সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

যাদের বসবাস অন্ধকারে তারা আলোর ভালো বুঝবে কি করে ....

আপনি বিদেশে থাকেন। ধরুন, আপনার এক কোটি টাকা আছে।ভাবলেন দেশে গিয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য নিজ অর্থে একটি প্রজেক্ট করবেন। দেশে গেলেন, কিছু করতে শুরু করলেন, তখন একটা শ্রেণী বলতে শুরু করবে, আপনি বিদেশী কোন দাতা সংস্থার অর্থ এনে কিছু মানুষকে দিচ্ছেন আর বাকীটা মেরে খাচ্ছেন। আর এক গ্রুপ এসে বলবে, এসব করতে হলে আমাদের চাঁদা দিতে হবে। 


দুই চারটা বই লিখেছেন। কিন্তু আপনার বই বিক্রি হয় না। পাঠক সমাজে আপনার কোন পরিচিতি নেই। আপনার বই পয়সা দিয়ে কেউ কেনে না। অথচ নিজেকে অনেক জ্ঞানী লেখক ভাবেন। কারণ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি পড়াশুনা করেছেন।ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। এটাই আপনার অহংকার। বাংলাদেশী লেখক কাশেম বিন আবুবাকার মেট্রিক পাশ  করা লেখক। লিখেছেন ৭২ টি উপন্যাস। উপন্যাসগুলো পাঠক সমাদৃত ও ব্যবসা সফল। বাংলাদেশের এক শ্রেণীর পাঠক সমাজে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ, মধ্যপ্রাচ্যের আরব নিউজ, মালয়েশিয়ার দ্য স্টার ও মালয়মেইল, পাকিস্তানের দ্য ডন, ফ্রান্সের ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর ও রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল, হাঙ্গেরির হাঙ্গেরি টুডেসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এতেই আপনারা শিক্ষিত লেখকরা তার পিছু লেগে গেলেন। মাস খানেক ধরে ফেচবুকে তার পিণ্ডি চটকালেন। বললেন, সে চটি লেখক, সে জামাতের লেখক, তার নামের সাথে ঔপন্যাসিক উপাধি যায়না। আরও অনেক কিছু বলে তাকে হেয় করার চেষ্টা করলেন। বোঝার চেষ্টা করুণ, সেতো ঘুষ দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন করাননি ।আপনার তাকে ভালো না লাগলে চুপ থাকতে পারতেন। তার নামটি যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে সাথে বাংলাদেশের নামটিও প্রচার হয়েছে। আপনি অনেক শিক্ষিত লেখক কিন্তু আপনার জীবনে এমনটি হয়নি, হয়তো কোনোদিন হবেও না। সেই ঈর্ষার জায়গা থেকে ভদ্রলোককে ছোট করে বন্য আনন্দ নিয়েছেন।ভেবেছেন, অশিক্ষিত মানুষটা যদি কোন পুরষ্কার পেয়ে যায়। যেটার জন্য বছর জুড়ে আপনারা শাসকদের পায়ে তৈল মালিশ করেন।  


আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন নয়। এই স্বাস্থ্য জ্ঞানহীনতার কারণে  তারা নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির নামে এক  তরুণ ডাক্তার  এক সময় স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোষ্ট করতে লাগলেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হতে লাগলো। তার জনপ্রিয়তা দেশ বিদেশে ছড়িয়ে যেতে লাগলো। চেম্বারে রুগীর সংখ্যা বাড়তে লাগলো। এতেই এক শ্রেণীর ডাক্তারদের এলার্জি শুরু হয়ে গেলো। তারা ভাবল, সারা জীবন ডাক্তারি  করেছি, বাড়ী বানিয়েছি, গাড়ি কিনেছি কিন্তু কেউ আমাকে চেনে না। কোথায়ও বক্তৃতা দিতে ডাকে না। এই হিংসার জায়গা থেকে ভদ্রলোককে বললেন, সে একজন ক্যানভাচার। রোগী পাওয়ার জন্য রাস্তার কবিরাজদের মত আধুনিক পদ্ধতিতে পাবলিসিটি করছে। বোঝার চেষ্টা করুণ, ডাক্তার কবির তার কর্মব্যস্ততার মধ্য থেকে পরিশ্রম করে সচেতনতা মূলক ভিডিওগুলো বানিয়েছে,কোন বিনোদন ভিডিও বানাননি। এগুলো না করেও তিনি আপনাদের মত ঔষধ কোম্পানির উৎকোচ ও রোগী দেখে আয়েশি জীবন যাপন করতে পারতেন। তিনি মনে করেছেন, দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্য সচেতন করা দরকার। অনেকে তার চেম্বারে না গিয়ে শুধু তার ভিডিওগুলো অনুসরণ করে উপকৃত হয়েছে। ওনার মত জনপ্রিয় হতে চাইলে আপনি আরও ভালো কিছু তৈরি করে মানুষকে উপকার করুণ, দেখবেন আপনিও মানুষের ভালোবাসায়  সিক্ত হচ্ছেন। বাজে কথা বলে কি তাকে থামাতে পেরেছেন। বরং আপনারা থেমে গেছেন, তিনি জেগে আছেন। 


অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিক্ষিত মানুষ এগিয়ে আসে না।অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন, ২০০৯ সালে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ইচ্ছে পোষণ করে খোলা চিঠির মাধ্যমে অভিমত জানতে চেয়েছিলেন। তাকে আমরা খুব নোংরা ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছি। তিনি কিন্তু চাল গম চুরি করার জন্য রাজনীতিতে আসতে চাননি, তিনি তার অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।বিনিময়ে  আমরা তাকে অসম্মান, অপমান উপহার দিয়েছি। সুদখোর বলেছি, মার্কিনীদের দালাল বলেছি, আরও অনেক কিছু। ভদ্রলোক মনের অনুরাগে আমাদের থেকে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে। যে মানুষটিকে আমাদের দেশের সরকার ও একটা শ্রেণী ফুটো পয়সা দাম দেয় না, সেই মানুষটি ইউরোপ আমেরিকার শিক্ষা দীক্ষায় উন্নত দেশগুলোতে পরামর্শ দিয়ে বেড়ায়। তার বক্তৃতা কভার করার জন্য পশ্চিমা মিডিয়াগুলো ভিড় জমায়।তার আগমনে উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভবনের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। অনেক পার্কে তার ছবি টাঙানো থাকে।বিদেশে তার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি তারা জানি, অনেক সময় আমাদের ছোট্ট দেশটিকে অনেকই চেনে না, কিন্তু ডক্টর ইউনূসের জন্মভূমি বললে চেনে। বিশ্বের অনেক নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বক্তৃতা দেন, তার বই উন্নত বিশ্বের লাইব্রেরীগুলোতে গবেষণার জন্য রাখা হয়। অথচ ভদ্রলোকের নিজের দেশের সরকার ও এক শ্রেণীর অযোগ্য মানুষ তাকে উপেক্ষা করে।     


কিশোর কুমার দাস নামে এক সুশিক্ষিত তরুণ নিজের জীবনবোধের তাড়না থেকে  নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে সমাজের বঞ্চিত মানুষদের জন্য কিছু করতে এগিয়ে আসলেন। তৈরি করলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অনেক তরুণ তরুণী স্বেচ্ছা শ্রমে যুক্ত হলেন এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তাদের নতুন নতুন সমাজ বান্ধব কার্যক্রমের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়লো দেশব্যাপী। এই সুনাম এক সময় চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ালো সমাজের এক শ্রেণীর কুচক্রী মহলের কাছে। যে সব ধর্ম ব্যবসায়ী ফতোয়াবাজ পানি ফু দিয়ে পেট চালান তারা উঠেপড়ে লাগলো এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তাদের সমস্যা এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাসের ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয়।তিনি অর্থ ও স্বশরীরে শ্রম দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেন অথচ দেশের এক শ্রেণীর পবিত্র লোকজন দাবী তুললেন  হিন্দু লোকের এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদে থাকা চলবেনা। ফেচবুকে তার ধর্ম তুলে গালাগালিও করা হল। বিদ্যানন্দ নামটা নাকি হিন্দুয়ানী নাম।অথচ বিদ্যানন্দ নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন। কাজের থেকে ব্যক্তির ধর্ম ও নাম আমাদের মাথা ব্যথার কারণ হল! 


দেশ থেকে ফ্রান্সে চলে আসার পর দেখলাম, এখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটি বেশ পেছনে পড়ে আছে। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। একটা শ্রেণী দেশের পচা রাজনীতি চর্চা করে এবং নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত থাকে। কমিউনিটির এই সংকটকে উপলব্ধি করে বেশকিছু উদ্যমী তরুণ কিছু সংস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।সংস্থাগুলোর সাথে এখানে বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা অর্জন করা কিছু মহৎ তরুণ যুক্ত থাকায় সংস্থাগুলো আজ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বিপদগ্রস্ত মানুষ কোননা কোন ভাবে সংস্থাগুলো থেকে সহায়তা পাচ্ছে। তাদের সমস্যাগুলো নিজের ভাষায় ব্যক্ত করতে পারছে।মহৎ তরুণেরা বিনামূল্যে  নানাবিধ পরামর্শ দিয়ে কমিউনিটির মানুষদের সমস্যা সমাধানের  চেষ্টা করে চলছে। ফলে বিপদকে পূঁজি করে পেট চালানো কিছু টাউটদের আয় কমে যাচ্ছে। সংস্থাগুলোর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেক ভুল থাকতে পারে, তবে তাদের ভালো কাজের পাল্লাটাই ভারী । ভুলগুলো ধরে তাদেরকে  শুধরানোর পরামর্শ দেয়া যেতে পারে ,অথচ ঐসব টাউট ও এক শ্রেণীর অযোগ্য মানুষ এই সব মহৎ তরুণদের গালাগালি করে থাকে, ফেচবুকে অপপ্রচার করে নানা ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে থাকে ।এই সব নিম্ন চিন্তা ধারার মানুষদের কাছে প্রশ্ন, আপনারা যারা এমন করেন তারা কি ঐ সব তরুণদের সমালোচনা করার যোগ্য? কিংবা এই জনমে ওদের মত দুই একটি ভালো কাজ করে দেখাতে পারবেন?নিজেকে প্রশ্ন করুণ, অন্যের পিছু লাগা ছাড়া আর কি শিখেছেন জীবনে।     


যে জন্য এতোগুলো উদাহরণ টেনে আনলাম তা হল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের কারণে। সমগ্র পৃথিবী যখন করোনা ভাইরাসের আক্রমণে দিশেহারা , সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে সকল রাষ্ট্র নায়কেরা, তখন পৃথিবীর কিছু  উদার ডাক্তার ও নার্সেরা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে আলোর দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।ডা. ফেরদৌস খন্দকার এই সময়ে বিভিন্ন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মত মানুষকে স্বাস্থ্য জ্ঞান দিয়েছেন। করোনা ভাইরাস থেকে প্রতিরক্ষার পথ দেখিয়েছেন। মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তার নিজ বাসস্থান নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য নানাবিধ পরামর্শ দিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। শুধু চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শই নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে মানুষকে আর্থিক সহায়তা করার চেষ্টা করেছেন। মানুষ তার কর্মকাণ্ডকে প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশ এখন করোনা মহামারীর মধ্যে দিয়ে কঠিন সময় পার করছে।দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার টানে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দেশে গিয়েছেন। ভেবেছেন দেশের মানুষকে সরাসরি চিকিৎসা সেবা দেবেন। ভেবেছিলেন, আর কিছু না হোক মানুষের ভালোবাসা পাবেন, সম্মান পাবেন। কিন্তু, প্রথমেই দেশের মাটিতে নেমে তিনি এয়ারপোর্টে  হয়রানির  স্বীকার হয়েছেন। সম্মানতো দূরে থাক, তার আসার সংবাদ শুনে দেশের ইতর বাদর প্রকৃতির একটি মহল তাকে অপমান করার পূর্ব প্রস্তুতি সাজিয়ে রেখেছেন। কারণ ভালো মানুষের উপস্থিতি থাকলে খারাপ মানুষদের অপকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়।সমস্যা  তার নামের পাশের  খন্দকার ও তার জন্মস্থান কুমিল্লা জেলা।বলা হচ্ছে, তিনি  নাকি খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কিংবা খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই। কোন কিছুর প্রমাণ দাঁড় না করে কাউকে অপবাদ দেয়া কত বড় মাপের অপরাধ ও গর্হিত কাজ, এটা কি আমরা ভেবে দেখেছি। এই ভদ্রলোকতো দেশ থেকে কিছু আনতে যায়নি, বরং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনাদেরকে দিতে গিয়েছেন , তবে কেন এই অপবাদ? যারা মানুষকে হেয় করেন, মতের বিরুদ্ধে গেলে নামের পাশে জামাত, রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে দেন, তারা কি একবার আয়নার সামনে গিয়ে দেখেছেন, আপনার চেহারা কতটা কুৎসিত? কতটা কদর্যতায় ভরা আপনাদের অন্তর? জীবনে সোজা পথে রুটিরুজির যোগ্যতা অর্জন করতে না পেরে নোংরা পথ বেঁচে নিয়েছেন। এ কথা কি একবারও উপলব্ধি হয়না আপনাদের? একবার খোলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছেন কি? নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যাদেরকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছেন তারা আরও উজ্জ্বল হয়ে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছে । বরং আপনাদের চেহারা কুৎসিত থেকে আরও নিকৃষ্ট মানের কদাকার হয়েছে।    


 রাষ্ট্র ক্ষমতা শেয়াল শকুনদের দখলে, কিন্তু দেশ, দেশের জনগণ ও ভূমি আমাদের সকলের। বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশটি পরিচালিত হয় একে অপরের কাঁধে ভর করে। যারা ভালো কাজ করতে গিয়ে গুটিকয়েক কদাকার মানুষের তিরস্কার ও ভৎসনায় হতাশ হন তাদেরকে বলছি, মানুষের প্রশংসা করার জন্য একটি যোগ্যতার প্রয়োজন হয়, একটি চর্চার প্রয়োজন হয়, ভালো মানসিকতার প্রয়োজন হয়। যাদের বসবাস অন্ধকারে, রুটিরুজি অন্ধকারে, তারা আলোর ভালো বুঝবে কি করে? বরং আলোকে তারা প্রতিপক্ষ মনে করে। তাই তাদের এই হীন প্রচেষ্টা সর্বক্ষণ।অন্ধকারের বাসিন্দাদের কথায় হতাশ হবার কি আছে। বরং আরও ভালো কাজের মাধ্যমে এদের দমন করতে হবে।    


পরোপকার সর্বোৎকৃষ্ট মহৎ গুণ।সমাজে কিছু মানুষ জন্ম গ্রহণ করে যারা অন্যের কষ্টে ব্যথিত হয়।অন্যের বিপদ দেখে নিজ শ্রম সময় অর্থ ব্যয় করে অন্যের দুঃখ লাঘবের চেষ্টা করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।এমন মানুষদের মহানুভবতার কারণেই সমাজ ভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোর ভারসাম্য টিকে থাকে।বাংলাদেশ একটি সমাজ ভিত্তিক রাষ্ট্র। সমাজের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান এমন উদার মানুষেরাই করে থাকে।অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা এদের তুলনায় গৌণ থাকে।একে অপরের কাঁধে ভর করে আমাদের দেশ ও সমাজ এভাবেই চলছে।প্রবাসের বাংলা কমিউনিটিগুলোতে একই পরিস্থিতি বিদ্যমান।


আমরা জাতিগত মানুসিকতায় আত্মকেন্দ্রিক জাতি।নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের বৃহত্তর জাতিগত স্বার্থ বিকিয়ে দিতে আমাদের হৃদয় কাঁপেনা।ভোগের জন্য,স্বার্থের জন্য আত্মসত্তাকে অপমান করে অন্যের কাছে নতজানু হওয়ার প্রবৃত্তি আমাদের অস্থি মজ্জায়।ফলে অন্যের উন্নতি যেমন আমাদের সহ্য হয়না, তেমনি অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা আমাদের অসুস্থ করে তোলে।এই হীনমন্যতার কারণে নিজের উন্নতির জন্য যতটুকু সময় ব্যয় করা দরকার অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করি অন্যকে হেয় করে আনন্দ লাভের নেশায়।


জাতিগত এই মানুসিকতার পরিবর্তন রাতারাতিই সম্ভব নয়।এ এক সুদীর্ঘ সাধনার যাত্রা।কাজের প্রশংসা আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা যোগায়, তবে এমন সমাজে যে মানুষগুলো আপামর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের অগ্রগতির ব্রত গ্রহণ করতে চান,  তাদের প্রথমে চিন্তা করতে হবে তার ত্যাগের পুরষ্কার কোন বড় মঞ্চে উত্তরীয় পড়িয়ে নাও দেয়া হতে পারে, বরং লাঞ্ছনা,গঞ্জনা, অপবাদ তাদের কাছ থেকেই জুটতে পারে যাদেকে আপনি কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।তাই বলে আপনার থেমে যাওয়া ঠিক হবেনা।থেমে যাওয়া মানে, আপনার মহৎ হৃদয়কে অকৃতজ্ঞ আত্মকেন্দ্রিক মানুষের কুৎসিত হৃদয়ের কাছে পরাজয় ঘটানো।বরং আপনার আজকের ত্যাগ আগামীর একটি উদার মানুসিকতার জাতি গঠনের সোপান।যে স্বপ্ন আপনি লালন করে সুখ লাভ করেন। 


( বিঃদ্রঃ  কাশেম বিন আবুবাকার এর তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া হয়েছে) 

রবিবার, ৩ মে, ২০২০

একটি দুর্যোগ

একটি দুর্যোগ প্রমাণ করে দিচ্ছে,
পৃথিবীর এক একটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা এবং অক্ষমতা
একটি রাষ্ট্রের মানুষের সচেতনতা এবং অজ্ঞতা
একটি রাষ্ট্রের মানুষের উদারতা এবং স্বার্থপরতা
একটি রাষ্ট্রের রাজনীতির স্বচ্ছতা এবং অস্বচ্ছতা,
                           এবং
একটি জাতিগোষ্ঠীর সততা এবং কপটতার সীমারেখা।

শনিবার, ২ মে, ২০২০

গরমের ছুটিতে কানাপভিল গ্রাম পেরিয়ে দোভিল সমুদ্র সৈকতে

মিশেল গরমের ছুটিতে তার মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে। টিভি রিমোটের কন্ট্রোল পুরোপুরিই আমার হাতে। কাজ শেষ করে বাসায় এসে সিনেমা দেখা, বারান্দায় গাছের টবগুলোতে পানি দেয়া, তিনদিনে একদিন রান্না করা আর ঘর গোছানোর কাজ এখন সপ্তাহে একদিন করলেই চলে।দিন শেষে নিস্তব্ধ নীরবতা নেমে আসা ফ্ল্যাটে নিজের মতো করে একটু ভাবনার সুযোগ; এরপর পরবর্তী দিনের শক্তি সঞ্চারের জন্য ঘুমের প্রস্তুতি। এভাবেই কেটে যাচ্ছিলো সাময়িক একাকি জীবন।


গত ৯ আগস্ট ২০১৮ থেকে শুরু হলো নয় দিনের ছোট্ট গরমের ছুটি। ভাবনায় ছিল কয়েক দিনের জন্য সবুজের চাদরে মোড়া কোনো পাহাড়ের নির্জন কোনে সময় কাটাবো। কিন্তু, দীর্ঘ দিনের কাজের ক্লান্তির আলস্য এমনভাবে শরীর আর মনকে চেপে বসেছিল যে ছুটির দিনগুলো হেলায় কেটে যাচ্ছিল।সিদ্ধান্ত নিলাম একদিনের জন্য কোথাও ঘুরে আসবো। ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে আঁলিয়াস ভয়াসের একদিনের একটি ভ্রমণের রেজিস্ট্রেশন করলাম, স্থান দোভিল। 

এটি নরমাণ্ডি রেজিওর কালভাদোজ দোপার্টতোমোর একটি সমুদ্র উপকূলীয় শহর। সমুদ্র সৈকতের জন্য মূলত এই শহর অধিক পরিচিত। প্যারিস থেকে বাসে মাত্র তিন ঘণ্টার যাত্রা পথ। আজ থেকে পাঁচ বছর পূর্বে প্যারিসে বাংলাদেশের একটি আঞ্চলিক সমিতির আনন্দ ভ্রমণের সঙ্গী হয়ে ইতোপূর্বে এই শহরের সৈকতের নোনা জলে আমার শরীর ভেজানোর সুযোগ হয়েছে। কিন্তু এবারের ভ্রমণটা একটু ভিন্ন রকম।

ভ্রমণ এজেন্সি দিনের প্রথম পর্বে আমাদের নিয়ে যাবে কানাপভিল নামে একটি গ্রামের মদ উৎপাদনের ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে।   আমি একমাত্র এই ভ্রমণে সঙ্গীহীন পান্থ। 


১৬ অগাস্ট প্যারিসের দফের রসু থেকে আমাদের ভ্রমণ বাস যাত্রা শুরু করলো। ভ্রমণ সঙ্গীদের অধিকাংশই জীবনের পাতাঝরা শীতকালে অবস্থান করছে। দলে বসন্তের সায়াহ্নে অবস্থানকারী মানুষ আমিই শুধু। আমাদের ভ্রমণ নির্দেশনাকারীও সত্তরোর্ধ্ব প্রাণোচ্ছল মহিলা।

শহর পেরিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ভ্রমণ বাস প্রবেশ করলো ধু ধু বিস্তীর্ণ মাঠের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা মহাসড়কে। আমি সব সময় প্যারিসের বাইরে গেলে চলার আনন্দটা দারুণভাবে উপভোগ করি। ফ্রান্সের কৃষিভূমি এবং গ্রাম ছবির মতই সুন্দর।

তিন ঘণ্টার যাত্রা অতিক্রম করে আমরা প্রবেশ করলাম কানাপভিল গ্রামে। পাহাড়, সমভূমি এবং সবুজ অরণ্যে বেষ্টিত সুন্দর গ্রামের মধ্যে অবস্থিত সাতু দু ব্রুই। এটি এক সময়ের রাজবাড়ি হলেও এখন মূলত একটি মদ উৎপাদন কারখানা।

বৃক্ষ আর ফুলে শোভিত ছায়া শীতল সাজানো গোছানো একটি বাগানবাড়ি। প্রথম দেখাতে বোঝার উপায় নেই এটি একটি মদ উৎপাদনকারী কারখানা।

বাস থেকে নেমেই সবাই প্রবেশ করল সাতু দু ব্রুই উৎপাদিত মদের প্রদর্শনী কেন্দ্রে। এখানে নানা আকৃতির বোতলে মোড়কিকরণ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তাদের পণ্য সামগ্রী।

বিক্রয় কর্মীরা দর্শনার্থীদের জন্য উৎপাদিত ওয়াইনের স্বাদ গ্রহণের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা রেখেছেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই প্রদর্শনী কেন্দ্র ঘুরে পছন্দের স্বাদের ওয়াইন কিনলেন। এর স্বাদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যেহেতু আমি পরিচত নই তাই নতুন করে স্বাদ গ্রহণ আর হলো না। আমি নিজেকে ব্যস্ত করলাম চারপাশ ঘুরে ছবি তুলতে ।

এরমধ্যে আমাদের ভ্রমণ নির্দেশনাকারীর ডাক পড়লো। সকল ভ্রমণারথী একত্রিত হওয়ার পর আমাদের ভ্রমণ দলকে সাতুর একজন কর্মকর্তা নিয়ে গেলেন মদ উৎপাদনের প্রক্রিয়াকরণ একটি ইউনিতে।

এখানে আমাদের দেখানো হল আপেল থেকে রস তৈরির পর কীভাবে জ্বালানোর মাধ্যমে মদে রূপান্তর করা হয়। ভালোভাবে বোঝার জন্য কর্মকর্তা একটি ভিডিও প্রজেকশনের মাধ্যমে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া আমাদের সামনে তুলে ধরলেন।

এরপর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো যেখানে আপেল থেকে উৎপাদিত ওয়াইন সংরক্ষণ করা হয়। সংরক্ষণাগারটির বাহিরের চেহারা অনেকটাই আমাদের দেশের কৃষকদের ধান-গম সংরক্ষণের গুদাম ঘরের মতোই। ভেতরের দৃশ্য অনেকটাই আমাদের দেশের স্থানীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী মিলের মতো।

কাঠের নির্মিত সংরক্ষণাগারে ওয়াইনে ভরপুর সুবিশাল কাঠের গোলাকৃতির কনটেইনার দুই সারিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কনটেইনারে সংরক্ষণ সংক্রান্ত লেবেল লাগানো।

আমাদের সবাই খুব আগ্রহ নিয়েই মদের এই সংরক্ষণাগারটি ঘুরে দেখতে লাগলেন। এই ওয়াইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাঁচামাল আপেল।আপেল গাছে ফুল ফোটা থেকে শুরু করে বাগান থেকে আপেল সংগ্রহ এবং সংগৃহিত আপেলের রস মদে রূপান্তর করে মজুদ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি স্তরের একটি ভিডিও চিত্র কয়েকটি কনটেইনার উপর প্রোজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হলো।

ফরাসি খাবার তালিকায় মদ ঐতিহ্যবাহী পানীয়। সমস্ত ফরাসি ভূখণ্ডে নামী ব্র্যান্ডের মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানার পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য অপরিচিত ছোট ছোট কারখানা। এমনকি ফরাসি গ্রামাঞ্চলে অনেক কৃষি পরিবারে পারিবারিক ভাবেও তৈরি হয় মদ; যেমনটি আমাদের দেশে কাঁচা আমের সময় গ্রামের অনেক পরিবার কাসুন্দি তৈরি করে থাকে।

এখানে আঙুর এবং আপেল অন্যতম কৃষি পণ্য, যা বিশেষত মদ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফরাসি রপ্তানিজাত পণ্যের মধ্যে মদ অন্যতম। আমাদের দেশের বিভিন্ন মেলায় যেমন স্থান পায় আমাদের দেশজ উৎপাদিত প্রধান পণ্যসামগ্রী আর এখানকার শহর কিংবা গ্রামে কোনো মেলার আয়োজন হলে সেখান প্রধানত স্থান পায় মদ ও পনির।

আমরা যখন সাতু দু ব্রুই থেকে বিদায় নিয়ে গ্রামীণ জনপদের ভেতর দিয়ে দোভিললের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম তখন চোখে পড়ল অসংখ্য আপেল বাগান। 

দোভিল রেল স্টেশনে পৌঁছানোর পর আমাদের ভ্রমণ নির্দেশনাকারী ঘোষণা করলেন সন্ধ্যা ছয়টার সময় ভ্রমণ বাস প্যারিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। সুতরাং সবাইকে ছয়টা বাজার পনেরো মিনিট পূর্বে বাসে অবস্থান নিতে হবে।

আমি আমার ক্যামেরাকে সঙ্গী করে রওনা হলাম সৈকতের উদ্দেশ্যে। পরিচিত শহরটা এবার নিজের কাছে নতুন করে আবিষ্কৃত হল। বিগত সময় এভাবে দোভিল শহরের সৌন্দর্য আমার দৃষ্টিকে ছুঁয়ে যায়নি। শহরের ভেতর দিয়ে সৈকতে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল পাহাড়ের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে গড়ে ওঠা স্থানীয়দের বসতবাড়ি, অন্যদিকে সমভূমিতে গড়ে ওঠা ভিন্ন মাত্রার স্থাপত্য শৈলীর দালান, যার অধিকাংশই হোটেল, কেসিনো, অফিস-আদালত। দেখে মনে হলো, দালানগুলোর সামনের অংশের নকশার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে কাঠের ব্যবহার করা হয়েছে।

পূর্বে নরমান্ডির আরও কয়েকটি শহরে  ভ্রমণ করলেও এবার দোভিল শহরের সৌন্দর্য যেন অন্য শহরগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ধরা দিল।


দোভিলের সমুদ্র সৈকতে চল্লিশ মিনিট একপাশ ধরে হেঁটে অন্যপাশে যাওয়া যায়। আমার সমুদ্রের গর্জন শুনতে ভালোলাগে। তীরের বুকে ঢেউয়ের আঁছড়ে পরার দৃশ্য মুগ্ধ করে, কিন্তু নোনা জলে শরীর ভেজাতে অনীহা রয়েছে।

গতবার এই সৈকতে এলোমেলোভাবে হেঁটে বেড়িয়েছি। পুরো সৈকত ঘুরে দেখা হইনি। বেশ দূরে সুমদ্রের কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা একটি টিলার মাঝে ছোট্ট একটি বাড়ি নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিলাচ্ছে। সেই সৌন্দর্য দারুণভাবে টানলো। সিদ্ধান্ত নিলাম সৈকতের তীর ধরে হেঁটে ঐ বাড়িটার কাছে পৌঁছুবো। 


আমি হাঁটছি আর সৈকতের চার পাশের মানুষের কর্মকাণ্ড দেখছি। ছোট শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে সমুদ্রে জলকেলিতে মেতে উঠেছে। সৈকতের বেলাভূমির স্বেদ চামড়ার নানা বয়সের মানুষ স্বল্প বসনে শরীরকে প্রকৃতির কাছে সমর্পণ করে নিশ্চিন্ত মনে সূর্যের তাপ গ্রহণ করছে।

বছরের অধিকাংশ সময় ঠাণ্ডা আবাহাওয়ার কারণে ইউরোপের মানুষের শরীর মোটা কাপড়ে ঢাকা থাকে তার উপর মেঘাচ্ছন্ন আকাশ সূর্যকে ঢেকে রাখে, ফলে সূর্যের তাপ থেকে তাদের শরীর হয় বঞ্চিত। তাই মাস তিনেকের রোদ্রোজ্জল উষ্ণ সময় কালে অধিকাংশ ইউরোপিয়ান সমুদ্রমুখী হয় শরীরের সাদা রঙটাকে রোদে পুড়িয়ে একটু তামাটে করার প্রচেষ্টায়।

সমুদ্রের তীর ধরে দীর্ঘ সময় হেঁটে আমার গন্তব্যে পৌঁছুলাম। এখানে কিছু সময় বিশ্রাম নেবার পর ফেরার পথে দেহ-মনে দারুণ এক ক্লান্তি চেপে বসতে সমুদ্রের বিশালতাকে সামনে রেখে নিজেকে এই বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ির উপর সমর্পণ করলাম।

আমাদের ইট-পাথরে আচ্ছাদিত নিয়ম-কানুনের জীবন-যাপনে মাটির স্পর্শ নেবার সুযোগ খুবই কম। সমুদ্রের গর্জন, বয়ে যাওয়া বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ এমন প্রকৃতির মাঝে বালুর উপর দেহটাকে এলিয়ে দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত চিন্তার জাল ছিন্ন করে চলে গেলাম ঘুমের ঘোরে। বিধি-নিষেধের সভ্যতার বাইরে দু’ঘণ্টার জন্য আদিমতর জীবনের নির্ভেজাল স্বাদ গ্রহণ করলাম।

এদিকে ঘড়ির কাঁটা বুঝিয়ে দিলো সাগর পাড়ের কিছুক্ষণের উন্মত্ত জীবনের সময় প্রায় শেষ হয়ে আসছে। শরীরের উপর জমে থাকা বালুর স্তর ঝেড়ে ফেলে আবার সভ্য সমাজের জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।


পড়ন্ত বিকেলের উত্তাপহীন সৈকতে হাঁটাহাঁটি করে চলে এলাম সারি সারি জাহাজের নোঙর করা এলাকায়। এখানে শান্ত জলাধারার মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক কিছু অবকাশ যাপনের দালান। খালের ওপর পাশে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা পাহাড়ি জনবসতি আর পর্যটকদের পদচারণা মুখর সৈকত দোভিল শহরকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।

সাগরের পার থেকে বিদায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই চলে এলাম আমাদের দোভিল রেল স্টেশনে। উদ্বৃত্ত সময় শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা নদীর পারে বসা বৈকালিক মেলা, আকাশে পাখিদের দলবেঁধে উড়ে বেড়ানো, শান্ত নদীর বয়ে চলা  স্রোত দেখে কেটে গেলো।


বাসে ঢুকতেই আমাদের ভ্রমণ পরিচালক মহিলা আমাকে দেখে মনে হয় একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। তার হয়তো আশংকা ছিল, ভ্রমণ দলের একমাত্র সঙ্গীহীন এশিয়ান কালো মানুষটি অচেনা শহরে পথ হারিয়েছে কি! 

গরমের ছুটিতে কানাপভিল গ্রাম পেরিয়ে দোভিল সমুদ্র সৈকতে

জীবনের পরার্থপরতার মহত্ত্ব অর্জনের জন্য প্রয়োজন নেই বিশেষ পেশা ও সম্পদ।

 সেবার মধ্যেই মানব জীবনের মহত্ত্ব।এ কথা আমরা সবাই জানি।আমরা ভেবে থাকি মানুষের পাশে থেকে সেবা করার জন্য রাজনীতি করা দরকার,বিশেষ পেশার মানুষ হওয়া দরকার অথবা প্রচুর অর্থ সম্পদ থাকা দরকার যা সমস্যাগ্রস্ত  মানুষের বিপদে দান করে সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেয়া যায়।কিন্তু,সেবা শব্দটির তাৎপর্য এতো ব্যাপক এবং বিস্তৃত যে সমাজ ও জীবনের প্রতি স্তরে অবস্থান করেই মানব সেবা করে জীবনকে ধন্য করা যায়। আবার সমাজের সেবক পরিচয়ের অনেকেই রয়েছে যারা সমাজের সেবকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন মানুষের ক্ষতি সাধন করে। আমি খুব সাধারণ দৃষ্টিতে সেবা বলতে বুঝি,সেবা সেটাই, যে দায়িত্ব নিজের  উপর অর্পিত বা যে কাজ আমি করি তা সুচারু ,সঠিক এবং সততার সহিত সম্পাদন করাই হচ্ছে সেবা।যাহা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধন ঘটায়। 


রাজনীতি হচ্ছে  বৃহৎ পরিসরে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সেবা করার মাধ্যম। তবে এই মাধ্যমে আমি কি উদ্দেশ্যে নিজেকে নিয়োজিত করছি সেটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।সত্যিই যদি সমাজে শান্তি ও সমতা প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে নিজেকে রাজনীতিতে নিবেদন ও আত্মত্যাগ করি তবেই আমার দ্বারা রাজনীতির সুফল সেবা হয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। আবার কারো  রাজনীতি করার উদ্দেশ্য যদি হয় নিজের স্বার্থ অন্বেষণ করা, তবে সেই স্বার্থ হাসিল করার  কর্মকাণ্ডগুলোর নেতিবাচক প্রভাবে ভেঙে পড়বে সমাজের শৃঙ্খলা।   


 আমরা অনেকেই অর্থ বিত্তের অধিকারী হলে অনেক সময় জনকল্যাণ মূলক কাজে কিছু ব্যয় করে থাকি।এই ব্যয়ের সুবিধাভোগী মানুষের কাছে মহান মানুষ হয়ে উঠি।নামের সাথে ওঠে সমাজ সেবকের তকমা। আমরা খুঁজে দেখতে যাই না  দানকারীর অর্থশালী হয়ে ওঠার উৎস। যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কেউ সম্পদ উপার্জন করে, তবে শুধু সেই ব্যক্তিই নয় তার সম্পদ আহরণের প্রতিটি স্তরে তার আশেপাশের মানুষসহ রাষ্ট্র ও সমাজ সমান্তরালে উপকৃত হয়। এমন মানুষ প্রকৃতই সমাজের সম্পদ ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য এক আশ্রয় স্থল। অপরদিকে, কারো সম্পদের আহরণের পথ যদি হয় বাঁকা।অর্থাৎ,মানুষের অধিকার বঞ্চিত করে,ধোঁকা দিয়ে,সমাজের ক্ষতি সাধন করে সম্পদের পাহাড়ে দাঁড়ানোর পর যদি কেউ কল্যাণকর কাজে ব্যয় করেন, সেই ব্যয়কে সেবা না বলে বলতে হবে চাতুর্যতা।কারণ এই সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে ঐ অসৎ মানুষটি প্রতিটি স্তরে অন্য মানুষকে কষ্টে নিপতিত করেছে এবং সমাজকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে ভূমিকা রেখেছে। এই ব্যয় মূলত মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তার অপকর্মের নেতিবাচক ইমেজকে ইতিবাচক করার জন্য। কিছু মানুষ তার দানে সামান্য উপকৃত হলেও অপকর্মের কারণে পেছনের শত শত মানুষের যে ক্ষতিসাধন হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয় বলে সামগ্রীক সমাজের কল্যাণের স্বার্থে ও অসৎ কার্যকলাপ নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে এমন মানুষদের দানকে প্রত্যাখ্যান করাই শ্রেয়।    


আমাদের অনেকই রাজনীতি করি না এবং বিত্ত বৈভবও নেই। নিজের আয় দিয়ে সমাজের দুস্থ মানুষের আর্থিক সাহায্য করা হয়ে ওঠেনি কোনোদিন। মনে হতে পারে, এই জীবনে পরার্থপর হয়ে ওঠা হলো না আর।অথচ নিজের সারা জীবনের উপার্জন পরিবারের ভাইবোন,পিতামাতা ও স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণে ব্যয় করে কখনো উদ্বৃত্ত সম্পদ জমেনি। জীবনের এমন ত্যাগ সমাজে  দৃশ্যমান হয়না,কেউ বাহবা দেয় না,যাদের জন্য করছেন তারাও আপনার উপর খুশী নাও হতে পারে। কিন্তু, আপনার জীবনের এমন ত্যাগ যে কত বড় পরার্থপরতা সেটার তাৎপর্য অপরিসীম।  



সমাজে কিছু মানুষের দেখা মেলে,যারা পরিবারের সেবা যত্নে বড় হয়ে ওঠেন, রাষ্ট্রের অর্থে শিক্ষাদীক্ষা লাভ করেন, কিন্তু সারা জীবনে না পরিবার,না সমাজ ও রাষ্ট্রের বিন্দু পরিমান উপকারে আসেন। বরং,এরা অন্যের পরিশ্রমের উপর ভর করে ভোগের জীবন পার করে । নিজে আয় করলেও সে আয়ের ছিটে ফোটাও কখনো অন্যরা পায় না। এমন মানুষদের বাহ্যিক চলাফেরায় জৌলুশ ফুটে উঠলেও ,এদের মানব জনম সার্থকতাহীন।অনেকটা পশুপাখীর জীবনের মত।কারণ, পশুপাখির জীবনে শুধু নিজের উদর ভর্তি করা ছাড়া অন্য আর কোন লক্ষ্য থাকেনা। অন্যভাবে দেখলে,সমাজের এমন মানুষদের তুলনায় একদিকে পশুপাখির জীবন সার্থকতায় ভরা,কারণ পশুপাখীরাও জীবনের একটা সময় ত্যাগ স্বীকার করে নিজের বাচ্চাদের খাইয়ে, যত্ন করে,নিরাপত্তা দিয়ে বড় করে তোলে।


অনেকে আর্তের সেবায় জীবন উৎসর্গ করার জন্য সংসার ত্যাগী হয়ে কাজ করেন কোন আশ্রমে, আবার কেউ  গড়ে তোলে জনহিতৈষী কোন প্রতিষ্ঠান।এমন সেবার সামাজিক মূল্যায়ন হলেও আমাদের সংসারে অনেক গৃহিণী রয়েছেন, যাদের কর্ম কখনো অর্থমূল্যে বিচার হয়না, অথচ সারাটা জীবন উৎসর্গিত হয় পরিবারের অন্যান্য সদ্যসদ্যের সেবা শুশ্রূষা প্রদান করে। এই সব অমূল্যায়িত গৃহিণীদের জীবনের অবদান কি ঐ সব সমাজকর্মী পরিচয়ের মানুষদের চেয়ে কোন অংশে কম? নাইবা হল সামাজিক মূল্যায়ন,এমন মানুষেরা কিন্তু মানব জনমের সার্থকতা অর্জন করেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।  


আমরা সাধারণ ভাবে বুঝি, ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মুনাফা অর্জন করা।কিন্তু,ব্যবসার অপর নাম সেবা,সেটা কজনইবা ভেবে দেখি বা করে দেখাই। অর্থাৎ,পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করে সঠিক মূল্যে ভোক্তা বা ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেয়াই হচ্ছে সেবা। অন্যদিকে, নিজেকে এর মধ্যদিয়ে আত্মনির্ভরশীল করার পাশাপাশি অন্যকেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এবং দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে ব্যবসার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই অর্থে ব্যবসা একটি মহান পেশার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার মহান দায়িত্বও বটে।


অপরদিকে,যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ওজনে কম দেই,পণ্যে ভেজাল মেশাই,মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্যে নতুন তারিখ বসিয়ে বিক্রি করি,শ্রমিকের প্রাপ্য  মজুরী না দেই,সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দেই, তাহলে এমন ব্যবসাকে সেবা বলতে পারি কি? বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। 

সমাজে সেবামূলক অনেক পেশা রয়েছে,যেসব পেশাজীবীদের কাজ তাদের পেশাগত সেবা দিয়ে মানুষকে পরিত্রাণ করা। অথচ, এমন মানুষদের নিকট থেকে অনেক সময় সেবার পরিবর্তে নিগৃহীত হতে হয়। 

অর্থাৎ, সেবার মাধ্যমে মানব জীবনের সার্থকরা খুঁজতে প্রয়োজন নেই বিশেষ কোন পেশা বা অর্থ বিত্ত বৈভব।দরকার প্রত্যেকের অবস্থান থেকে নিয়মানুবর্তি জীবন যাপনের মানুসিকতা। এমন জীবনাচারই জীবনের পরার্থপরতার মহত্ত্ব ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে।জীবনের বেলা শেষে উপহার দিতে পারে পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণের পরিতৃপ্তি। 


শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

বলছি বাংলাদেশের পরিপাটি পোশাক পরা মানসিক শ্রম দেয়া কর্মীদের বৈষম্যের কথা।

সাধারণ ভাবে আমরা জানি,যিনি শ্রম দেন তিনি শ্রমিক, যিনি শ্রমের বিনিময়ে নির্দিষ্ট অর্থ উপার্জন করেন তিনিই শ্রমিক।শ্রম দুই ধরণের ১ কায়িক শ্রম ২ মানসিক শ্রম।


১৮৮৬ সালে পহেলা মে  আমেরিকার শিকাগো শহরে হে মার্কেটের সামনে দৈনিক আট ঘণ্টা শ্রমঘণ্টার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।এই সমাবেশ রুখে দিতে  তৎকালীন সরকারের  মদদে শ্রমিকদের উপর গুলী চালায় পুলিশ।এতে নিহত হয় ১১ জন শ্রমিক। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকদের মধ্য থেকে ছয়জনকে প্রহসন মূলক বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।যাদের আত্মত্যাগের কারণে আজ প্রতিষ্ঠিত কলকারখানা ও অফিস আদালতের আট ঘণ্টার শ্রমঘণ্টা। প্রতি বছর পহেলা মে আমরা ঐসব আত্মত্যাগী মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকি।এই দিবসে সাধারণত কায়িক পরিশ্রম করা  শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলি। কিন্তু যারা বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে মানসিক শ্রম দেন সেই সব স্যুট কোর্ট পরা কর্মীদের বঞ্চনা ও বৈষম্যের কথা আমরা কখনো ভাবি কি?  

বাংলাদেশের (২০০৬-২০১৩) শ্রম আইনে যারা ঘণ্টা অনুযায়ী কায়িক শ্রম দিয়ে উপার্জন করেন সেইসব মানুষদের শ্রমজীবীর শ্রেণীর আওতাধীন করে তাদের অধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।  

কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রশাসনিক ,তদারকি ও ব্যবস্থাপনা সাথে জড়িত কর্মীদের উক্ত শ্রম আইনের সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। 

আমরা দেখতে পাই সরকারী অফিস আদালতে যারা কাজ করেন সেখানে পিয়ন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত সকাল নয়টা পাঁচটা অর্থাৎ আট ঘণ্টা শ্রমঘণ্টার সুবিধা ভোগ করে থাকেন এবং দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি।কিন্তু, এর বাইরের ক্ষেত্র অর্থাৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানসিক শ্রম দেয়া কর্মীরা কি এই সুবিধা ভোগ করে থাকেন? কি আইনে চলে তাদের শ্রম দেয়ার সময় সীমা।তা রাষ্ট্রীয় ভাবে অনেকটাই ঝাপসা।চলে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের মনগড়া নিয়ম নীতির উপর। 

এই আলোচনায় যাওয়ার আগে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একটু বর্ণনা করে নিলে বুঝতে অনেকটাই সহজ হবে।


২০০৬ সালে বাংলাদেশে একাডেমিক পড়াশুনা সম্পন্ন হওয়ার পর জীবিকার তাগিদে একটি খাদ্য উৎপাদন ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগে একাউণ্টেণ্ট পদে কাজে যোগদান করি।নিয়োগের সময় নিয়োগ চুক্তি পত্রে আমার কর্মঘণ্টা নির্ধারিত হয় প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সপ্তাহে ছয় দিন, অর্থাৎ দিনে দশ ঘণ্টা করে মাসে দুইশত চল্লিশ ঘণ্টার কাজের চুক্তি।যেহেতু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরী এবং জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন দশ ঘণ্টা পরিশ্রম করার মানসিকতা নিয়ে কাজে যোগদান করেছিলাম।বয়সে তরুণ,প্রাণশক্তিতে ভরা জীবন, তাই  প্রথম প্রথম দিনে দশ ঘণ্টা শ্রম তেমন কিছু মনে হতোনা।কিন্তু কাজে যোগদানের পর কখনো সন্ধ্যা সাতটার সময় অফিস থেকে  বের হতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না ।কারণ, আমার সিনিয়ররা সন্ধ্যা সাতটার পর অফিসে বসে থাকতো,তারা অফিসে বসে কাজ করলে আমরা জুনিয়রেরা কিভাবে অফিস থেকে বেড়িয়ে যাই। এই ইতস্ততার কারণে আমরাও কাজ করতাম,   আর না থাকলে বসে থাকতাম ওনাদের বেরোনোর অপেক্ষায়।অধিকাংশ দিন অফিস থেকে বের হতে প্রায় রাত আটটা বেজে যেতো।আমাদের মালিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত।তিনি সারা দিন অফিসের বাইরে থাকতেন,সপ্তাহে ন্যূনতম দুই দিন সন্ধ্যা সাতটার পর অফিসে ফোন করে বলতেন আমি রাত আটটার দিকে অফিসে আসছি,জরুরী মিটিং করতে হবে, সবাই যেন অফিস থেকে না বের হয়। সারাদিনের পরিশ্রমের পর চরম বিরক্তি নিয়ে বসের অপেক্ষায় সবাই বসে থাকতাম।তিনি তার দেয়া সময়ের পর ইচ্ছে মত সময়ে অফিসে আসত।কখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ,কখনো গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করে রাত এগারোটা বাজিয়ে দিতো।উনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মঘণ্টার মধ্যবর্তী সময়ে মিটিং করতেন না, কারণ তার প্রবণতা ছিল কিভাবে কর্মচারীদের অতিরিক্ত সময় খাটিয়ে লাভবান হবেন। ঢাকার যানজট মাড়িয়ে মধ্যরাতে বাসায় ফিরে কোনোমত খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পরতে হতো পরের দিন সময় মত অফিসে যাওয়ার জন্য।কারণ,প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের নির্দেশ সবাইকে সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে এসে কাজ শুরু করতে হবে।তার বানানোর নিয়ম ছিল, মাসে তিনদিন সকাল নয়টার পর যারা অফিসে আসবে তাদের একদিনের বেতন কর্তন করা হবে। সেই দেরী যদি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট করে পনেরো মিনিট হয় তবুও একদিনের বেতন কর্তন।আবার ঈদের সময় কারো চাকুরীর বয়স এক বছর পূর্ণ হতে একদিন বাকী থাকলে তার বোনাস হতো না।কারো সাথে কর্ণধারের মনমালিন্য হলে এক মুহূর্তের নোটিশে চাকুরীও চলে যেতো।সরকারের অনেক বড় বড় অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপক হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করত। দু একজনের ক্ষেত্রে দেখেছি, কাউকে চাকুরীতে রাখবেনা কিন্তু তাকে সরাসরি না বলে বিভিন্ন ওজুহাতে কয়েক মাসের বেতন আটকিয়ে দিতেন।একটা সময় ভদ্র লোকেরা বকেয়া বেতন ছাড়াই নীরবে অফিসে আসা বন্ধ করে দিতো। মালিকের স্ত্রীর গাড়ি চালক ছালামের বেতন হয় আমাদের হিশাব বিভাগ থেকে।একদিন ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমাদের রুমে এসে বললেন, ড্রাইভার ছালামের বেতন আটকিয়ে দিতে।সবার বেতন হল কিন্তু ছালামের বেতন হল না।লোকটি বেতন ছাড়া কিছু দিন চাকুরী করে অন্য জায়গায় একটি চাকুরী ঠিক করে আমাদের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেলেন।কিন্তু কিছুদিন পর পর ছালাম আমাদের হিশাব বিভাগে এসে জিজ্ঞেস করত স্যার আমার বকেয়া বেতনটা কি হয়েছে? আমাদের যেহেতু মালিকের নির্দেশ নেই তাই খারাপ লাগার শর্তেও বলতে হতো ভাই আপনার বেতনটা এখনো পাশ হয়নি তাই দিতে পারছিনা।এভাবে আসতে আসতে এবং একই কথা শুনতে শুনতে একদিন ড্রাইভার ছালাম আমাদের অফিসের প্রবেশ দরজায় দাঁড়িয়ে প্রার্থনার ভঙ্গীতে হাত তুলে বলল, আল্লাহ আমার পরিশ্রমের টাকা যে মেরে দিলো তার বিচার করো।এই বলে ছালাম চলে গেলো, আর কোনোদিন তাকে আমাদের অফিসে দেখিনি।ছালামের অপরাধ ছিল, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের স্ত্রীর পার্টিতে পরে যাওয়া একটি ড্রেস লন্ড্রিতে দেয়া হয়েছিলো, সেই ড্রেসটি ছালাম সময় মত আনতে ভুলে গিয়েছিলো।       

কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি,প্রমোশন ছিল মালিকের ইচ্ছে অনুযায়ী।এ ক্ষেত্রে প্রথমে অগ্রাধিকার পেতো নিজের আত্মীয় স্বজন,দ্বিতীয় তোষামোদি।শিক্ষা,যোগ্যতা,অভিজ্ঞতা,জ্যেষ্ঠতার বিচার বিবেচনা প্রাধান্য পেতো না কখনো।  

 মালিক অফিসের  নির্ধারিত সময়ের পরও  কখনো ফোন দিয়ে  হিশাব নিকাশ, ব্যাংকিং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইতো ।বিদেশে অবস্থান করলে মধ্যরাতে তার ফোন আসত অফিস সংক্রান্ত বিষয়ে।তিনি মনে করতেন তার কর্মচারীরা চব্বিশ ঘণ্টার কেনা গোলাম।মনে করতেন না তার মত প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে, তিনি শুধু তার কর্মচারির চুক্তিবদ্ধ কর্মঘণ্টা কিনেছেন,দিনের পুরো সময় নয়।


 আমার কাজটিকে মানসিক শ্রমের আওতায় ধরা হলেও শারীরিক শ্রমও কম ছিলোনা।সারাদিন প্রতিষ্ঠানের হিশাব বইতে কলম চালানো, কম্পিউটার মনিটরে তাকিয়ে থেকে সজাগ মস্তিষ্কে কীবোর্ডে নখ চালানো,প্রয়োজনে দিনে কয়েকবার ব্যাংকে যাওয়া আসা, ইত্যাদি করতে করতে ক্লান্তি চলে আসত।মাঝে মাঝে ভুলের কারণে,কখনো অকারণে অশোভন আচরণের সম্মুখীনও হতে হতো।আবার কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজনের কলা কৌশলের প্রয়োগ করাও হতো।যাতে সবাই সম্মিলিত ভাবে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তুলতে না পারে। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন অফিসের সবাইকেই পড়তে হতো।মাস শেষে যখন বেতনের সময় আসত, তখন কর্ণধারের আচরণ পাল্টে যেতো।মাসের প্রথমের পরিবর্তে তার চিন্তা থাকতো কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন কতটা দেরী করে দেওয়া যায়।প্রবণতা বেতনের অর্থটা কতটুকু বেশী সময় ব্যবসায় খাটানো যায়।বেতনটা যখন ছেড়ে দিতো তখন বোঝানোর চেষ্টা করত, আপনার চাকুরীটা কত গুরুত্বপূর্ণ,এই চাকুরীর উপর আপনার সংসার চলে, আমার দয়ার কারণে সেই চাকুরীটা টিকে আছে।আমি আপনাদের প্রভু, আপনাদের বেঁচে থাকার ত্রাণকর্তা। কিন্তু, তিনি কখনো অনুধাবন করতেন না যে যারা চাকুরী করছে এইচ আর, ইঞ্জিনিয়ারিং ,একাউণ্টস,মার্কেটিং,লজিস্টিকস,প্রকিউরমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ডিপার্টমেন্টে প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারীর স্ব স্ব শ্রম দেবার যোগ্যতা অর্জন করতে জীবনের পঁচিশ বছর কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাতে হয়েছে।সেই সাথে তাদের ত্রিশ দিনের পরিশ্রমের ন্যায্য অধিকার হচ্ছে এই বেতন। যা কিছুতেই প্রতিষ্ঠানের মালিকের দয়া দাক্ষিণ্য নয়।এমন নির্যাতন মেনে নিয়েই সবাই চাকুরী করত কারণ, চাকুরীটা চলে গেলে পরের মাসের বাসা ভাড়া আটকে যাবে, কারো বাচ্চার স্কুলের বেতন দেয়া হবে না,বাজার করার টাকা থাকবে না, গ্রামের বাড়ীতে বাবা মাকে টাকা পাঠানো হবে না, নতুন একটা চাকুরী খুঁজতে অনেকটা সময় লাগবে ইত্যাদি। আমি নিজেও এমন নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কয়কেবার কর্ম ছেড়ে দেবার প্রতিজ্ঞায় অফিসে যাওয়া  বন্ধ করে দিয়েছি, উল্লেখিত অনিশ্চয়তার কথা ভেবে আবার কর্মে ফিরেছি।মূলত, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের তুলনায় কর্মীর আধিক্য এবং বেসরকারি চাকুরী খাতে রাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারেরা মানুষের বিপদ ও প্রয়োজনকে পূঁজি করে এমন শ্রম শোষণের বৈষম্যমূলক আচরণ করে থাকে।  


কথায় আছে শ্রমিকের শ্রম চুরি না করলে কখনো ধনী হওয়া যায়না।আমার প্রতিষ্ঠানের কথাই ধরি,ব্যবসা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায় ত্রিশ জন মাসিক বেতনভুক্ত ব্যবস্থাপক ও তদারককারী ছিলেন।যাদের মূলত আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে দিনে আট ঘণ্টা শ্রম দেবার কথা ছিল।অতিরিক্ত সময় বাদ দিয়ে প্রতিদিনের চুক্তিবদ্ধ দশ ঘণ্টা সময় যদি ধরি তাহলে আমার ঐ সময়ের প্রাক্তন মালিক প্রতিদিন ত্রিশ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে দিনে ৩০X২=৬০ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৬০x৬=৩৬০ ঘণ্টা, মাসে ৩৬০x ৪=১৪৪০ঘণ্টা,বছরে ১৪৪০x১১=১৫৮৪০ ঘণ্টা (বিভিন্ন ছুটির কারণে বছরকে ১১ মাস ধরা হয়েছে) অতিরিক্ত সময় সরকারের আইনের ফাঁক খুঁজে বিনা পারিশ্রমিকে খাটাতো।প্রতি বছর এই ১৫৮৪০ ঘণ্টার আর্থিক মূল্য নির্ণয় করলে অনুধাবন করুণ প্রতিষ্ঠানের মালিক কত টাকা কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে লাভবান হয়েছেন। কর্মকর্তাদের এই ত্যাগের মূল্য প্রতিষ্ঠানের মালিক কখন কি নরম হৃদয়ে অনুধাবন করেছেন?বরং তার আচরণে সব সময় দম্ভ প্রকাশ পেতো, আমার চাকুরী করো বলেই তোমাদের জীবন চলে।


আমি শুধু আমার ব্যক্তিগত বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলাম, এখন হয়তো এমন ঘটনা মিলে যাবে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে কাজ করা অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর কর্মক্ষেত্রের প্রাত্যহিক জীবনে। 

বাংলাদেশে একমাত্র সরকারী চাকুরী, ব্যাংক,কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্যতিত সঠিক ভাবে আন্তর্জাতিক লেবার আইন মেনে কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় না।বাকী হাজার হাজার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষ লক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারী আমার উল্লেখিত বর্ণনার মত বঞ্চনা বৈষম্যের স্বীকার হন।কিন্তু এই বিশাল মানসিক শ্রম দেয়া মানুষগুলো দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেন, সরকারকে কর দেন। কিন্তু, তাদের চাকুরী করতে হয় প্রতিদিন  চাকুরী হারাবার ভয়ে দাস মনোবৃত্তি নিয়ে।কারণ তারা চাকুরী হারালে তাদের জন্য নেই কোন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আইন ও আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা।কিছু থাকলেও কাগজে কলমে যার বাস্তব প্রয়োগ একেবারেই নেই।প্রমাণ, সরকারী আদেশ অমান্য করে চলমান লক ডাউন চলা কালে গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করা কর্মীদের কাজে যোগ দেবার  নির্দেশ প্রদানের ঘটনা।এই সরকারী আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মানসিক শ্রম দেয়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যবহার করা হয় মালিকদের বানানো নিয়ম অনুযায়ী খেলার পুতুলের মত করে।যা দেখার কেউ নাই।এই শ্রেণীর মানুষ চাইলেই পারে না ডেস্ক ফেলে রিক্সার হাতল ধরতে, না পারে চুরি করতে।ভেতরে ভেতরে গুমরে কাঁদতে হয় সারা জীবন, কিন্তু চলতে হয় হাসি মুখে। 


আমরা মাঝে মাঝে দেখি বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার সংবাদ কর্মীদের বেতন আটকে যাওয়ার ঘটনা ।বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের জন্য রাস্তায় নামতে।একই দেশে সরকারী চাকুরী করা কর্মকর্তা কর্মচারীরা যখন মাসের প্রথমে বেতন পেয়ে নাকে তৈল দিয়ে ঘুমায়।তখন বেসরকারি খাতের অনেকে কর্মকর্তাদের থাকতে হয় বেতন না পাওয়ার অনিশ্চয়তায়।এই বৈষম্য ঘোচানোর আজ সময় এসেছে।পৃথিবীর অনেক দেশেই কায়িক শ্রম ও মানসিক শ্রম দেয়া কর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় আইন রয়েছে। যার কঠোর প্রয়োগও রয়েছে।আমি ফ্রান্সে থাকি, এখানে সরকারী এবং বেসরকারি চাকুরীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র প্রবর্তিত শ্রম আইন মেনে শ্রমিক কর্মচারী নিয়োগ করা হয় এবং নিয়োগকর্তাকেও সরকারের শ্রমিক সংক্রান্ত নিয়ম নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে শ্রমিকের শ্রম ব্যবহার করতে হয় ।অন্যথায় কর্মচারীর অভিযোগে নিয়োগকর্তার আদালতের সম্মুখীন হয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে।যার দরুন একজন সরকারী কর্মচারী চাকুরী জীবনের শুরু থেকে অবসর কালীন শেষ সময় পর্যন্ত যে সুযোগ সুবিধার আওতায় থাকে,একজন বেসরকারি খাতের কর্মচারীও একই সুবিধা ভোগ করে থাকে।শ্রমিক মালিক এখানে স্বতন্ত্র।চুক্তি অনুযায়ী শ্রমঘণ্টার  পর ব্যক্তিগত ভাবে উভয়ই স্বাধীন,কেউ কারো সাথে কাজ সংক্রান্ত ব্যাপারে যুক্ত নন। 


সারা পৃথিবী  এখন করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর সম্মুখীন। আর্থিক মন্দার মধ্যে সময় কাটাতে হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি দেশকে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।এই দুর্যোগকালীন সময়েও আটকে থাকবেনা সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা। কিন্তু এই মহামারীর দোহাই দিয়ে আটকে গেছে অনেক বেসরকারি খাতের শ্রমিক,কর্মচারী,কর্মকর্তাদের বেতন।অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সারা বছর এইসব কর্মীদের খাটিয়ে দ্বিগুণ মুনাফা করলেও এখন তাদের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে, এই দুইমাসের ব্যবসায়ীক মন্দায় তারা রাস্তার ফকির হয়ে গিয়েছে।কর্মচারীর বেতন দেবে কোথা থেকে। দুর্যোগ যে কোনো সময় আসতে পারে, ব্যবসা কখনো ভালো,কখনো মন্দ সময় কাটাতে পারে।সেই বিষয় মাথায় রেখেই বেসরকারি খাতের  কর্মকর্তা  কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় বেতন ভাতা সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় বিশেষ আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ অতীব জরুরী। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা চেয়ার টেবিলে বসে মানসিক শ্রমের বিনিময়ে ব্যবসায়ের লভ্যাংশ ভোগ করেন না। তারা ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা কালীন সময়েও নির্ধারিত বেতন পেয়ে থাকে।অধিক মুনাফার কারণে দ্বিগুণ বেতন পায় না।সুতরাং মন্দা কালীন সময়ে কর্মচারী কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা নিয়ে বেসরকারি খাতের টালবাহানাও গ্রহণযোগ্য নয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অনিয়ম ও বৈষম্যের অবসানের লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া অতীব জরুরী। সেই সাথে বৈষম্যের স্বীকার লক্ষ লক্ষ মানসিক শ্রম দেয়া কর্মীদের সোচ্চার আওয়াজ অপরিহার্য। 

আজকের এই মহান মে দিবসে ঐসব নীরবে নিভৃতে বৈষম্যের স্বীকার হওয়া  কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা এবং প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কথা বলার আহ্বান।  

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

নেতার ধান কাটা

আপনি উদার
তাই বলে কৃষকের মাঠে গিয়ে দু গোছা ধান কাটার কি এমন দরকার?
কাটেন ধান আপনি একা
আপনাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে ফটোগ্রাফার ডজনখানা।
যতটুকু ধান কেটে উপকার করেন কৃষকের
তার চেয়ে বেশি করেন ক্ষতি পাকা ফসলের।
একটি দুটি শীষ কেটে এগুতে থাকেন আপনি
আপনার সাথে এগুতে থাকে ফটোগ্রাফারের দলটি।
ওদের হাঁটায় ধান মাড়িয়ে ঝরে পড়ে মাঠে
আপনি নেতা, কিন্তু হুশ নেই আপনার তাতে।


আপনি নেতা, আপনি উদার
বরং দাঁড়িয়ে থাকুন ক্ষেতের এককোণে,
এবার ক্যামেরাগুলো তুলে নিন যত্নে নিজের হাতে
তুলে দিন কাস্তে প্রিয় আলোকচিত্রীদের হাতে।
এবার জোর নির্দেশ করুণ...
জওয়ান.....বেলা ডোবার আগে
ধানের মাঠ শূন্য করে কৃষকের উঠান ভরে দে ...।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

আমার উপলব্ধি

১।শিক্ষা সম্মান,

অজ্ঞতা অপমান।  

সত্য সম্মান বাড়ায়,

অসত্যে মানুষ ব্যক্তিত্ব হারায়।


২।  কারো জন্য জীবন দেবার প্রতিশ্রুতি ভালবাসা নয়, 

ভালোবাসা সেটাই, অন্যের ইচ্ছে ও চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে নিজে ত্যাগ স্বীকার করা ।


৩। ধর্মীয় জ্ঞান মানুষকে শৃঙ্খলিত করে আর ধর্মীয় অজ্ঞতা হিংস্র করে তোলে।


৪। জীবনের প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে থাকে জীবনের মধ্যে, পদার্থের মধ্যে নয়। অথচ, আমরা জীবনকে সুখী করতে পদার্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের সীমিত সুন্দর সময়গুলো উপভোগ না করেই শেষ করে ফেলি।


৫। জ্ঞানের গভীরে প্রবেশকরা জ্ঞানীজনের  সমালোচনার মধ্যেও শৈল্পিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।


৬। এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ জন্ম গ্রহণ করে, যারা জীবদ্দশায় নিজের পরিবারের সম্পদ হয়ে পারেনা। কিন্তু মৃত্যুর পর এদের রেখে যাওয়া কর্মের দ্বারা সমাজ, রাষ্ট্র কখনো সমগ্র পৃথিবীর সম্পদ হয়ে ওঠে।



৭। কোন দর্শন বা কারো বিশ্বাস ও জীবনাচারণ নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা এক ধরণের মূর্খতা ও মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ করে।জ্ঞানী মানুষ যুক্তি দিয়ে এবং অন্যের চিন্তা ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কথা বলে ।জীবনের কোন ব্যর্থতা ও অজ্ঞতা মানুষকে ব্যঙ্গাত্মক করে তোলে।নিজের পর্যবেক্ষণ এবং পৃথিবীর বড় বড় চিন্তাশীল ও জ্ঞানী মানুষদের লেখা ও বলা তাই প্রমাণ করে ।


৮। একটি জাতি গোষ্ঠীর মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকার পাশাপাশি বিজ্ঞান মনস্ক এবং যুক্তিবাদী হওয়াও অত্যন্ত জরুরী ।


৯। পৃথিবীতে দুই শ্রেণীর ধনী মানুষ রয়েছে।যাদের দ্বারা এই পৃথিবী নিয়ন্ত্রিত।এক শ্রেণী ধনের ধনী, অন্য শ্রেণী জ্ঞানের ধনী।আর এক শ্রেণীর উচ্চতর ধনী মানুষ রয়েছে যারা জ্ঞান দ্বারা ধন অর্জন করে ধন ও জ্ঞান উভয়ের অধিকারী হয়েছে।


১০। পৃথিবীর ধূর্ত মানুষগুলো নিজেদেরকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ভেবে থাকে। জ্ঞানীরা ধূর্তদের শঠতা বুঝতে পেরে নীরবে সাবধানতা অবলম্বন করে।এই নীরবতাকেই ধূর্তরা জ্ঞানীর নির্বুদ্ধিতা ভেবে থাকে। নীরবতার মধ্যেই যে জ্ঞানীর বিচক্ষণতা, ধূর্তদের গোবর মস্তিষ্কে এতোটুকু ধরার ক্ষমতা নেই বলেই, বারে বারে দূরদর্শী ও মহৎ মানুষদের সাথে চাতুরতার সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করে থাকে ।।



১১। জীবনের সংকট ও টানাপোড়নের সময়গুলো মানুষকে নানা ভাবে কষ্ট দেয়, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেই মানুষ স্বপ্ন দেখতে শেখে এবং সামনে এগিয়ে যেতে সাহসী হয়ে ওঠে।এমন সময় একে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়ে জড়াজড়ি করে মিলেমিশে জীবন যাপন করে।এই দুর্যোগকালীন সময়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্যে ঘনত্ব থাকে ।

মানুষ জীবনের সংকট ও টানাপোড়ন ঘোচাতে, বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে জীবনের কোন এক পর্যায় স্বনির্ভর হয়ে ভোগের সুখ সহজলভ্য করে তোলে।এ সময়,অতি আত্মনির্ভরতায় অনেকের মনের মধ্যে আত্মঅহংকার উদয় ঘটে, ফলে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমতে থাকায় আত্মার সম্পর্কগুলো হালকা হতে থাকে, এমন সময় মানুষ সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ানোর সাথে সাথে নিজের একাকীত্বও বাড়াতে থাকে। 

জীবনের বিরূপ পরিস্থিতিগুলো কষ্টদায়ক হলেও এর মধ্যে গভীরতর আত্মার সুখ নিহিত থাকে, যা ভবিষ্যৎ পার্থিব সুখের আশায় গুরুত্বহীন ভাবে হেলায় পাড়ি দিয়ে আমরা আত্মবঞ্চিত করে থাকি। 

সু-সময়ের পার্থিব সুখের মধ্যে যখন আত্মার সুখ খুঁজি, অনেক সময় তা জীবন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে।


১২। প্রেমহীন জীবন শুষ্ক মরুভূমির মত।জীবনে সুন্দর অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রেম অপরিহার্য।সে প্রেম হোক ঈশ্বর, প্রকৃতি,সমাজ, রাষ্ট্র, আদর্শ,শিল্প সংস্কৃতির প্রতি, পিতা মাতা, সন্তান বা প্রিয় কোন বন্ধুর প্রতি কিংবা স্বামী স্ত্রী, বা প্রিয় কোন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী অথবা পুরুষের প্রতি।অন্তরে প্রীতি,স্নেহ,ভালোবাসা ও ভক্তির ভাব মিশ্রিত অনুরাগের উপস্থিতি অনিবার্য।.....।


১৩। কোন মানুষের মধ্যে যখন প্রাপ্তির প্রশান্তি চলে আসে, তখন তার সৃষ্টি ও অর্জনের ধার ভোতা হতে থাকে।


১৪।  সর্বপ্রিয় বা সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি কখনোই সর্বোৎকৃষ্ট বা সর্বোত্তম মানুষ নয়। সর্বোত্তম মানুষ সেই, যিনি দৃঢ় চিত্তে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপছন্দের মানুষ হয়ে ওঠেন। 

সর্বপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা মানুষের সত্য বলার সাহস নষ্ট করে দেয়।সর্বজন সম্মানিত মানুষ অনেক সময় চোখের সামনে সমাজ ও রাষ্ট্রে সংগঠিত অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ না করে নীরব ভূমিকা পালন করেন,কারণ এমন মানুষেরা ভাবেন সত্য বলার জন্য তিনি অনেকের অপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন এবং তার ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট হতে পারে।এমন প্রবৃত্তির মানুষ কখনো অন্যের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা অর্জন করতে মিথ্যা আশ্রয়ও গ্রহণ করে থাকে। 


১৫। প্রতিষ্ঠাতা শব্দটি আপনি তখনি নিজের করে বলতে পারেন, যখন আপনার নিজ অর্থ, উদ্যোগ,শ্রম ঘাম,মেধা ও ত্যাগে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন গড়ে ওঠে......।। 

কিন্তু নিজ উদ্যোগের পর অন্যের শ্রম ঘাম,মেধা,অর্থ ব্যবহার করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর যখন ঘোষণা দেন আমি এই প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তখন আপনার চরিত্রে লুকিয়ে থাকা হীনমন্য,কপট,স্বার্থপর স্বভাবগুলো প্রকাশ পেয়ে যায় ……


১৬। ন্যায় ও নীতি কথা সুন্দর করে বলতে পারা একটি শৈল্পিক গুণ,

ন্যায় ও নীতিকে চরিত্রে ধারণ করে জীবন যাপন হচ্ছে মহত্ত্ব।

কখনো, একজন ভণ্ড মানুষও অসাধারণ শৈল্পিক গুণের অধিকারী হতে পারে,

কিন্তু সাধক না হলে মহামহিম গুনের অধিকারী মানুষ হওয়া সম্ভব নয়।


১৭। দাসত্বের সমাজে ভোগবাদী, সুবিধাবাদী মানুষ দান খয়রাত করে নাম ফুটায় এবং মহান মানুষ সেজে সমাজে রাজা হয়ে ঘুরে বেড়াতে চায়।

অন্যদিকে,প্রকৃত মহান মানুষেরা সুবিধাবাদী ও ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি  সুষম বণ্টনের সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে  প্রতিটি মানুষকে দান খয়রাতের পরিবর্তে সম্মানজনক জীবন জীবিকা উপহার দিয়ে নীরবে নিভৃতে আত্মার সুখ উপভোগ করে।


১৮।  এই পৃথিবীতে যার হাতে লাঠি, 

তিনিই নাড়েন ন্যায় অন্যায়ের কলকাঠি।


১৯। পৃথিবীর প্রতিটি নষ্ট ও নিষিদ্ধ জিনিসের মজা তীব্র,ব্যাপ্তি সাময়িক কিন্তু এর পরিণাম ভয়াবহ এবং ব্যাপ্তি হয় সুদীর্ঘ ......।


২০।মানুষ মূলত ততক্ষণ পর্যন্তই অন্যের সঙ্গে থাকার প্রয়োজন অনুভব করে,

যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রয়োজন থাকে। 


২১।কবি বুদ্ধদেব গুহের চিঠি কবিতার শেষের দিকের দুটি লাইন,


" যার বিবেক বেঁচে থাকে, তার সুখ মরে যায়।

সুখী হবার সহজ উপায় বিবেকহীন হওয়া।" 


বিবেক সম্পন্ন মানুষ হলে, উপহার স্বরূপ জীবনে দুঃখ কষ্ট অবধারিত।

তবুও বিবেকটাকে জাগিয়ে রাখতে হয়,

মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য।


২২।অন্যায়ের মূল শেকড়কে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে যাদের ভূমিকা অগ্রণী,

তাদের কণ্ঠেই রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অমেয় বাণী .........!


২৩।শুধু খেয়ে পড়ে উদর পূর্তি করে বেঁচে থাকার নাম স্বাধীনতা নয়

অধিকার ও আত্ম মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার নাম স্বাধীনতা।  


২৪।পেশা,শিক্ষা,সম্পদের স্তর বিন্যাস করে মানুষকে মূল্যায়ন করেন যিনি ,

অসুন্দর ,অসম্পন্ন মানুষ তিনি ।

সদাচারণ,সততা, ন্যায়-পরায়ণ গুন বিচারে মানুষকে মূল্যায়ন করেন তিনি ,

প্রকৃত প্রাজ্ঞ জন যিনি ।  


২৫।আপনার মাথার উপর আচ্ছাদন আছে

তিন বেলা খাবার সংস্থান আছে

পরনের কাপড় বদলাবার সামর্থ্য আছে

অসুখ-বিসুখে ডাক্তারের সেবা নিয়ে ঔষধ কিনতে পারেন

অথচ ,অন্যের অর্থ-বিত্তের দিকে তাকিয়ে নিজেকে অসুখী অনুভব করেন

।। আপনি আসলে সুখের অসুখে সংক্রমিত ।।  


২৬।যে রাষ্ট্রের জনগণের প্রতি দায়িত্ব নেই, জনগণেরও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা নেই, সেই রাষ্ট্রের ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম ও লুটে খাওয়ার চিত্র দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই।  


২৭।অসততার উপর প্রতিষ্ঠিত কোন নেতৃত্বে আসীন হয়ে সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি হাস্যকর।  


২৮।জ্ঞান মানুষকে মহৎ করে এবং সুশিক্ষিত মানুষ হয় আত্মমর্যাদাসম্পন্ন । 


২৯।দাসত্বের সমাজে ভোগবাদী, সুবিধাবাদী মানুষ দান খয়রাত করে নাম ফুটিয়ে মহান মানুষ সাজে এবং সমাজে রাজা হয়ে ঘুরে বেড়াতে চায়।

অন্যদিকে প্রকৃত মহান মানুষেরা সুবিধাবাদী ও ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং সুষম বণ্টনের সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে প্রতিটি মানুষকে দান খয়রাতের পরিবর্তে সম্মানজনক জীবন জীবিকা উপহার দিয়ে নীরবে নিভৃতে আত্মার সুখ উপভোগ করে।  


৩০।যে মানুষ আপনার ত্যাগ ও উদারতার মূল্য বোঝেনা, তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে যাওয়া অর্থহীন।

আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে জীবন সংসারে একজনের জীবনের সুখ রচিত হয় অন্যের ত্যাগ ও স্বপ্নের উপর ভর করে।সুখের নাগাল পাওয়া অধিকাংশ মানুষই অন্যের ত্যাগের কষ্ট অনুধাবন করতে পারেনা। 


৩১।দুইশত বই লিখে লেখক স্বীকৃতি নাও জুটতে পারে, আবার সারা জীবনে মানুষের মনে দাগ কাটার মত ২০০ পৃষ্ঠার একটি বই লিখে লেখক জীবন ধন্য হতে পারে।  


৩২।গোষ্ঠী স্বার্থের রাজনৈতিক চক্রের আবর্তে বাংলাদেশ।এই চক্র থেকে বাংলাদেশকে বের করে না আনতে পারলে সাধারণ মানুষের মুক্তি নেই ।আর এই কাজটি সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাধারণ মানুষকেই করতে হবে।গোষ্ঠী স্বার্থের রাজনৈতিক শক্তিকে প্রতিপক্ষ করে গণ-মানুষের স্বার্থের রাজনৈতিক লড়াই ঘোষণা এখন সময়ের দাবী।  


৩৩।কোন চিন্তা,দর্শন বা মতাদর্শ যদি নিজের চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক হয় সেটাকে যৌক্তিক ভাবে সম্মানের সহিত খণ্ডন করা হচ্ছে সমালোচনা।

অপরদিকে নিজের চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক কোন চিন্তা,দর্শন ও মতাদর্শকে ব্যঙ্গ বা অসম্মান করে প্রকাশ করাই হচ্ছে বিদ্বেষ।

আমাদের দেশে সমাজ থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত বিদ্বেষ চর্চা হয়,সমালোচনা করার মত উপযুক্ত জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের সংকটের কারণে গঠনমূলক সমালোচনা হয়না।একটি পরিবর্তনশীল সমাজ বিনির্মাণে সমালোচনা চর্চা ও সমালোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।  


৩৪।সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও হীনমন্যতা নিয়ে কখনো মানুষের অনুভূতির সুগভীরে প্রবেশ করা যায়না।  


৩৫।  জয় দিয়ে শুরু 

হার দিয়ে শেষ 

তবুও আমাদের বাঘের বাংলাদেশ। 

(প্রসঙ্গ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯)   


৩৬। মেঘ যেমন সূর্যের আলোকে আড়াল করে দেয়, তেমনি আত্ম অহংকার ও দম্ভ মানুষের ভালো গুণগুলোকে ঢেকে দেয়। 


৩৭। একজন খুনিকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার না করে সরাসরি খুন করা হলে তার খুনি হয়ে ওঠার শক্তি সাহস যোগানদাতাদের গল্প ঢাকা পড়ে যায়।ফলে খুনের বিষবৃক্ষ ফলন দিতেই থাকে।বিষবৃক্ষের মূল শিকড় কেটে ফেলতে না পারলে সামাজিক স্থিতিশিলতা আনা কখনোই সম্ভব নয়।  


৩৮। নিজ দেশে জামাত বিরোধী আন্দোলন করি,

ভারতের মোদী'র জয়ে প্রশান্তির ঢেকুর তুলী, 

আমিই মৌলবাদ বিরোধী স্বাধীনতার পক্ষের খাটি প্রগতিশীল শক্তি।


৩৯। এই পৃথিবীতে সবকিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হয় না। 

নিজের কোন কথা, কর্ম বা আচরণ অন্যের কষ্টের কারণ হয়েছে অথবা কোনো ভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মনে রাখতে হবে শুধু সময়ের ব্যবধানে একই ঘটনা বা পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি নিজের জীবনে অপেক্ষা করছে।সুতরাং কথা,কর্ম এবং আচরণে সংযমী, সাবধানী এবং বিবেচক হওয়া বাঞ্ছনীয়। 

আবার অন্যের জন্য ত্যাগ পুরষ্কার হয়ে ধরা দেয় এই জীবনেই …… 

এই পৃথিবীতে পার্থিব জীবনের নিয়ম নীতির বাইরেও অদৃশ্য দেনা পাওনার হিসাব নিকাস চলে যা আমাদের চর্ম চোখে ধরা পড়ে না। 

( জীবনের একান্ত পর্যবেক্ষণ )


৪০। নিজ ধর্মের মানুষ হত্যায় 

প্রতিবাদে ফাটি। 

অন্য ধর্মের মানুষ হত্যায় 

মনে মনে হাসি। 

চুপচাপ আমিও যে 

ধর্মীয় সন্ত্রাসী, 

সে কথা কখনো কি একবারও ভাবি ? 


৪১।স্রষ্টার সৃষ্টিকে ধ্বংস করে স্রষ্টার সান্নিধ্য বা প্রিয় হওয়ার মূর্খ ধারণার চেয়ে নিকৃষ্ট চিন্তা আর কি হতে পারে। 


৪২। জীবনের কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর মনস্থির করলে, উচিত স্বীয় লক্ষ্যে না পৌঁছুনো পর্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক নীরবে এবং একাগ্র চিত্তে অধ্যবসায় চালিয়ে যাওয়া।যদি কখনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কারো  পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয় তাহলে নিজের থেকেও কোন যোগ্য এবং বিজ্ঞ মানুষের দ্বারস্থ হওয়া শ্রেয়।এমন মানুষেরা অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে উদারতার সহিত পথ নির্দেশ করে থাকে এবং অনুপ্রেরণার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের পথকে মসৃণ করে দেয়। 

সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে অযোগ্য এবং অপরিপক্ব মানুষদের নিকট পরামর্শের জন্য দ্বারস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে, কারণ এমন মানুষের শরণাপন্ন হলে তার অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার প্রভাব আপনার উপর বিস্তার করে আত্মবিশ্বাস নষ্ট করবে। অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা নষ্ট করে দেওয়ার জন্যও ভূমিকা রাখতে পারে।

মানুষ মূলত কোন যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা নিয়ে পৃথিবীতে জন্মায় না এবং কোন কিছু শুরুও করে না। মানুষ তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা এবং প্রয়োজন ও ইচ্ছে অনুযায়ী নিজেকে প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলে।এভাবেই পৃথিবীর যাবতীয় অসাধ্যকে সাধন করে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। 

( কথাগুলো একান্তই নিজ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে)


৪৩। আমাদের জাতিগত মানসিকতায় প্রাণের থেকে পদার্থের মূল্য বেশী। তাই পদার্থ উপার্জন করতে শত শত প্রাণের বিনাশ ঘটানো  মামুলি বিষয় মাত্র।প্রাণহীন পদার্থ উপার্জনের নেশায় প্রাণের গুরুত্ব ভুলে গিয়ে আজ জাতীর প্রাণই বিনাশের পথে।


৪৪। মানব সম্পর্ক বড়ই বিচিত্র! বছরের পর বছর বুকের সাথে বুক মিলিয়ে কাটিয়ে দিয়েও আত্মার সংযোগ ঘটেনা, আবার কখনো চোখের দেখা না হয়েও আত্মার টানে জীবন দিতেও প্রস্তুত হয়ে যায় ...।। প্রচলিত সামাজিক নিয়মের সম্পর্কগুলোকে আত্মীয় বলা হলেও মূলত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে আত্মার সাথে আত্মার মিলন ঘটে যার সাথে তিনিই বস্তুত পরম আত্মীয়।সেটি প্রচলিত আত্মীয় সম্পর্কের কারো সাথে হতে পারে আবার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ও বৃত্তের বাইরের কোন মানুষের সাথেও গড়ে উঠতে পারে ।


৪৫। মানব সম্পর্ক দুই ধরণের।একটি প্রচলিত সামাজিক নিয়মের, অপরটি আত্মার।


৪৬। মিথ্যা ও অসততার উপর প্রতিষ্ঠিত কোন শক্তির ভালো কাজের প্রশংসা আর মন্দ কাজের সমালোচনা বিশেষ কোন তাৎপর্য বহন করেনা।


৪৭। আমাদের পিঠে অসত্যের হিংস্র থাবা...


৪৮। সত্য বলার সাহস না থাকলে নীরব থাকুন। কিন্তু, অসত্যকে সত্য রূপে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে নিজের সত্তাকে অপমান করবেন না।


৪৯। একজন ডাকাত দলের সর্দারের দু:সাহসীকতা,দূরদর্শিতা এবং চাতুর্য গুনের জন্য দলের সদ্যসদ্যের মধ্যে বীরের সম্মানে সম্মানিত হলেও সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তিনি ঘৃণিত,অসম্মানিত এবং অভিশাপের পাত্র।


৫০। অসত্যের অর্জনের মধ্যে ভোগের আনন্দ থাকে কিন্তু আত্মতৃপ্তির প্রশান্তি থাকেনা, থাকে গ্লানি, মানুষের ঘৃণা।


৫১। কোন প্রকার আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ভোট দিলেন মানে আপনার মাতৃভূমিকে দুর্বৃত্তদের কাছে বিক্রি করে দিলেন।


৫২। এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দালালী করে ক্ষণিকের জন্য নিজে ভালো থাকা যায়, কিন্তু দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হলে সবাই ভালো থাকা যায়। পৃথিবীর নেতৃত্ব প্রদানকারী দেশ ও জাতি তার দৃষ্টান্ত।

শ্লোগান হোক 

ইট ,পাথর, কাঠ, কনক্রিটের সরকার নয়, মানবিকতার দ্বার উন্মোচনের সরকার চাই ……


৫৩।  একজন ব্যবসায়ী খুঁজে মুনাফা, 

শিল্পী খুঁজে তারকা খ্যাতি ,

খেলোয়াড় খুঁজে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার আর মেডেল,

আমলা খুঁজে পরিপাটি চেয়ার, মোটা অঙ্কের বেতন

কিন্তু যে মানুষটির মুনাফার মনোবৃত্তি নেই,

নেই তারকা খ্যাতির সুপ্ত বাসনা বা ম্যাচ সেরা পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা,

অধনস্থ ঘেরা নির্দেশের নরম চেয়ারের স্বাদ যার কাছে তুচ্ছ, তিনিই রাজনৈতিক,

মানুষের সমস্যা,শঙ্কট, সমাধান ও সম্ভাবনা যিনি অন্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পান,

তিনিই রাজনৈতিক।


৫৪। শুরুতেই তাহার প্রেমে পড়িয়া ছিলাম রূপে মুগ্ধ হইয়া।আতিথেয়তা ও উদারতায় কখনো মনে হয়নি আমি তাহার ঘরে একজন অপরিচিত আগুন্তক মাত্র।কোন একসময় তাহার ঘরের মানুষ হইবার দুঃসাহস হৃদয়ে জাগিয়া বসিলো।ভাবিয়া দেখি নাই আমি তাহার গ্রহণ করিবার যোগ্য মানুষ কিনা।তাহাকে পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণের শর্তের সিঁড়িগুলো একেবারে মসৃণ নয় কিন্তু তাহাকে পাওয়ার দুরন্ত আকাঙ্ক্ষা সেই শর্তের বেড়াজাল ছিঁড়তে দুঃসাহসী করিয়া তুলিয়াছিল আমাকে।শর্তের নিয়মকানুন পূরণ করিয়াই নির্ধারিত ফর্মে আমার পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত উল্লেখ করিয়া তাহার ঘরের অতিথি থেকে আপন মানুষ হইবার ইচ্ছা পোষণ করিয়া একটি বড় খামে চিঠি পাঠাইয়াছিলাম।দুই মাস পর পত্রের প্রাপ্তি স্বীকার পত্র হাতে আসিয়া পৌছুলো।পত্রে উল্লেখ করিয়াছিল সাক্ষাতের তারিখ পরবর্তীতে পত্র মারফত জানাইবে।প্রতীক্ষার দিন প্রহর পার করিতে করিতে দশ মাস পার হইবার পর তাহার সাথে সাক্ষাতের দিন ক্ষণের পত্র হাতে পাইলাম।সাক্ষাৎকারটা ভালোই হইয়াছিল, বলিয়াছিল তাহার ইচ্ছার কথা ভাবিয়া চিন্তে বেশকিছু দিন পর পত্র মারফত  জানাইবে।ইহার পর থাকিয়া তাহার পত্রের আশায় দুরু দুরু বুকে প্রায় প্রত্যহই ডাক বাক্স খুলিয়া তাহার চিঠি খুঁজি,। চিঠির বাক্সে নানান চিঠি আসিয়া ভরিয়া থাকে কিন্তু তাহার চিঠি পাইনা।সুদীর্ঘ প্রতীক্ষায় প্রায় হতাশ হইয়া ভাবিতেছিলাম আমি হয়ত তাহার পছন্দের মানুষ হইবার পারি নাই।কিন্তু না, আজ চিঠির বাক্স খুলিয়া দেখি অন্যান্য চিঠির মধ্যে ছোট্ট একটি সাদা খাম, প্রেরকের ঠিকানা দেখিয়া বুঝিতে পারিলাম এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তাহার চিঠি।খাম খুলিয়াই দেখি সে লিখিয়াছে …… 

Jai le plaisir de vous informer que vous avez acquis nationalité français depuis le //2018 

I am pleased to inform you that you have acquired French nationality since ... / ... / 2018

ভালোবাসি তোমায় , 

প্রত্যাশার কোন অপ্রাপ্তি রাখনি .....

( প্রসঙ্গঃ ফরাসি নাগরিকত্ব অর্জন) 


৫৫। শিল্পী মমতাজ  জাতীয় সংসদে গিয়ে আইন বানায়। সেই আইন পড়ে অনেকে উকিল, ব্যারিস্টার,জজ হয়ে আইন আদালত চালায় ।উকিল,ব্যারিস্টার,জজ হওয়ার জন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হয় কিন্তু আমাদের দেশে আইন বানানোর জন্য পড়াশোনা না করে বাঊল গান গাইলেও চলে।


৫৬। আইন তৈরির মূল উদ্দেশ্য জনগণকে সুরক্ষা দেয়া,কিন্তু আমাদের দেশে আইন তৈরি ও ব্যবহার হয় গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিয়ে খেলা ও হয়রানীর উদ্দেশ্যে।অবৈধ টাকা পয়সা অর্জনের মধ্যদিয়ে দেশে এতো পরিমাণ সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে যে কোন কথা দ্বারা তাদের সম্মানে একটু হানি হলেই শত শত কোটি টাকার মামলা হয়ে যায়।যে টাকা বৈধ ভাবে আয় করে অভিযুক্ত ব্যক্তির কয়েক জনম ভরেও পরিশোধ করা সম্ভব নয়।রাষ্ট্রীয় আইন হোক জনস্বার্থের ও সম্মানের, খেলা করার জন্য নয় ।


৫৭। ভোটের জন্য ওরা যদি বাম,ডান,নাস্তিক,আস্তিক,মোল্লা,পুরোহিত,মৌলবাদী,প্রগতিশীল,চেতনাধারী ,চেতনাহীন,রাজাকার,মুক্তিযোদ্ধা সবার সাথে সখ্যতা গড়তে পারে, তাহলে আমরা কেন ওদের পক্ষ নিয়ে একে অপরের মধ্যে আদর্শের দ্বন্দ্বে জরিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করি?


৫৮। বাংলাদেশের সংবাদ মিডিয়া আর বিজ্ঞাপনী সংস্থার মধ্যে এখন খুব একটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিজ্ঞাপনী সংস্থা পণ্যের বিক্রয় বাড়ানোর জন্য অর্থের বিনিময়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন বানায়, আর দেশের অনেক সংবাদ মিডিয়া ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক দলের জন্য অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বানায়।তবে দেশের মানুষ বিজ্ঞাপন দেখে পণ্যের গুণাগুণ নির্ণয় করতে না পারলেও অর্থের বিনিময়ে বানানো বিজ্ঞাপনী সংবাদ বা মোসাহেবি সংবাদের মান নির্ণয় করা ঠিকই শিখে ফেলেছে।


৫৯। যদি কোন বিশ্বাস বা আদর্শ অনুসরণের ফলে আপনার মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, হিংস্রতা এবং শ্রেণী বৈষম্য মানসিকতার উদয় ঘটায়, তাহলে বুঝবেন আপনি হয়তো আপনার ধারণকৃত বিশ্বাস বা আদর্শের বিধিবিধানের গভীরে যেতে পারেননি, নতুবা আপনি ভ্রান্ত আদর্শ বা বিশ্বাসের মায়াজালে অন্ধ হয়ে আছেন।


৬০। আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছে যারা কাঠামোগত দিক থেকে মানুষের মত হলেও এদের মস্তিষ্কের গড়ন বা আকৃতি ষাঁড়ের মস্তিষ্কেরর মত। 

এমন লোকেরা যুক্তির নিরিখে পরাস্থ হলে ষাঁড়ের মতই সিং দিয়ে ঢুস দেবার জন্য অন্যের দিকে তেড়ে আসে।


৬১।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি বক্তৃতায় দেশের দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ও মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পেত। বলতেন , আমার অভাবী দুঃস্থ জনগণের জন্য বিদেশ থেকে আমাকে ভিক্ষা করে আনতে হয় আর এই চোরের দল আমার দুঃখী মানুষের সর্বনাশ করে এরা লুটতরাজ করে খায়। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ উপার্জন করে রাষ্ট্রকে দেয় সেই অর্থও চোরের উত্তরসূরিরা এখনো লুটেপুটে খায়।কিন্তু, একই দল ও তারই পরিবারের হাতেই রাষ্ট্রের নেতৃত্ব,নেই শুধু তার মত করে চোরদের বিরুদ্ধে কথা বলা ও ব্যবস্থা নেবার মত একজন নেতা। তার সাথে বর্তমান নেতার পার্থক্য এইটুকু তিনি চোরের উত্তরসূরিদের রক্ষার্থে কথা বলেন।


৬২। কোন অন্যায় জুলুম ও অনিয়মকে রুখতে নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করলে, প্রথমে নিজের মধ্যে অনিয়মের যে ছিটেফোঁটা রয়েছে সে গুলোকে পরিষ্কার করতে হয় এবং নিজের মধ্যে যে পশুর বসবাস তাকে গভীর নিদ্রায় দমিয়ে রাখতে হয়।


৬৩। লড়াই হবে ধরে রাখার, কেড়ে নেবার এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ।


৬৪। বুকের মধ্যে যদি দেশপ্রেম ও সততা থাকে তাহলে দেশকে সঠিক পথে ধাবিত করতে বয়স আটষট্টি হওয়ার প্রয়োজন নেই, আঠারো হলেই যথেষ্ট।


৬৫। রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যখন পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তখন পচনধরা গলিত শরীরকে সুস্থ করার দায়িত্ব যে আমার এই বোধ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে জাগ্রত হচ্ছে দেখে আশাবাদী হচ্ছি। মনে হচ্ছে দেশ হয়তো গুটিকয়েক ডাকাত ও তার দোসরদের গোলামীর হাত থেকে বেড়িয়ে আসতে খুব বেশী সময় নেবেনা। দেশ কোন ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠীর নয় দেশ আমার, দেশ তোমার।নিজের অধিকার নিয়ে বেছে থাকার স্বার্থে দেশকে সুস্থ করার দায়িত্ব আমার এবং তোমার ।সংগ্রামের বীজ রোপিত যে জাতির শরীরে সে জাতিকে অবরুদ্ধ করে রাখার দুঃসাহস কার ।এগিয়ে যাও আমার মাতৃভূমি ………।।

(প্রসঙ্গ নিরাপদ সড়ক আন্দোলন)


৬৬। এক সময় ইতিহাস রচিত হতো।কালের বিবর্তনের সাথে সাথে সেই ইতিহাসের সত্যতা নিয়ে তৈরি হতো বিতর্ক। ইতিহাস রচনাকারীদের পক্ষপাতিত্বে কখনো ইতিহাসের খলনায়ক হয়েছে নায়ক আবার নায়ক হয়েছে খলনায়ক। কিন্তু আমরা আজ এমন এক যুগে এসে পৌঁছেছি যে এখন আর পক্ষপাতিত্ব ইতিহাস রচনাকারী দিয়ে ইতিহাসের নায়ক হওয়া  প্রায় অসম্ভব কারণ এখন ইতিহাস ভিডিও হয়, তাই সময় অতিবাহিতের সাথে সাথে ইতিহাস বিকৃত করা আর সম্ভব হবেনা। চলমান ঘটনা ভিডিও হচ্ছে এই জীবন্ত রেকর্ডগুলোই নতুন প্রজন্মের কাছে অদূর ভবিষ্যতে নির্ধারণ করবে আমাদের ইতিহাসের নায়ক এবং খলনায়ক ।


৬৭। পৃথিবীর কট্টর আদর্শবাদী মানুষ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কখনো চরম ভয়ংকর। কারণ, এরা নিজস্ব মতাদর্শ ও বিশ্বাসের বাইরে অন্য চিন্তাধারা ও আদর্শের মানুষের বিশ্বাসের চরম অবমূল্যায়ন করে এবং নিজস্ব বিশ্বাস ও আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য বিশ্বাসের মানুষকে হত্যা করাটাকেও কখনো ন্যায় বলে মনে করে । 


৬৮। সৎ পরিশ্রম প্রাপ্তি ও প্রশান্তি আনে, আর কর্মহীন সময় হতাশা আনে ।  


৬৯।পৃথিবীতে যে সব মানুষ যে বিশ্বাস, নীতি ও আদর্শ নিজ চরিত্রে ধারণ না করে , অন্যদের উপর আদর্শের ফুল ঝুড়ি ফোটায়, বই এর মলাটে নীতি ও আদর্শের বাণী লিপিবদ্ধ করে সমাজ সংস্কারের স্বপ্ন দেখায় ,এরা কিছু সময় জীবদ্দশায় প্রতিভার মূল্যায়নে তারকা খ্যাতি অর্জন করলেও তার মৃত্যুর পর তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, কারণ প্রতিটি মানুষের মৃত্যুর পর সমাজের সাধারণ মানুষ তার কর্মজীবন ও ব্যক্তি জীবনের বিশ্লেষণ শুরু করে সেই বিশ্লেষণে প্রকৃত আদর্শিক মানুষরাই এক একটি আদর্শ রূপে নতুন স্বরূপে মানব সমাজে অস্তিত্ব লাভ করে। আর ভণ্ডদের বইয়ের মলাটের আদর্শের বাণী হয় নিতান্তই উই পোকার আহার । 


৬৯।আমাদের সমাজে তত্ত্ব ও জ্ঞানের কথা জ্ঞানের ভাষায় আমরা অনেকের কাছ থেকেই শুনী কিন্তু তার প্রয়োগ সমাজ তথা ঐ তাত্ত্বিক ব্যক্তির জীবনেও দেখা যায়না। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ব্যক্তি মানুষ কেমন, কোন রাজনৈতিক আদর্শের সেই বিতর্কে যাবনা, তবে তার সরল স্বীকারোক্তি আমাদের বর্তমান সামাজিক অবস্থায় একটি আদর্শ। আমরা জীবনের সাফল্যের কথা বলি, সাথে একটু বানিয়ে রঙ লাগিয়েও থাকি, কিন্তু জীবনের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি দেয়ার সাহস কতজন রাখি । রাষ্ট্রপতির বক্তব্য কারো কাছে ব্যর্থ ছাত্রের গল্প মনে হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে সাময়িক ব্যর্থতা মানে জীবনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নয় আর সাময়িক সাফল্য মানেই জীবনের চূড়ান্ত বিজয় নয়। তাই জীবনের কোন অংশের পরাজয়কে মনে স্থান না দিয়ে স্বীয় লক্ষ্যে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নিহিত ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বুদ্ধিমান মানুষ যারা তারা অবশ্যই সরল এই স্বীকারোক্তি মূলক কথাগুলোর মধ্য থেকে তা অনুধাবন করতে পেরেছেন। 


৭০। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ভালো ডিগ্রি অর্জন করা আর নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করা এক বিষয় নয় । একজন কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ অনেক সময় একটি জাতি, কখনো বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত মানুষ হয়ে উঠে । অন্যদিকে, একজন পিএইচডি ডিগ্রি ধারী’র ভালো গবেষক বা অফিসিয়াল হতে দেখা গেলেও অনেক সময় নিজের পরিবারকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অক্ষমতা প্রকাশ পায়। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অর্জিত জ্ঞান পেশাগত ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগে ব্যর্থ অহংকারী মানুষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন বা স্বল্প শিক্ষিত সৎ সফল ও জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ এবং সন্মানিত। 


৭১। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ সরকার যে ভাবে দেশের বড় জেলা শহরগুলোকে বিভাগীয় শহরে রূপান্তর করে মানুষকে খুশী করছে, তাতে মনে হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে দেশের সব মানুষকে খুশী করার জন্য আমাদের জনগণ বান্ধব সরকার সবগুলো জেলা শহরকে বিভাগীয় শহরে রূপান্তর করবে এবং সব উপজেলা ও থানাকে জেলা শহরে ,প্রতিটি ইউনিয়নকে উপজেলায় ও ওয়ার্ডগুলো এক একটি পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর করলে অবাক হবোনা ………

আসলে দেশে এতো বিভাগীয় অঞ্চলের প্রয়োজন আছে কি?

আর বিভাগীয় শহরে রূপান্তর হলে ঐ অঞ্চলের মানুষের লাভ কি? আর এতো খুশী হবারইবা কি আছে ?

দেশের যে স্থানেই বসবাস করিনা কেন আমার নাগরিক অধিকার ও সুবিধা সুনিশ্চিত হচ্ছে কিনা সেটাই আসলে ভাবার বিষয় এবং সেই অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সফল হবার মধ্যেই আনন্দ।  


৭২। ফিদেল কাস্ত্রোর কোনো মূর্তি বানানো হবে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের নামকরণও হবে না তাঁর নামে। এটিই ফিদেলের ইচ্ছা ছিল।’ বড় ভাইয়ের এই ইচ্ছার কথা যখন কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো জানাচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত জনতা বলে উঠল, ‘আমিই ফিদেল’।

রাউল কাস্ত্রো বলেন, এসব কারণেই ফিদেল নিজেই একটি দৃষ্টান্ত।

মূলত যে সব নেতাদের মনে ভয় ও সংশয় থাকে যে, তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তাকে স্মরণ করবেনা এবং তাঁর কৃতকর্মের জন্য বরং ধিকৃত হতে পারেন তারা রাস্তা,বিল্ডিং এর নাম ফলকে ,পাঁথরের মূর্তির অবয়বে,আইন করে ছবির ফ্রেমে মানুষের মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।অপরদিকে যে সব নেতারা মানব মুক্তির মহান আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে,নিজের বিশ্বাস এ অবিচল থেকে আমরণ সংগ্রাম করে মানুষের আলোর পথ দেখান তারা রাস্তা,বিল্ডিং এর নাম ফলকে ,পাঁথরের মূর্তির অবয়বে,আইন করে ছবির ফ্রেমে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার এই পন্থাকে প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তারা বিশ্বাস করেন তাঁর জীবনকর্ম ও রেখে যাওয়া আদর্শ তাকে স্থান দেবে মানুষের অন্তরে,মানুষের চিন্তা ও চেতনার মাঝে বেঁচে থাকবেন হাজার হাজার বছর। 


৭৩। অসাম্প্রদায়িক চেতনার রূপে নিজের অন্তরের গহীনেই মৌলবাদের সুগভীর বাসা, তা আমরা কজনইবা নির্ণয় করতে পারি?পারিনা বলেই অসাম্প্রদায়িকতার ঝান্ডা হাতে নিয়ে মনের অজান্তেই প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িকতার বিষ-বাষ্প ছড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিশৃঙ্খল করতে অবদান রেখে যাচ্ছি। 


৭৪। বাংলাদেশে দেশে জন্ম নেওয়া একজন মানব সন্তানের প্রতিদিন মৃত্যুকে সঙ্গী করেই ঘর থেকে বের হতে হয়,সে জানে তার মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায়,রাজনৈতিক সংঘাতে,সন্ত্রাসী বা মৌলবাদীর ছুরিকাঘাতে হতে পারে,এমনকি স্বয়ং সরকারী সিদ্ধান্তে তাকে হত্যা করে তার লাশ খাল, বিলে ফেলে রাখা বা বালুর বস্তায় ভরে নদীর তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।স্বাভাবিক মৃত্যু চিন্তা যেন এই ভূখন্ডের মানুষের এক অলীক ভাবনা..............!


৭৫।আজ বাংলাদেশের মানুষের অন্যায়ের সাথে প্রতিনিয়ত আপোষ করতে করতে যাবতীয় অপকর্মগুলো সমাজে ন্যায়রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে এবং স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেওয়ার মনোবৃত্তি তৈরী হয়েছে।ফলোশ্রুতিতে,চোখের সামনে ঘটে যাওয়া শত শত অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদের জন্য সামগ্রিক জাতিগোষ্ঠির ধমনিতে এখন আর কোন শিহরণ জাগায়-না।  


৭৬।অনিয়মতান্ত্রিক সমাজ মানুষকে ভাগ্য বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ করে।

নিয়মতান্ত্রিক সমাজ মানুষকে কর্মে উদ্বুদ্ধ করে । 


৭৭। যে মানুষ  প্রথমে নিজের পরিচয় না দিয়ে বাপ,দাদা অথবা আত্মীয় স্বজনের পদ পদবীর পরিচয় সামনে এনে আভিজাত্য বা দম্ভ প্রকাশ করে , বুঝে নেবেন- আপনি একজন মহাব্যর্থ ও অকর্মা মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। 


৭৮। কিছু মানুষের সাথে কথা বললে উজ্জীবিত হওয়া যায়, আশান্বিত হওয়া যায়,আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হয়, প্রাণশক্তি সঞ্চার হয়,নতুন করে স্বপ্ন দেখার আলোর দিশা খুঁজে পাওয়া যায় । 

অন্যদিকে, কিছু মানুষের সংস্পর্শে গেলে বা কিছুক্ষণ কথা বললে মনে হবে ভেতরের প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।নিজেকে অজ্ঞ ও ব্যর্থ মানুষ মনে হবে।

এরা সব কিছু নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, এদের ইতিবাচক ভাবে দেখার  চোখ অন্ধ।  

সমাধান, এমন মানুষদের থেকে সব সময় দূরে থাকা, নিজের মঙ্গলের স্বার্থে। 


৭৯। আমাদের ধর্ম বিশ্বাসী মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতি যে পরিমাণ তীব্র তার অর্ধেক অনুতাপ যদি ধর্ম নির্দেশিত সৎ কর্মের বিপরীতে করা অপকর্মগুলোর জন্য অনুভব হতো তাহলে পৃথিবীর অর্ধেক অশান্তি দূর হয়ে যেতো।


৮০। যে চূড়ায় অবস্থান করে অহংকার ও ঔদ্ধত্য আচরণ করছেন, ঐ  সুউচ্চ  চূড়া থেকে একবার নিচের দিকে তাকান,  দেখবেন এই চূড়ায় উঠতে কত মানুষ  পিঠ পেতে  সিঁড়ি বানিয়ে দিয়েছিলো আপনার জন্য।একবার অনুভবের চেষ্টা করুণ এক একটি সিঁড়ি আপনার ভরে কতটা ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত হয়েছে ।যে চূড়া যত উঁচু সে চূড়ার সিঁড়িও ততো বেশী।আপনার অবস্থানের চূড়া যত বেশী উঁচু ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত সিঁড়ির  সংখ্যাও ততো বেশী। চূড়ায় সবাই উঠতে চায় কিন্তু অন্যের জন্য পিঠ পেতে নিঃস্বার্থ সিঁড়ি হতে চায় কজন মানুষ? সুউচ্চ চূড়ার চেয়ে সিঁড়ি অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র  হলেও  সিঁড়ির মহত্ত্ব অনেক উঁচু।তাই চূড়ায় ওঠার পর যখন প্রতিটি সিঁড়ির অবদান ভুলে গিয়ে  আপনার আচরণে অহংকার ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায় তখন বুঝে নেবেন আপনার রক্তেের ধারায় কৃতঘ্নের ভয়ংকর জীবাণু এখনো মিশ্রিত রয়েছে।


৮১।ভালোবেসে যা অর্জন করা হয়ে ওঠেনি তা আইন দেখিয়ে অর্জনের চেষ্টা নিরর্থক বোকামি।  


৮২। আপনার কষ্টের ও অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন আরও অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হতে পারতো, কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে আপনি একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ জীবন পেয়ে গেছেন, এতটুকু প্রাপ্তি আপনি নিজেও কখনো প্রত্যাশা করতেন না আপনার পূর্বের অবস্থান ও অযোগ্যতার কারণে ।এখন আপনার জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির ঢেকুর তোলার কথা, দেহ মনে সুখ অনুভূতি বয়ে বেড়ানোর কথা, অথচ আপনার আগের অনিশ্চয়তায় ভরা কষ্টের জীবনের হতাশার চেয়ে এখন অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাস আরও দীর্ঘ হচ্ছে !   


জীবনের সুখ ও দুঃখের পার্থক্য বুঝতে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, যা আপনি অর্জন করতে পারেনি, তাই এই অপ্রাপ্তির কষ্ট ও হতাশা। অর্থ উপার্জন করেছেন,সুনাম অর্জন করেছেন, বড় ডিগ্রি অর্জন করেছেন কিন্তু জীবনের প্রশান্তি অর্জনের জ্ঞান এখনো আপনার কাছে ধরা দেয়নি।ব্যক্তিজীবনে আপনি পৃথিবীর বড় অসহায়, হতভাগা, ব্যর্থ মানুষদের দলের একজন,তা কখনো ভেবে দেখেছেন কি ?


৮২। "মহত্ত্বের চেয়ে স্বার্থ যেখানে বড়" 

আমরা অনেকে সময় খুব কাছের মানুষদের স্বার্থপর আচরণে মর্মাহত হই।এমন পরিস্থিতি বা এমন আচরণ আমরা  হয়তো প্রিয়জনদের কাছ থেকে কখনো প্রত্যাশা করিনা, এমন কি কখনো চিন্তা করিনা।বাস্তবতা,প্রায় প্রত্যেকেরই জীবনে  কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।প্রত্যাশা, বাস্তবতা এবং অনুভবের এই সমন্বয়হীনতা আমাদেরকে দারুণ ভাবে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। চলমান জীবন ছন্দ হারিয়ে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।কারো কাছে বেঁচে থাকাটা শুধুই অর্থহীন উদ্দেশ্যহীন এবং অপচয় বলেও মনে হয়। 

জগতের নিয়মই হয়তো এমন, তবে প্রথম প্রথম কষ্টটা অসহনীয় হলেও পরে সয়ে যায়। পরবর্তীতে স্বার্থপর কাছের মানুষদের সাথে নিয়মের লেনদেন থাকলেও আত্মার টান আর থাকেনা। এতে বরং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ যে ভালোবাসা ও অনুভবের জায়গা থেকে আমরা কাছের প্রিয় মানুষদের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করি সেই মানিসিকতা ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে।অর্থ ও স্বার্থের সম্পর্কে নির্ধারিত কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু যার পাশে ত্যাগের মানসিকতা সম্পন্ন একজন মানুষ থাকে সে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও সৌভাগ্যবান মানুষ। এই উপলব্ধি জ্ঞান না থাকায় নগদ বিশ্বাসী মানুষেরা নগর প্রাপ্তি ছাড়া তাদের পাশে ছায়ার মত দাঁড়িয়ে থাকা অদৃশ্য অমূল্য সম্পদ আবিষ্কার করতে পারে না।তাই না বুঝে তারা পরার্থপর আপন ত্যাগী মানুষদের সঙ্গে স্বার্থপর আচরণ করে ফেলে।


যে মানুষ তার পুরো জীবনটাই আপনার জন্য ত্যাগ করতে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলো সেই মানুষটির কাছ থেকে যখন নির্ধারিত কিছু আদায় করে নিজেকে লাভবান মনে করেন তখন তাৎক্ষণিক  হয়তো বোধগম্য হয়না পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হতভাগা মানুষ আপনিই।পরবর্তীতে বোধ ফিরে আসে কিন্তু সেই মহৎ মানুষটিকে আর আগের মত করে পাওয়া যায়না । 

এই জগত ও মানুষের জীবন বড়ই অদ্ভুত। জীবন চলার বাঁকে বাঁকে মানুষের নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় । মানুষের ভাবনার সঙ্গে চূড়ান্ত বাস্তবতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপরীতমুখী। এর নামই মানব জনম…… 


সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জীবনটা বড় অদ্ভুত রকমের সুন্দর। প্রতিটি প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মধ্যে সমন্বয়হীনতা মানুষকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়ে অসাধারণ কিছু শিক্ষা দেয় এবং জীবনের অনাবিষ্কৃত সৌন্দর্যের দুয়ার উন্মোচন করে দেয়।এমন মুহূর্তেই বেঁচে থাকার আরও মহৎ এবং সুন্দর দিগন্তের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে কষ্টের মুহূর্তগুলো খুব ধৈর্য সহকারে পাড়ি দেয়াটাই বড় পরীক্ষা……!  


৮৩।আমাদের মানব জীবন অনেকটা  ফসলি মাঠের মতো।তাই, ভালো ফলনের  জন্য শস্য ক্ষেতের পরিচর্যা যেমন অপরিহার্য, তেমনি আমাদের  জীবনের ফসলি মাঠটাও মাঝে মাঝে পরিচর্যা করা অত্যাবশ্যক।

তা নাহলে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।  


শস্য ক্ষেতে আগাছার বীজ বপন না করলেও দেখা যায় ফসলি গাছের চারপাশে আগাছা জন্মে  ফসলী গাছের ক্ষতি সাধন করছে ।তাই ভালো ফলনের লক্ষ্যে মাঝে মাঝে শস্য গাছের চারপাশ থেকে আগাছাগুলো নিড়ানি দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়। বার বার উপড়ে ফেলার পরও আগাছা জন্মাতেই থাকে।শস্য ক্ষেতের ধরণই এমন।  

আমাদের  চলমান জীবনে অনেক সময়  আমাদের চারপাশে বিভিন্ন সূত্র ধরে কিছু মানুষের আবির্ভাব হয় যারা ফসলী মাঠের আগাছার মতো।জীবন যতদিন থাকবে এমন মানুষের আগমন কোন না কোন ভাবে ঘটতেই থাকে। এরা যতক্ষণ আমাদের চারপাশে অবস্থান করে ততক্ষণ জীবনের সঞ্জীবনী শক্তি নিঃশেষ করতে থাকে।ফলে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি হয়।ফসলি গাছের রস নিঃসরণ করা ছাড়া মাঠের আগাছার যেমন কোন কাজ নেই, তেমনি আমাদের জীবনের চারপাশে ঘিরে থাকা আগাছাগুলোরও অন্যের রস নিঃসরণ করা ছাড়া কারো  জীবনে বিশেষ কোন ভূমিকা থাকে না।তাই, মাঝে মাঝে আমাদের জীবনের ফসলী মাঠটাও  আগাছামুক্ত করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত  সুন্দর অনুভূতিময় জীবনের স্বার্থে  ……


৮৪। একজন নেতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ সবসময় অনিশ্চয়তা ও অশান্তিতে ভোগে, সেই সাথে তার তার কর্মকাণ্ডের দ্বারা আশেপাশের মানুষদেরও স্বাভাবিক জীবনধারা ব্যাহত করে। অন্যদিকে, একজন ইতিবাচক চিন্তাধারার মানুষের দেহমনে সবসময় সুখ অনুভূতি বিরাজ করে,সেই সাথে তার কর্মকাণ্ড ও উপস্থিতির কারণে আশেপাশের মানুষের মধ্যেও শান্তির ধারা প্রভাহিত হয়। নিজেকে ও অন্যকে ভালো রাখার জন্য ইতিবাচক চিন্তার চেয়ে ভালো ঔষদ আর কি হতে পারে।


৮৫ ।এই পৃথিবীতে সব কিছুর মধ্যে স্বার্থ বা লাভ খোঁজা মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মধ্যে থাকে ।অথচ,ক্ষতিকেই লাভ ভেবে এরা জীবন কাটিয়ে দেয়।লাভ ক্ষতি বোঝার মত দূরদৃষ্টিজ্ঞান কখনোই এদের কাছে ধরা দেয় না।


৮৬।প্রতিশোধ তাকেই বলে,কারো আচরণে কষ্ট পেয়ে তাকে  ত্যাগ করে নিজ পথে নিজের পায়ে হেঁটে গন্তব্য পৌঁছে দেখিয়ে দেওয়া। 

কিন্তু,কারো আচরণে কষ্ট পেয়ে নীরবে মনের মধ্যে তার প্রতি ক্রোধ লালন করে তারই পিঠে সওয়ার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাকেই চাবুক মারাকে বলে হিংস্রতা ।  

এই দুইয়ের মধ্যে মনুষ্য আচরণ আর পশু আচরণের পার্থক্য ।  


৮৭। স্বার্থপর মানুষের জীবনের হিসাব, "কার কাছ থেকে কতটুকু পেলাম"। 

মহৎ মানুষের জীবনের হিসাব, "জীবনে কতজনের নির্ভরতা হতে পারলাম »


৮৮। সরলতা একটি অন্যতম মহৎ গুন, কিন্তু অতি সারল্য  অনেক সময় জীবনে ঘোর বিপদ ডেকে আনে । 


৮৯। এই পৃথিবীতে কোন কিছু আঁকড়ে ধরে মায়া বাড়ানোর নাম হচ্ছে "কষ্ট" । 

যে ভুবনে নিজেকেই আঁকড়ে রাখার কোন সুযোগ নেই ,সেই ভুবনে নিজের চারপাশের জীবন ও জড়কে নিজের ভাবা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয় ।


৯০। কারো সাফল্য,সুনাম ও অর্জন দেখে যদি আপনার মধ্যে হিংসা বা পরশ্রীকাতর অনুভূতির উদয় ঘটে তবে বুঝে নেবেন, আপনি জীবনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ মানুষ। 


৯১। মহৎ মানুষ অন্যায় করলে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। 

মনুষ্য হৃদয় বিবর্জিত বর্বর মানুষ অন্যায় করে অন্যায়কেই নানা যুক্তি ও পন্থায় সঠিক রূপে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে।


৯২। কোন মানুষ যখন পার্থিব জীবনের মোহে দূরদৃষ্টিহীনতায় সুন্দরকে অসুন্দর, আর অসুন্দরকে সুন্দর ভাবতে শুরু করে, তখন তাকে বোঝানোর চেষ্টা না করে বরং  সুন্দর ও অসুন্দকে আবিষ্কারের জন্য সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয়।সময় এমন ভাবে এই দুইয়ের প্রকৃত রূপ মেলে ধরবে যে পরবর্তী জীবনে সুন্দর অসুন্দ চিনতে আর ভুল হবে না। 


৯৩। কিছু মানুষ শুধু অন্যের ভুল খুঁজতে খুঁজতে নিজেকে শূন্য করে জীবন শেষ করে,

আর কিছু মানুষ ভুল করতে করতেই নিজেকে পূর্ণ করে জীবন শেষ করে। 

অন্যের ভুল খোঁজার অভ্যাস একটি চরম বদ গুন। 

নিজের ভুল খুঁজে নিজেকে শুধরে নতুন করে তৈরি করা একটি অন্যতম মহৎ গুন। 


৯৪। « অর্থ এক মহাশক্তি » 

যদি কোন মহৎ হৃদয়বান প্রাজ্ঞ মানুষ এই শক্তির অধিকারী হয় তবে ধংসস্তুপের উপর  সৃষ্টি শুরু হয়,এই সৃষ্টির সৌন্দর্য ছড়িয়ে পরে চারিধারে।

আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদী মূর্খ মানুষ যদি এই শক্তির ছোঁয়া পায় তবে সৃষ্টি  ধংসস্তুপে পরিণত হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। 


৯৫।যে মানুষগুলো অকারণেই  শত্রুতা করে 

তাদের প্রতি মনে কোন শত্রুতা রেখনা

অন্তরে শুভকামনা  যদি না জাগে

অশুভ কামনা করোনা

তবে ভালো যদি থাকতে চাও বন্ধু

বাড়াও দূরত্ব ,

            মাইল মাইল 

                           যোজন যোজনের   ………


৯৬।নিজের সুন্দর ঘর থাকলেই অন্যের ঘরে অতিথির মর্যাদার পাওয়া যায়,আর নিজের ঘর না থাকলে অন্যের ঘরে আশ্রিত হতে হয়। 


৯৭। মানুষের নেতিবাচক স্বভাবগুলোর মধ্যে বিশেষ একটি হল, যদি সে একবার  ধ্বংসের রাস্তায় পা বাড়ায় তবে শেষ সীমায় না পৌঁছান পর্যন্ত  সহজেই থামতে চায় না ।


৯৮। সুন্দর একটি ফুলবাগান তৈরি করার পর গাছগুলোতে ফুল ফোটানোর  জন্য অনেক পরিচর্যা ও অপেক্ষা করতে হয়। সেই বাগানের বেড়া যদি মজবুদ না হয় তবে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের যে পুষ্প কানন ও পুষ্প সুরভিত যে পরিমণ্ডল তা একটি দুষ্ট  গরুর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে নষ্ট হতে সময়  লাগবে কিছুক্ষণ ।  

বাগানের ভেতর সুন্দর করতে করতে  যদি বেড়ার স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তার  কথা ভুলে যাওয়া হয় তবে ফুল বাগানের অবস্থা এমন হওয়াই স্বাভাবিক। বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখতে  হলে বেড়ায় ঘুন পোকা ধরেছে কিনা তা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করাও জরুরি। 


৯৯। যে অর্জন আত্মাকে প্রশান্ত করে, আত্মতৃপ্ত করে সেটাই জীবনের প্রকৃত উন্নতি।

দৃশ্যমান যে উন্নতি  বা অর্জন অন্যের মানদণ্ডে উন্নতি বলে গণ্য হলেও সেই উন্নতি যদি নিজের দেহ মনকে অশান্তিতে নিপতিত করে,ভেতরে অপরাধবোধ জাগায়,জীবন বিপন্নের ঝুঁকিতে ফেলে সেটা মূলত উন্নতি নয়, সেটা নির্ঘাত জীবনের চরম অবনতি । 


১০০। আপনার কষ্টের ও অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন আরও অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হতে পারতো, কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে আপনি একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ জীবন পেয়ে গেছেন, এতটুকু প্রাপ্তি আপনি নিজেও কখনো প্রত্যাশা করতেন না আপনার পূর্বের অবস্থান ও অযোগ্যতার কারণে ।এখন আপনার জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির ঢেকুর তোলার কথা, দেহ মনে সুখ অনুভূতি বয়ে বেড়ানোর কথা, অথচ আপনার আগের অনিশ্চয়তায় ভরা কষ্টের জীবনের হতাশার চেয়ে এখন অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাস আরও দীর্ঘ হচ্ছে !   


জীবনের সুখ ও দুঃখের পার্থক্য বুঝতে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, যা আপনি অর্জন করতে পারেননি, তাই এই অপ্রাপ্তির কষ্ট ও হতাশা। অর্থ উপার্জন করেছেন,সুনাম অর্জন করেছেন, বড় ডিগ্রি অর্জন করেছেন কিন্তু জীবনের প্রশান্তি অর্জনের জ্ঞান এখনো আপনার কাছে ধরা দেয়নি।অন্যের দৃষ্টিতে  সফল মানুষ হলেও,ব্যক্তিজীবনে এই পৃথিবীর বড় অসহায়, হতভাগা, ব্যর্থ মানুষদের দলের একজন আপনি, তা কখনো ভেবে দেখেছেন কি ?


১০১। যে মানুষ  প্রথমে নিজের পরিচয় না দিয়ে বাপ,দাদা অথবা আত্মীয় স্বজনের পদ পদবীর পরিচয় সামনে এনে আভিজাত্য বা দম্ভ প্রকাশ করে , বুঝে নেবেন- আপনি একজন মহাব্যর্থ ও অকর্মা মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।


১০২। পৃথিবীর ধূর্ত মানুষগুলো নিজেদেরকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ভেবে থাকে। জ্ঞানীরা ধূর্তদের শঠতা বুঝতে পেরে নীরবে সাবধানতা অবলম্বন করে।এই নীরবতাকেই ধূর্তরা জ্ঞানীর নির্বুদ্ধিতা ভেবে থাকে। নীরবতার মধ্যেই যে জ্ঞানীর বিচক্ষণতা, ধূর্তদের গোবর মস্তিষ্কে এতোটুকু ধরার ক্ষমতা নেই বলেই, বারে বারে দূরদর্শী ও মহৎ মানুষদের সাথে চাতুরতার সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করে থাকে ।।


১০৩। বার্ধক্যে শারীরিক সৌন্দর্য হারানো প্রবীণ তার ফেলে আসা দিনের মহৎ কর্মের মধ্য দিয়ে অর্জিত ব্যক্তিত্বের দ্বারা তারুণ্য দীপ্ত যৌবনের দ্যুতি ছড়ানো তরুণের চেয়েও বেশী উজ্জ্বল হয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে । 


১০৪। যদি কেউ  ভুল করে তবে তাকে ক্ষমা করে ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সঠিক পথে ফেরার সহায়তা করেতে হয়। কিন্তু, কেউ যদি অন্যায় বা অপরাধ  করে তবে তাকে ক্ষমা করা উচিত নয় ,অন্যায় করা মানুষকে ক্ষমা করলে তার অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়ে, ফলে সে অন্যের জীবনের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে ওঠে ।অন্যায়কারী মানুষের একমাত্র শাস্তির সম্মুখীন হয়ে প্রায়শ্চিত্তের ভেতর দিয়েই সংশোধনের সুযোগ থাকে ।