বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
দাসত্বের বেড়ি পড়ান সভ্য সমাজের মানুষ হওয়ার চেয়ে গণমানুষের সুরে সুর মিলিয়ে গান গাওয়া সাধারণ জীবন সার্থক
বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮
জীবিত অথবা মৃত প্রাণীর শরীর মাত্রই প্রাণীর আহার
উপরোক্ত আলোচনাটুকু করার কারণ আজ মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোরবানির ঈদ।এই দিনে সারা পৃথিবীতে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রচুর চতুষ্পদ প্রাণী জবেহ করা হয় এবং এই জবেহ করা মাংসের আবার ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী সুন্দর একটি বণ্টন ব্যবস্থা রয়েছে।
নিয়ম হচ্ছে কোরবানির মাংস বানানোর পর সব মাংস সমান তিনভাগে ভাগ করতে হবে। মাংস সমান তিন ভাগ করার পর এক ভাগ সমাজের নিম্ন বৃত্ত মানুষের জন্য , এক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে এবং এক ভাগ নিজে খাওয়ার জন্য রাখা হয়।
কোরবানির গরুর আরেকটি অংশ হচ্ছে চামড়ার টাকা। যা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদেরকে প্রদান করা হয়ে থাকে।
কিন্তু প্রতি বছর কোরবানি ঈদ আসলেই কোরবানির এই মুসলিম রীতিকে কেন্দ্র করে কিছু ম্যাকডোনাল্ড,কে এফ সি , শুকুরের মাংস খাওয়া এবং পায়ে পশুর চামড়ার জুতা পরা উদারপন্থী মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরবানির পশুর জবেহ হওয়ার কষ্টে কাতর হয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রূপে সরব হয়ে ওঠেন।অনেক উদারপন্থী বিদ্বান রয়েছে যারা কোরবানির মাংস দিয়ে ভূড়ীভোজ করার পর কোরবানির পশুর গলায় ছুরি চালানোর ব্যথায় ব্যথিত হয়ে ফেচবুকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এই রীতির তুখোড় সমালোচনার ঝড় তোলেন।
এমন উদারপন্থীদের প্রতি পরামর্শ, এ ধরনের সমালোচনার পূর্বে প্রতিজ্ঞা করুণ, আজ থেকে কোন প্রাণের থেকে নিজের প্রাণের উপকরণ সংগ্রহ করবো না (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) । দরকার হলে নিজের শরীর কৃমি, উকুন,মশা, ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য উপকরণ বানাবো কিন্তু নিজে পানি এবং বাতাস খেয়ে পৃথিবীর এই খাওয়া খাওয়ি নিয়মের প্রতিবাদ করে পোকা মাকড়কে এই রক্ত মাংসের দেহকে দান করে দেবো ……।
শ্লোগান হোক… নিজে খাই এবং অন্যেকেও মনের আনন্দে খাওয়াই ...।
শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮
খুন যদি হয় সমাধান,তবে কেন “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ"এই স্লোগান সম্বলিত প্রতিষ্ঠান ?
এই প্রসঙ্গে আমার দেখা বাস্তব অভিজ্ঞতার একটু বর্ণনা করি, আমার জেলা রাজবাড়ীতে এক সময় ভারতীয় ফেনসিড্রিলের রমরমা ব্যবসা হতো । যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের মাঝে মাঝে জীবন যাত্রার হালচাল দেখে বেশ ধনী মনে হতো। কিন্তু এমন সুখের সময় হঠাৎই পুলিশ এদের মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতো, তখন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী নিয়মিত থানা কোট কাচারিতে দৌড়াদৌড়ি করতো। এভাবে মাস দুয়েক ফেনসিড্রিল ব্যবসার জমানো সব টাকা পুলিশ, উকিল, আদালতের পেছনে খরচ করে স্বামীকে জেল থেকে জামিনে মুক্ত করে বের করে নিয়ে আসতো। বেরিয়ে আসার পর ওপার থেকে আবার সীমান্ত প্রহরীদের টাকা পয়সা দিয়ে ট্রেনে করে জি আর পি পুলিশের সহায়তায় ফেনসিড্রিলের চালান নিয়ে আসতো। আবার রমরমা ব্যবসা, নগদ টাকার উড়াউড়ি। সেই টাকার গন্ধে আবার পুলিশের হানা। আবার স্ত্রী’র কোট কাচারিতে দৌড়াদৌড়ি, থানা পুলিশ, উকিলের পেছনে ব্যবসার জমানো সমস্ত টাকা ঢেলে প্রিয় স্বামীকে মুক্ত কড়ে নিয়ে আসা। ওই মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ বারবার মাদকসহ গ্রেপ্তার করলেও কখনো সংশোধনের সুযোগের জন্য মাদক আইনে সাজা ভোগ করে দীর্ঘদিন কারাবাস হতে দেখিনি।অর্থাৎ পুলিশের হাতে ধরা পড়া, জামিনে ছাড়া পাওয়া, আবার ব্যবসা করা এটাই ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ ।যারা এই ব্যবসা করতো তারা মূলত কিছুদিন ইলিশ মাছ, মাংস দিয়ে ভাত খেত আর ভালো কাপড় পড়তো,কিন্তু পাকা বাড়ী বানাতে পারতোনা কারণ, নগদ জমলেই পুলিশ হানা । ওর জীবন ঝুঁকির টাকায় হয়তো পুলিশ অফিসারের ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ হতো, রাজনৈতিক নেতার ভাই কিংবা বোন জামাইয়ের টাকার বাণ্ডিলের উপর বাণ্ডিল জমতো, কোটের উকিলের রুটি রুজি ভালো হতো। আর এই কারণেই ওই সব মাদক ব্যবসায়ীদের কখনো সংশোধনের জন্য সাজার ব্যবস্থা করা হতোনা। ওর সাজা হলে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, উকিলদের উপরি আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে মাদক ব্যবসা মূলত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে মাদক বিক্রেতা,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, এই তিনের সমন্বয়েই সম্পন্ন হয়ে থাকে।দেশে যখন কোন বিশেষ অভিযান শুরু হয় তখন দেখা যায় যে লোকটা মাদক ব্যবসার টাকায় ইলিশ মাছ আর মাংস খায় ওই মারা পড়ে, যাদের মাদকের টাকায় ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ হয় তাদের গুলিতে এবং টাকার বাণ্ডিলের পর বাণ্ডিল রাখা মহৎ জনদরদী নেতাদের পরিকল্পনায়।দেশের ক্ষমতাসীনরা যদি জনদরদী হয়ে থাকে তবে হঠাৎ করে বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন আছে কি? তাদের সুশাসনের ফলে মাদকসহ আইন শৃঙ্খলা অবস্থা সারা বছর স্বাভাবিক থাকবে।সরকারের উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয়ে থাকে তাহলে একটি জীবন্ত মানুষকে হত্যা না করে তাকে বিচারের সম্মুখীন করা হোক এবং মাদকের মূল হোতাদের আবিষ্কারের জন্য তাকে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ভয় দিয়ে মিডিয়া এবং সমাজ সচেতন মানুষের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। রাষ্ট্র জনগণের কাছে পিতা মাতার মতো,সন্তানদের ভুল শুধরে সঠিক পথ দেখানোই তার দায়িত্ব। কিন্তু আমদের রাষ্ট্র অভিভাবক আমাদের ভরণপোষণের ক্ষমতা রাখেনা, রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে পারেনা,অথচ যখন নিজহাতে হত্যা করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে বর্বর উৎসবে মেতে ওঠে, তখন বুঝতে হবে আমাদের রাষ্ট্র মাতা সৎ পিতার অধীনের সংসার করছে। হত্যা যদি সমাধানের পথ হয় তবে জেল গেটের ফটকে লেখা “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ” এ জাতিও নীতিবাক্যকে হাস্যকর মনে হয় এবং এমন প্রতিষ্ঠান নিষ্প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক ভাবে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হবে সরকারে ক্ষমতার মধ্যে থেকে কারা মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদেরকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।এই পদক্ষেপ কার্যকর করতে পারলে মাদক সমস্যার ৬০% সমাধান। দ্বিতীয়ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সৎ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তৈরি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে বাহিনীর কোন সদস্যের মাদক ব্যবসার সহযোগিতায় যোগসাজশ রয়েছে এবং প্রমাণিত অসৎ সদস্যদের বাহিনী থেকে চাকুরীচ্যূতির মাধ্যমে বের করে দিতে হবে। এতে ৩০% সমাধান মিলবে।বাকী দশ ভাগ সমস্যার সমাধান মিলবে , মাঠ পর্যায়ে যারা মাদক সেবীদের নিকট সরাসরি মাদক পৌঁছে দিয়ে অর্থ উপার্জন করে তাদেরকে ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সংশোধনের সুযোগ দেয়া।
মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১৮
সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীর সমস্ত পেশার ভিত্তি কৃষক ও শ্রমিকের পেশা
রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
তুষারের শুভ্রতায় নবরূপে উদ্ভাসিত প্যারিস নগরী
সদ্য শরীরের কাঁটাছেড়া অংশে সকাল থেকে ব্যথার তীব্রতা বেড়েই চলছে। ব্যথানাশক ঔষধ সেবনে উপশমের চেষ্টা। ব্যথা নিয়েই মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় একাকী দিন যাপনের প্রস্তুতি। প্রকৃতি আগাম আভাস না দিয়ে হঠাৎ করেই শুরু করেছে বাতাসে তুষারের ওড়াউড়ি। যে দৃশ্যর অবতারণ সাধারণত প্যারিসে খুব একটা মেলেনা। মনে হল দিনটা বাড়তি প্রাপ্তি দিয়ে শুরু হল। ড্রয়িং রুমের প্রতিটি পর্দা তুলে দিয়ে সোফায় শুয়ে শুয়ে প্রকৃতির আপন মনে এমন খেলা করার দৃশ্য হৃদয়ে এক ভিন্ন রকম শিহরণ জাগিয়ে মুহূর্তগুলো রাঙিয়ে দিচ্ছে। বেলকোনিতে মাঝে মাঝে দুটো কালো কবুতর এসে সঙ্গ দিয়ে আবার উড়ে চলে যাচ্ছে। সাথে প্রিয় রবি সুর। স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী হলাম প্রকৃতির এমন আতিথেয়তায়!
এমন ভালোলাগা শুধু নিজে উপভোগ না করে প্রযুক্তির আশ্চর্য উদ্ভাবন ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে কিছু সময় ভাগাভাভাগি করলাম বন্ধুদের সঙ্গে। কিছুক্ষণের মধ্যে সামনের ছোট্ট পার্কটির সমতল ভূমির উপর প্রকৃতি তুষারের সাদা মাদুর বিছিয়ে দিলো। বৃক্ষরাজির শাখাগুলোর কাণ্ড পরিণত হল থোকা থোকা সাদা পুষ্পের ন্যায়।
দীর্ঘদিন অবসর কাটানো ক্যামেরােকে জাগিয়ে তুললাম প্রকৃতির এমন রূপ ধরে রাখার জন্য। অসুস্থ শরীর, কিন্তু মনটা বেশ চনমনে হয়ে উঠেছে এরই মধ্যে। এভাবে দু‘দিন পার করলে পুরো প্যারিস কি রূপে উদ্ভাসিত হয়েছে সেই কৌতূহল ভেতরে ভেতরে তাড়া দিচ্ছে তা বেশ অনুভব করছি, কিন্তু সদ্য হসপিটালের অপারেশনের টেবিল থেকে ফেরা দেহ কি পারবে আমাকে শুভ্র সাদা প্যারিসের রূপ ঘুরে দেখাতে, সেই আশংকায় দোদুল্যমান মন। ভেতরে সাহস সঞ্চার করে নিজেকে গৃহকোণ থেকে মুক্ত করে শ্যেন নদীর দিকে রওনা হলাম। 
মনে হল, প্যারিসের এমন রূপের দিকে তাকালে প্রেমে পড়বেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দায়। শত শত বছর ধরে হাজার হাজার শিল্পী প্যারিসের রুপের উৎকর্ষ সাধনের যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তা আজ পণ্ডশ্রমে পর্যবসিত। প্যারিসের আজকের রূপের কাছে শিল্পকলার সমস্ত সৃষ্টিই যেন পরাজিত! যে হৃদয় পাথরসম অনুভূতিহীন প্যারিসের আজকের প্রকৃতি সেই হৃদয়ে প্রাণের সঞ্চার করতে দুহাত বাড়িয়ে ডাকছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য ক্যামেরা হাতে বেড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য সৌন্দর্য় পিপাসু্ মানুষ নিজেকে স্মৃতি করে রাখার জন্য। বৃষ্টির দিনে বাংলার দুরন্ত কিশোর-কিশোরী যেমন বৃষ্টিতে ভিজে তার দুরন্তপনা ও দুুষ্টুমিতে প্রকৃতির হেয়ালিপনাকে সার্থক করে তোলে, তেমনি প্যারিসের বুকে বেড়ে ওঠা দুরন্ত কিশোর-কিশোরীর দলও প্রকৃতির এই উৎসবের দিনে উজার করে উচ্ছ্বাস ঢেলে দিচ্ছে। বাংলার বর্ষা, বসন্ত, শরৎ যেমন প্রেমিক প্রেমিকার মনে দোলা দেয়, অনুভূতিতে ভিন্নতা আনে, হৃদয়ের রংয়ের বৈচিত্রতা আনে, পশ্চিমা প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ে আমাদের মতো এতো বৈচিত্র্য না থাকলেও আজকের প্যারিসের প্রকৃতি অবশ্যই ওদেরকে রোমাঞ্চিত করছে।
তুষার শুভ্রতায় নবরূপে উদ্ভাসিত প্যারিস নগরী
আলোকচিত্র: মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ,
শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭
অতিরিক্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কি বাংলাদেশের অশুভ শক্তির নোবেল পুরষ্কারের সনদ ও ট্রফির প্রলোভনের বোঝা নাকি মানবিকতার সত্যিকারের দ্বার উন্মোচনের উপহার?
বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৭
উন্নয়ন সরকার বনাম রামপাল আন্দোলন
বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭
শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ , শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।




























