বন্ধুদের সঙ্গে। কিছুক্ষণের মধ্যে সামনের ছোট্ট পার্কটির সমতল ভূমির উপর প্রকৃতি তুষারের সাদা মাদুর বিছিয়ে দিলো। বৃক্ষরাজির শাখাগুলোর কাণ্ড পরিণত হল থোকা থোকা সাদা পুষ্পের ন্যায়। 

দীর্ঘদিন অবসর কাটানো ক্যামেরােকে জাগিয়ে তুললাম প্রকৃতির এমন রূপ ধরে রাখার জন্য। অসুস্থ শরীর, কিন্তু মনটা বেশ চনমনে হয়ে উঠেছে এরই মধ্যে। এভাবে দু‘দিন পার করলে পুরো প্যারিস কি রূপে উদ্ভাসিত হয়েছে সেই কৌতূহল ভেতরে ভেতরে তাড়া দিচ্ছে তা বেশ অনুভব করছি, কিন্তু সদ্য হসপিটালের অপারেশনের টেবিল থেকে ফেরা দেহ কি পারবে আমাকে শুভ্র সাদা প্যারিসের রূপ ঘুরে দেখাতে, সেই আশংকায় দোদুল্যমান মন। ভেতরে সাহস সঞ্চার করে নিজেকে গৃহকোণ থেকে মুক্ত করে শ্যেন নদীর দিকে রওনা হলাম।   

বাঙলার প্রকৃতিতে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে সারা দিন মেঘলা আকাশ গুড়িগুড়ি বৃষ্টির দিনে গৃহবন্দী জীবনের যেমন আলাদা স্বাদ রয়েছে। তেমন এখানকার প্রকৃতিতে শিমূল তুলোর মতো শুভ্র তুষারের উড়ে উড়ে ঝরে পড়ার দৃশ্যও দেহ মনে এক অন্যরকম শিহরণ জাগায়। প্রতি বছর প্যারিসের আশেপাশের শহরগুলোতে তুষারপাত হলেও গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্যারিস নগরী তুষারে শুভ্র সাদায় সাজেনি। ক্রিসমাস বা নয়েল উৎসবগুলোতে কৃত্রিম তুষারে সজ্জিত করা হয় নগরীর বড় বড় পর্যটন ও জনপ্রিয় জনবহুল এলাকাগুলো। কৃত্রিম সজ্জা থেকে এই শহর নিজের শরীরকে মুক্ত করেছে জানুয়ারির শেষে, কিন্তু আজ প্যারিসকে প্রকৃতি সাজিয়েছে আপন হাতে। ফ্রান্সে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে শ্যেন নদী সাধারণ সীমানার উপর দিয়ে পানি’র স্রোতের ধারা প্রবাহিত করছে, ফলে প্রমদতরিগুলো কূলে নোঙ্গর করে অলস সময় পার করছে, তুষারের শুভ্র প্রলেপের কারণে নদীর দুই ধারের সারি সারি জাহাজগুলোকে দূর থেকে মনে হচ্ছে সেনের তীর ঘেঁষে সদ্য গড়ে উঠা পাড়া গাঁয়ে উৎসব চলছে।    


রাস্তায় যান চলাচল স্বল্পতার কারণে প্যারিস শহুরে রূপ হারিয়ে কোথাও সাদা বিরান ভূমির মতো, আবার রাস্তার পাশের বিস্তীর্ণ গাছগাছালি ঘন তুষারের আবরণে ঢাকা পড়ে সাদা বনভূমিতে রূপান্তর হয়েছে। মার্চ থেকে ফ্রান্সে বসন্তের শুরু কিন্তু এখনো ফুলেদের আগমনী চিহ্ন চোখে পড়েনি। কিন্তু প্যারিসের এভেনিউগুলোর দু’পাশের সৌন্দর্য বর্ধনশীল সারিবাধা গাছগুলো যেন তুষার দিয়ে সাদা চেরি ফুল ফুটিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্য বসন্তের অগ্রিম রূপের সৌন্দর্যে বিমোহিত করছে। বিখ্যাত ভাস্করদের তৈরি ভাস্কর্যগুলোর উপর প্রকৃতি নতুন করে অলঙ্করণ করেছে, সে দৃশ্য একেবারে কম মনোহর নয়। এমন দিনে প্যারিসের পথে যে কারও স্বর্গীয় অনুভূতিতে দেহ মন আচ্ছাদিত হতে পারে।   































মনে হল, প্যারিসের এমন রূপের দিকে তাকালে প্রেমে পড়বেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দায়। শত শত বছর ধরে হাজার হাজার শিল্পী প্যারিসের রুপের উৎকর্ষ সাধনের যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তা আজ পণ্ডশ্রমে পর্যবসিত। প্যারিসের আজকের রূপের কাছে শিল্পকলার সমস্ত সৃষ্টিই যেন পরাজিত! যে হৃদয় পাথরসম অনুভূতিহীন প্যারিসের আজকের প্রকৃতি সেই হৃদয়ে প্রাণের সঞ্চার করতে দুহাত বাড়িয়ে ডাকছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য ক্যামেরা হাতে বেড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য সৌন্দর্য় পিপাসু্ মানুষ নিজেকে স্মৃতি করে রাখার জন্য। বৃষ্টির দিনে বাংলার দুরন্ত কিশোর-কিশোরী যেমন বৃষ্টিতে ভিজে তার দুরন্তপনা ও দুুষ্টুমিতে প্রকৃতির হেয়ালিপনাকে সার্থক করে তোলে, তেমনি প্যারিসের বুকে বেড়ে ওঠা দুরন্ত কিশোর-কিশোরীর দলও প্রকৃতির এই উৎসবের দিনে উজার করে উচ্ছ্বাস ঢেলে দিচ্ছে। বাংলার বর্ষা, বসন্ত, শরৎ যেমন প্রেমিক প্রেমিকার মনে দোলা দেয়, অনুভূতিতে ভিন্নতা আনে, হৃদয়ের রংয়ের বৈচিত্রতা আনে, পশ্চিমা প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ে আমাদের মতো এতো বৈচিত্র্য না থাকলেও আজকের প্যারিসের প্রকৃতি অবশ্যই ওদেরকে রোমাঞ্চিত করছে। 

তুষার শুভ্রতায় নবরূপে উদ্ভাসিত প্যারিস নগরী 


আলোকচিত্র: মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ, 

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

অতিরিক্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কি বাংলাদেশের অশুভ শক্তির নোবেল পুরষ্কারের সনদ ও ট্রফির প্রলোভনের বোঝা নাকি মানবিকতার সত্যিকারের দ্বার উন্মোচনের উপহার?

আমাদের দেশের রাজনীতি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ প্রভাবে। দেশের রাজনীতি যেহেতু ব্যক্তিস্বার্থ কেন্দ্রিক তাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ উদ্ধারের কৌশলের  প্রয়োগ বাস্তবায়ন খুব সহজ। বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গা শঙ্কট সারা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছে তেমনি মানবতার এই বিপর্যয়ের চিত্র বাংলাদেশের হৃদয়প্রাণ মানুষের মনকে কাঁদিয়েছে।আমাদের  বিপুল জনগোষ্ঠীর হাজারো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা জনপদ আরও দশ লক্ষ মানুষের আশ্রয় দিয়ে তাদের প্রাণ রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। উদ্দেশ্যও মানুষ বেঁচে থাক ।দেশে আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচিত  বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও এই বিপদগ্রস্ত  জনগোষ্ঠীর পাশে থাকায় দেশের মানুষের সমর্থন ও প্রশংসা  পেয়েছেন। পরবর্তীতে এই আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের স্বভূমিতে ফেরত যাবে কিনা কিংবা পাঠানো যাবে কিনা তা আলাপ আলোচনার নামে বাকী বিষয় ।অর্থাৎ সত্য বাস্তবতা হল  আমাদের ঘাড়ের উপর দশ লক্ষ নিরন্ন নিপীড়িত মানুষের দায়িত্ব। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর থেকেই একটা বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  ক্ষমতাসীন দল আওয়ামেলীগের মধ্যে দারুণ ভাবে আলোচনা হচ্ছিলো যে ,রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় দেয়ার কারণে তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা  নোবেল পুরষ্কারের শান্তি বিভাগের  সনদপত্র ট্রফি অর্জন করবেন। ডঃ ইউনুস এর নোবেল পুরষ্কার নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের  যে ক্ষোভ রয়েছে তার মোক্ষম জবাব দেবেন। দুঃখের বিষয় বছর নোবেল কমিটি  শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে কাজ করছে এমন একটি সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপন্স বা আইক্যান-এর নাম ঘোষণা করেছে।
এখন একটা প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়, তাহলো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ার পর থেকে কেন শেখ হাসিনার  নোবেল পুরষ্কারের প্রসঙ্গ সামনে এসে দাঁড়ালো? রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ার সঙ্গে নোবেল পুরষ্কারের কি যোগসূত্র

কোন অঞ্চলে যখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কোন স্বার্থের জন্য অরাজকতা সৃষ্টি করে তখন অরাজকতার মূল কারণকে আড়াল করার জন্য অঞ্চলের মানুষের  ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে  ধর্মীয় সংঘাত প্রচার করে  তাদের অশুভ উদ্দেশ্যকে আড়াল করার চেষ্টা করে। পৃথিবীতে  শান্তি প্রতিষ্ঠার  নামে যে সংঘগুলো খোলা হয়েছে তার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রিত  পরিচালিত সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর আদেশ নির্দেশে। ফলে অরাজকতা তৈরির পর সবার আগে  ওই অঞ্চলে শান্তি সংঘের  ত্রাণের বহর ওই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নির্দেশেই পৌঁছে যায়। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট  সংঘাতময় অঞ্চলেকে জনশূন্য করে  বাস্তুচূত মানুষের একটি পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও তাদের পূর্ব থেকেই থাকে। ফলশ্রুতিতে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া চলমান  নির্মমতা,শিশুর বীভৎস লাশ, নারীর  উপর চালানো পাশবিকতা দেখেও পৃথিবীর চালক বা মুরব্বীদের কোন তড়িৎ কর্মপন্থা চোখে পড়েনা। ধ্বংসলীলা শেষ হওয়ার  পর থেকে শুরু হয় বিবৃতি ফলহীন আলাপ  আলোচনার পর্ব। 
প্রশ্ন হল  আমরা কি এমনি  বিশেষ শক্তির স্বার্থ উদ্ধারের কৌশলের বলি হলাম কিনা
সন্দেহ থেকেই যায়,  

 এই দশ লক্ষ ভিনদেশী নিপীড়িত  জনগোষ্ঠী কি বাংলাদেশের অশুভ শক্তি কর্তৃক  নোবেল পুরষ্কারের সনদ ট্রফির প্রলোভনের বোঝা, নাকি মানবিকতার সত্যিকারের দ্বার উন্মোচনের উপহার

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৭

উন্নয়ন সরকার বনাম রামপাল আন্দোলন

বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন এক উন্নয়ন সরকারের অধীনে জীবন যাপন করছে যে, জনগণ উন্নয়ন না চাইলেও সরকার জোর করে দেশ ও জনগণের  উন্নয়ন করতে   ব্যতিব্যস্ত । উন্নয়ন হলে জনগণের খুশী হওয়ার কথা ,কারণ দেশের উন্নয়ন সাথে মানুষের জীবন যাপনের মানোন্নয়নের সম্পর্ক। তবু দেশের বৃহৎ একটা অংশ এমন উন্নয়ন চাচ্ছে না বরং বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছে। এই বৃহৎ অংশ আবার অন্ধ বিশ্বাসী মানুষ নয়, কারও আনুগত্য বা দালালী  করে অর্থ বিত্ত বানানোর মানুষিকতা সম্পন্ন নয়, এরা যুক্তিবাদী, বিজ্ঞান মনস্ক, সচেতন এবং ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানবতাবাদী মানুষদের অংশ। এদের ডাকে সাড়া দিয়ে জেগে উঠে রাস্তায় নেমেছে  দেশের বৃহৎ তরুণ প্রজন্ম। যে প্রজন্ম কোন টেণ্ডার পাওয়া, বা মিছিল শেষে খিচুড়ি খাওয়ার আশায় এই ডাকে সাড়া দেননি কিংবা ভবিষ্যতে কোন মন্ত্রী,  এম পি হওয়ার পথকে সুগম করার জন্যও সাড়া দেননি। তারা উপলব্ধি ও যুক্তির নিরিখে বুঝতে পেরেছেন সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপিত হলে জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন হুমকির সম্মুখীন হবে।একজন ব্যক্তির গোঁয়ারতুমিতে  এই বন ধ্বংস হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অভাবনীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ নানামুখী সমস্যার  সম্মুখীন হবে, এই চেতনার জায়গা থেকেই নিজের পকেটের পয়সা ও সময় ব্যয় করে  তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে। তাদের আন্দোলন ভাষা ও প্রতিবাদের মাধ্যমগুলো সভ্য,মার্জিত,সুশৃঙ্খল এবং সৃজনশীল। তবুও কেন সরকার একবারের জন্যও এই মানুষগুলোর কথা শোনার প্রয়োজন অনুভব করছে না?
এখানে বুঝতে হবে,  আমরা সাধারণ দৃষ্টিতে উন্নয়ন বলতে যা দেখি বা বুঝি,ক্ষমতাসীনরাও কি একই ভাবে বোঝে? পার্থক্যের বিস্তর ফারাক এখানেই। আমরা উন্নয়ন বলতে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে বুঝি। আর ক্ষমতাসীনদের উন্নয়ন হল প্রকল্প বরাদ্দের নামে  কিছু মানুষের মধ্যে  অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে বিদেশে পাচার করা। এই জায়গায় বাধা এলে কে ছেড়ে দ্যায়। প্রজাতন্ত্রের সকল শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা তাদের হাতে। প্রয়োজন হলে প্রজাতন্ত্রের বৈধ শক্তিকে অবৈধ ব্যবহার করে হলেও নিজ স্বার্থ উদ্ধার করবে।অবৈধ ও স্বার্থান্বেষীদের চরিত্র এমনই হয়ে থাকে। 
বর্তমান চলমান আন্দোলনকারীদের সাথে আজকের দানবীয় সরকারের মূল দ্বন্দ্ব এখানেই।  

তবে  যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ইস্যুতে যে তরুণ প্রজন্মের সমর্থনে আজকের সরকারের  এই দানবীয় রূপ, সেই তরুণ প্রজন্মই জাতিয় স্বার্থে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আপনাদের বিপক্ষে, সুতরাং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার আশীর্বাদে স্থিতিশীল হওয়ার সুবাদে এই উপলব্ধি আজ না হলেও, বাস্তবতা দিয়ে সেই উপলব্ধি করার সময় শুধুই  সময়ের ব্যাপার মাত্র ......।

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ , শেখ হাসিনার বাংলাদেশ

এবার বাংলাদেশের প্রাথমিক পাঠ্যবই এর মলাটের পেছনে সংযোজিত নতুন দু’লাইনের একটি স্লোগান দেশের বর্তমান প্রকৃত বাস্তবতার ইঙ্গিত ও অনেকগুলো ভাবনার জন্ম দিলো। শ্লোগানটি হল-

শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ
শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।
শ্লোগানটি মূলত হওয়া উচিত ছিলো-
শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ
আমার এই বাংলাদেশ।
এমন হলে একটি শিশু ভাবতে শিখতো এই দেশ ও এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আমার, তাই আমাকে এই রাষ্ট্র ও এই জনগোষ্ঠীকে সঠিকরূপে পরিচালনার জন্য জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে এবং নিজেকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এমন হলে শিশুর মনের মধ্যে তৈরি হতো নেতৃত্ব দানের মানসিকতা।
অথবা শ্লোগানটি যদি এমন হতো-
শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ
আমাদের এই বাংলাদেশ।
তাহলে একটি শিশুর মধ্যে গড়ে উঠত সামগ্রিক জাতিকে নিয়ে ভাবনার মানসিকতা এবং মনের মধ্যে উদয় হতো- সম্মিলিত চেষ্টা ও অবদানেই গড়ে তোলা সম্ভব সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আর সেই অবদানে নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে জ্ঞান অর্জন অত্যাবশ্যক।
আজকের শিশু মূলত আগামী দিনের দেশের কর্ণধার এবং দেশ গড়ার কারিগর। একটি শিশু যে দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার এবং তার হাতেই রাষ্ট্রের আগামী দিনের দায়িত্ব এই বোধটা শিশুদের মধ্যে তৈরি করে দেয়ার মহান দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের এবং তা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থেই।
কিন্তু আজ যে স্লোগানটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে, এই স্লোগানটির মাধ্যমে প্রথমেই একটি শিশুর মনে যে ধারণা বা বোধের জন্ম দেবে তা হলো, পড়তে হবে দেশ গড়ার জন্য কিন্তু পড়াশুনা করে যে দেশটি গড়ার দায়িত্ব তাকে নিতে হবে সেই দেশটি তার নয়, দেশটি একজন ব্যক্তি বিশেষের। পড়াশুনা করে মূলত তাকে এই দেশ গড়ার জন্য একজন দক্ষ কর্মচারী হতে হবে, নেতা হওয়া যাবেনা, কারণ দেশের নেতৃত্ব আসবে দেশের মালিকের উত্তরসূরিদের থেকে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের জন্য কোন ব্যক্তি বিশেষকে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব প্রদান করে থাকেন। জনগণ মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতা নির্বাচন করেন, তাকে রাষ্ট্রের মালিকানা প্রদান করেন না। কিন্তু এবারের প্রাথমিক শিক্ষার বইয়ের মলাটের শ্লোগানের সারমর্ম বলে দিচ্ছে, আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নয় বরং রাষ্ট্রের মালিকানা সত্ত্ব অর্জন করেছেন। এমন স্লোগানের যৌক্তিকতায় বলা যেতে পারে, যেহেতু আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে জনগণ দায়িত্ব দেননি, দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন এবং তা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে। পৃথিবীর সমস্ত অবৈধ ক্ষমতাধারীরা সব সময়য় নিজেদের কে রাষ্ট্রের মালিক বা অধিপতি ভাবেন আর জনগণকে তার দাস মনে করেন। আর রাষ্ট্র শক্তির অপব্যবহার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে যাবতীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে থাকেন। যা ঐতিহাসিক সত্য। তার বহিঃপ্রকাশ আমরা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লক্ষ্য করছি।

দেশটা যে দীর্ঘ মেয়াদি স্বৈরশাসনের কব্জায় পড়েছে তারই সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে বইয়ের মলাটের দুই লাইনের স্লোগানে। একটি শিশুর জীবনের সমাজ নিয়ে ভাবনার প্রথম ধাপেই তার মস্তিষ্কে মধ্যে পরাধীনতার বীজ ঢুকিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, এর ফলে শিশুর মনে অঙ্কুরিত হবে দাস প্রবৃত্তির মানসিকতা, ভবিষ্যতের বেড়ে ওঠা মানুষটির মধ্যে তৈরি হবেনা প্রতিবাদের মানসিকতা, তৈরি হবে বিশেষ কোন মানুষ বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য ও মাথানত করার প্রবৃত্তি।
সাধারণত উন্নত চিন্তাশীল দেশগুলোতে দেখা যায়, যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ও বৃহত্তর স্বার্থে কোন বিশেষ অবদান রেখে যান তাহলে তাদের দায়িত্ব থেকে বিদায়ের পর পরবর্তী প্রজন্ম অথবা পরবর্তীতে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নানাভাবে সম্মান প্রদর্শন করেন। অথচ আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে বৃহত্তর জনগণের শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধা প্রদর্শনকে উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার মাধ্যমে আইন করে নিজের জীবদ্দশায় নিজের স্বীকৃতি নিজেই ঘোষণা করে মানসিক আত্মতৃপ্তি লাভ করার সংস্কৃতি। যা হাস্যকর ও রাষ্ট্রের জন্য অকল্যাণকর।  
শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১৬

সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে মামলা এবং প্রসঙ্গ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফেজবুকে কূটক্তি করায় ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে কাস্টমস ক্যাডারে যোগ দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

তবে আমি এই প্রসঙ্গ ধরে একটু অন্য ভাবে বলার চেষ্টা করছি,.. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মধ্যে গর্বের ধন হলেও এখন আন্তর্জাতিক ভাবে গর্ব করার মত কিছুই নেই।এখান থেকে পাশ করা কিছু ছাত্র ব্যতিত অধিকাংশ ছাত্রই দেশের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার অনুপযুক্ত।এখানে এখন শিক্ষার থেকে ছাত্র শিক্ষকেরা বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি বেশী চর্চা করে। ফলোশ্রুতিতে এক সময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই বিদ্যাপীঠটিকে বিশ্বের হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যখন র‍্যাংকিং হয় তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অসংখ্যের শেষ কাতারেও খুঁজে পাওয়া যায় না।অবকাঠামোগত দিক থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার সত্বেও শিক্ষার মানের কারণে এই দুর্দশা। এখান থেকে পড়ে দেশের মধ্যে বিসিএস ক্যাডার বা পিস্তল চালনায় দক্ষতা অর্জন করে দেশের মন্ত্রী হওয়ার মধ্যে গর্বের কিছুই নাইযদিনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার যোগ্য না হই এবং এখানে থেকে সেই মানের শিক্ষার্থী তৈরী না হয়।এখন দেশের মধ্যে দেশী বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণই পদের শূন্যতা পূরণ করতে হয় দেশের বাইরে থেকে কর্মকর্তা এনে।দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার্থী বা মানব সম্পদ তৈরী করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে।আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এমন অনেক মানুষের সাক্ষাৎ ঘটেছে যারা যুগোপযোগী শিক্ষা অর্জন করতে না পারায় ব্যক্তি ও কর্ম জীবনে ব্যর্থ হয়ে শুধু এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের অহংকারে নিজেদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা ও মেধাবী ভেবে থাকেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সংগ্রামের প্রতীক। আমাদের সম্পদ।এই প্রতিষ্ঠানে যারা অধ্যায়ন করছে এবং করেছেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু তাদেরই ভাবনার বিষয় ও গর্ব করার সম্পদ নয়।এটা সমগ্র দেশের মানুষেরই গর্বের ধন।কারণ এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে আমরাও গর্ববোধ করি এবং ব্যর্থতায় আমরাও চিন্তিত হই। তাই গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার সবারই রয়েছে এবং সেই সমালোচনায় নিজেকে অসম্মানবোধ না করে, বরং সমালোচনার বাস্তবতা আমলে নিয়ে নিরবে গ্রহণ বা পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। তবে এ কথা মানি কারো অবাস্তব বা অমূলক সমালোচনায় এত বড় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ সময়ের অর্জিত সম্মানের তেমন কিবা ক্ষতি সাধন হতে পারে।